Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

রেলওয়ের কল্যাণ : জনতার ভোগান্তি

Icon

করীম রেজা

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:১৬ পিএম

রেলওয়ের কল্যাণ : জনতার ভোগান্তি
Swapno

গতকাল রেলওয়ে কল্যাণ ট্রাস্টের নামে ভূমি লুন্ঠনের বিরুদ্ধে নারয়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটি এক প্রতিবাদী মানব বন্ধনের আয়োজন করে। এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সমর্থন জানিয়েছে শহরের বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক,রাজনৈতিক ও পেশাজীবি সংগঠন। স্থানীয় শীতলা মন্দিরের প্রতিনিধিও সেখানে ছিল। এর আগে গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি শহরে মার্কেট নির্মাণের জন্য রেলওয়ে উচ্ছেদ এই মর্মে দৈনিক যুগের চিন্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করেছে ।

 

খবর থেকে জানা যায়, তথাকথিত কল্যাণ ট্রাস্টের নামে রেলওয়ে তথা জনগণের ভূমি লুটপাটের পায়তারা চলছে। মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদ জানিয়ে মানব বন্ধন করে ১৪ই ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ‘নারায়ণগঞ্জ ভূমিরক্ষা আন্দোলন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। নারায়ণগঞ্জের মত একটি শহরে কতগুলো মার্কেট দরকার? চাষাড়া থেকে ডিআইটি, কালির বাজার থেকে টানবাজার সবটাই ত মার্কেট।

 

রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত দখল করে আছে দোকানদারি। আরও আছে ভ্যানগাড়িতে বেচাবিক্রি। রিক্সা দূরের কথা পায়ে হাঁটাও অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব। তারপর আরও মার্কেট কার স্বার্থে ? মার্কেটের অবস্থান কোন জায়গায় হলে শহরবাসী মার্কেটের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে সক্ষম হবে? এছাড়াও সাধারণ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যখন নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনের উন্নয়নের কাজ চলমান, তখন রাতারাতি একটি কল্যাণ ট্রাস্ট নামের প্রতিষ্ঠান গজিয়ে ওঠা, সেই প্রতিষ্ঠানের নামে মাননীয় আদালতের ডিক্রি নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা, ঘোষণা দিয়ে মার্কেটের জন্য জায়গা খালি করা, সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এর পেছনে কোনরকম কল্যাণ জড়িত আছে বা কল্যাণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে পরিষ্কার নয়।

 

নারায়ণগঞ্জ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী রেল স্টেশন। নানা সময়ে এই স্টেশনটি বন্ধ করার পাঁয়তারা চলেছে। উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। মানুষের সুবিধার্থে যাত্রী বহনের জন্য ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন ডাবল রেললাইন করার উন্নয়ন প্রকল্প চলমান, এই সময়ে মার্কেটের প্রকল্প গ্রহণ অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক। মার্কেটের নামে যে সমস্ত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে, সে সব ত দীর্ঘদিন যাবত রেলওয়ের এই নিজস্ব জমিতে বিদ্যমান ছিল।

 

যদিও কিছুদিন পর পর এক ধরনের উচ্ছেদ নামের নাটক দেখত সাধারণ শহরবাসী। একদিন দেখা যেত অনেক জায়গা খালি আবার কদিন পর একে একে দেখা যেত আগের অবস্থায় ফিরে গেছে সব। মহরবাসীর এই নাটক চোখ সওয়া। রেলের জায়গা দেখাশুনার দায়িত্ব অবশ্যই রেল কর্তৃপক্ষের। এতদিন রেলের জায়গা রেলের প্রয়োজনে ব্যবহার হলো না। স্থায়ী অস্থায়ী দোকানপাট আবাসন ইত্যাদির মাধ্যমে এক শ্রেণীর লোকজন এখান থেকে অবৈধভাবে টাকা রোজগার করছিল।

 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তা জানতো, জেনেও না জানার ভান করে এতদিন টু শব্দও করে নাই। এখন যখন উন্নয়নের কাজ এগিয়ে চলেছে সেই সময়ে একটি সংগঠনের নামে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সেখানে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এমন একটা জায়গায় নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন এর অবস্থান যেখানে রয়েছে শহরের অন্যতম মনোহারী প্রসাধনী দ্রব্যের পাইকারি বাজার ফলপট্টি। তার পাশে আছে ফল সবজি মাছ প্রভৃতির আড়ৎ, বৃহত্তম পাইকারি ও খুচরা দ্বিগুবাবুর বাজার ।

