বিশ্বের বুকে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে জীবন দেওয়ার নজির একমাত্র বাঙ্গালী জাতিরই রয়েছে। বাংলাভাষা প্রতিষ্ঠার এ দাবিতে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ২১ ফেব্রুয়ারী যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত আর সেই সাথে বিশ্বের বুকে স্থান করে নিয়েছে ভাষা ও ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও গর্বের প্রতীক এ শহীদ মিনার।
ভাষার এ মাসে কিছুটা রক্ষণাবেক্ষণ করলেও প্রতিনিয়তই চলছে শহীদ মিনার অবমাননা। নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এমনভাবে অবমাননা চোখে পড়ে প্রায় প্রতিদিনই। গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগের গুচ্ছ গুচ্ছ হয়ে শিক্ষার্থীরা জুতা পায়ে শহীদ মিনার বেদীতে বসে আড্ডা দিচ্ছেন।
আবার কেউ কেউ এটাকে শহীদ মিনার নয় বরং অবসরে বসে থাকার জন্য একটি স্থাপত্য বলে মনে করছেন। এ মিনারের প্রাঙ্গণে রয়েছে বিভিন্ন ফুসকা ও চটপটির দোকান। এছাড়াও শহীদ মিনারের আশেপাশে অবৈধভাবে বিভিন্ন চায়ের দোকান ছাড়াও দোকানীরা বিভিন্ন পসরা নিয়ে বসে করছেন বেচাকেনা। এসকল দোকান থেকে মাসিক ভাড়াও আদায় করছেন স্থানীয় কিছু পাতি নেতারা।
সরকারী তোলারাম কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জুতা পায়ে শহীদ মিনার বেদীতে আড্ডা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, আসলে আমাদের মনে ছিলো না এটা শহীদ মিনার। তাছাড়া আরো অনেক মানুষইতো এখানে জুতা পায়ে বসে আছে। মধ্যবয়সী এক নারীকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জুতা পায়ে বসে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ভুলে গিয়েছিলাম এটা শহীদ মিনার। অনেকে জুতা পায়ে বসে আছে তাই আমিও খেয়াল করিনি। মাতৃভাষা দিবস বাঙ্গালি জাতির জন্য গর্ব ও অহংকার।
এই দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও বাঙ্গালি জাতি শহীদ মিনারের চরমভাবে সম্মানহানী করছে। বিষয়টির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন নগরবাসী।


