শহরে মার্কেট নির্মাণের জন্য রেলওয়ের উচ্ছেদ
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:২৯ পিএম
রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের মার্কেট নির্মাণের জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরের সিরাজউদ্দোল্লা সড়কের পাশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে ৪৭ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এইসব জমির উপর অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া রেলওয়ের ভূমি সম্পত্তি বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল্লাহ জানান, সকাল দশটায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অর্ধশতাধিক কাঁচা-পাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ৪৭ হাজার ২০০ বর্গফুট জমি উদ্ধার করা হয়েছে।
এই জমিতে রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে মার্কেট নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অভিযান চলাকালীন সদর থানা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে সড়কের পাশে থাকা শ্রী শ্রী শিব ও শীতলা মায়ের মন্দিরের সামনের অংশে থাকা কিছু দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন। তিনি বলেন, এই মন্দির উচ্ছেদের বিষয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মন্দিরের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা মন্দিরের ক্ষেত্রে রয়েছে। ভাঙা হয়েছে মন্দিরের সামনের দোকানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এদিকে মন্দিরের একাংশ ভাঙা নিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও মন্দিরের লোকজনদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন এই জমিতে রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার বিরোধীতা করছেন সচেতন মহল। নারায়ণগঞ্জ ভূমি রক্ষা আন্দোলন পরিষদের ব্যানারে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করেছেন তারা। বিভিন্ন সামাজিক, নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা ওই মানববন্ধনে অংশ নেন।
তাদের ভাষ্য, ‘রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট নামে একটি হরিলুটের সংগঠন তৈরি করা হয়েছে। রেলওয়ের জায়গা মানে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের জায়গা নয়। রেলওয়ে নারায়ণগঞ্জের জায়গা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের মানুষের জায়গা। সুতরাং রেলওয়ের কর্মকর্তারা এইগুলো হরিলুট করে খাবে তা হতে পারে না।
অধিগ্রহণ আইনে বলা আছে, অধিগ্রহণ যেই কারণে করা হচ্ছে সেই কাজে যদি ভূমি কাজে না লাগে তাহলে যার কাছ থেকে ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে তাকে ফেরত দিতে হবে অথবা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদকে হস্তান্তর করতে হবে। মার্কেট করে রাম-সাম, যদু-মধু, গডফাদারদের খাওয়ার জন্য কখনই সমর্থন করবো না। আমরা এর প্রতিরোধ করবো।’


