# দুই বছরে সাত থানায় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো মাদক মামলা হয়নি
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় এখন হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। মাদক বিক্রেতাদের দিন দিন পোয়াবারো। বিগত দুই বছরে নারায়ণগঞ্জের ৭টি থানায় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো মাদক মামলা হয়নি। বিগত সময়ে তুলনায় কম সংখ্যক মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার হয়েছে।
মাদক উদ্ধারে তেমন কোনো অভিযান এই জেলায় নেই বল্লেই চলে। জেলার ৭টি থানা এলাকায় মাদক বিক্রেতারা যে যার মতো করে করে যাচ্ছে মাদকের কারবার। জেলাতে কোনো মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার নেই,তাই বলে নারায়ণগঞ্জ মাদকমুক্ত এ কথা মানতে নারাজ সূধী মহল।
নারায়ণগঞ্জ দেশের অন্য জেলা গুলোর চাইতে একটু বেশি গুরুত্ব বহন করে। এর কারন,এই জেলাতে রয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠান। শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন এলাকাকে কেন্দ্র করেই মাদক কেনা বেচা নির্ভর করে। নারায়ণগঞ্জের এমন কোনো থানা এলাকা নেই যেখানে বর্তমানে কোনো মাদক বিক্রি হয় না।
বিগত দিনে প্রতিদিনই জেলার থানাগুলোতে মাদকসহ মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতারের খবর পাওয়া যেতো। কিন্তু এখন সে রকম খবর আর তেমন পাওয়া যায় না। মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে এলাকা ভিত্তিক যে অভিযান আগে পরিচালনা করা হতো সে অভিযান এখন আর নেই। ফলে মাদক বিক্রেতারা এখন নির্বিঘ্নেই তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ।
এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদরের এক ব্যক্তি বলেন,ওসি প্রদীপ কান্ডের পর দেশের অন্যান্ন জেলার মতো নারায়ণগঞ্জেও পুলিশের তল্লাশী চৌকী উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। আর এ সুযোগে নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিনই বিভিন্ন পথে প্রবেশ করছে ফেন্সিডিল,ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক। সাম্প্রতিক সময়ে থানা এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নকে বিট পুলিশিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে বিট পুলিরশের দায়িত্বরত অফিসাররাও নারায়ণগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন না বা মাদক নির্মূলে তেমন কার্যকর ভুমিকা রাখছেন না ।
সূত্র আরো জানায়, জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন যেভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করার কথা ছিলো সকারের এই সংস্থাটিরও উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি। নারায়ণগঞ্জের মাদকের বড় চালানগুলোই আশে কুমিল্লা ও চট্রগাম থেকে আসে। কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরাসরি বিভিন্ন বাহনে করে আসছে ফেন্সিডিলের চালান। অপরদিকে, চট্রগাম থেকেও বিভিন্ন রুটে প্রবেশ করছে ইয়াবা। এছাড়াও চোলাই মদের ব্যবসাও মাদক বিক্রেতারা করে যাচ্ছে নির্ভয়ে।
সদর,ফতুল্লা,সিদ্ধিরগঞ্জ,সোনারগাঁয়ে পূর্বের মতোই মাদক বিক্রি চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোনারগাঁয়ে ৪২ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা আলমগীর হোসেনকে আটক করেছিলো সোনারগাঁ থানা পুলিশ। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, মাদক বিক্রেতা নিজেই পুলিশকে বহনকারী গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে সংবাদ সম্মেলন করার পর আসামী আলমগীরে নিয়ে পুলিশ সদস্যরা সোনারগাঁয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
সুযোগ বুঝে মাদক বিক্রেতা আলমগীর পুলিশবাহী তার গাড়িটি সড়কের ঢালে ফেলে সে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। এ ঘটনায় পুলিশের উপ পরিদর্শক কাজী সালেহ আহম্মেদ ও এসএম শরিফুল ইসলাম মৃত্যু বরণ করে। গত কয়েকদিন আগে ফতুল্লার দক্ষিণ কায়েমপুর এলাকা থেকে পুলিশ ৫’শ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে।
এ দুটো ঘটনা বাদে নারায়ণগঞ্জে মাদক উদ্ধারে জেলা পুলিশের তেমন কোনো সাফল্য নেই। চাঁনমারী বস্তি উচ্ছেদ করা হলেও যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের এ্যাকশন নিতে দেখা যায়নি।
জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বিভিন্ন সভা সেমিনারে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন বলে দাবী করেন বরাবরের মতোই। সূত্র আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের এমন কোনো থানা এলাকা নেই যেখানে মাদক বিক্রি হচ্ছে না। কিন্তু অদৃশ্য কারণে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না। ভাবটা এমন জেনো এই জেলা মাদক মুক্ত হয়ে গেছে।