 

পাশে আছে প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।এর উত্তরে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল । আরেকটিু উত্তরে প্রাচীন, বৃহৎ ব্যস্ততম কালির বাজার । যেখানে নিত্যদিন ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট লেগে থাকে, ঘটে ছোটবড় দূর্ঘটনা। মনের থাকার কথা কয়েক সপ্তাহ আগে রেল এবং বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ টি তাজা প্রাণের নির্মম মৃত্যুর ঘটনা। অত্র এলাকার ব্যস্ত সড়কে ক্রেতা বিক্রেতার আসা যাওয়া, পণ্যবাহী ছোট-বড় গাড়ির চলাচল, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ চলাচলকারি বাস-ট্রাকের আসা যাওয়া।

 

এই রেলস্টেশনের অদূরে রয়েছে বৃহত্তম একটি মার্কেট। মার্কেটের দক্ষিণ পাশেই আছে সুতা রং ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র টানবাজার। স্টেশনের পূর্বপাশে নদী বন্দর,খেয়াঘাট, লঞ্চ টার্মিনাল। সীমানা দেয়াল ঘেঁষে আছে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। এই স্থাপনাগুলির শতখানেক গজের মধ্যে যদি আরেকটি মার্কেট হয় তাহলে যানজটের পরিমাণ কতগুণ বৃদ্ধি পাবে তা বলার জন্য বিজ্ঞানীর দরকার হয় না।

 

নাসিক নিজস্ব জমিতে অনেকগুলো মার্কেট তৈরি করেছে, আরও কিছু চলমান। এমতাবস্থায় কে বলল যে, এই শহরে আরও মার্কেটের দরকার। মূলত এটা একটা টাকা লুটের পায়তারা ছাড়া কিছুই না। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সংগঠন এখানে মার্কেট করার বিরোধিতা করে আসছে, প্রতিবাদ করছে। কোনোভাবেই এই জমি তথাকথিত কল্যাণ ট্রাস্টকে বরাদ্দ দেয়া যায় না, বাংলাদেশের প্রচলিত জমি অধিগ্রহণ আইনের বিধান বলে।

 

রেলওয়ের কায়েমি গোষ্ঠী যারা এতদিন ছোটখাটো দোকান এবং বসবাসের জন্য ঝুপড়ি ঘর ভাড়া দিয়ে আয় করত তারা এখন সুযোগ বুঝে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য আদালতের সহায়তায় তথাকথিত কল্যাণ ট্রাস্টের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। রেলওয়ে যে কোনও জায়গা যে কাউকে দিয়ে দিতে পারে, এমন নজির আমরা ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কাছ থেকে জেনেছি। নারায়ণগঞ্জেও তা ঘটতে বাঁধা কি! রেলওয়ে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নামেই।

 

এখানে মার্কেট স্থাপিত হলে সেবার পরিবর্তে যন্ত্রণা বাড়বে ও তা স্থায়ী রূপ পাবে। কাজেই এই কুচক্রী মহলের লোভ ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সারা নারায়ণগঞ্জবাসীকে রুখে দাঁড়াতে হবে। লাগাতার আন্দোলন, প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে আয়োজন শুরুতেই বিনাশ করতে হবে, এর বিকল্প নেই। ত না হলে ভবিষ্যতে জটিলতা বাড়বে। আশা করা যায় নাসিকের স্থানীয় কাউন্সিলরগণ উদ্যোগী হবেন।

 

মেয়র মহোদয় জনগণের কথা বিবেচনা করে যথাযথ উদ্যোগ নেবেন। দ্বিগু বাবুর বাজারের ভেতরের রাস্তা উদ্ধারে মেয়র মহোদয়ের ভূমিকার কথা এখনও শহরবাসীর গর্বিত আলোচনার বিষয়। মেয়রের সঙ্গে প্রশাসনও মার্কেট নির্মাণ বন্ধ করে জনস্বার্থে রেলওয়ের ভূমি রক্ষায় তথা নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশনের ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন