নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিকদের ভয় কাটছেনা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:০২ পিএম
সমাজে নানা কারণে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে পাওয়ার জন্য ব্যগ্রতা, আগে পাওয়ার জন্য অশুভ প্রতিযোগিতা, না পাওয়ার যন্ত্রনা, পেয়ে হারানোর মনোবেদনা ইত্যাদি। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের চেতনার মধ্যেই রয়েছে অপরাধ প্রবণতা। শিশুও অপরাধ করে। তবে, সে বোঝে না অপরাধ কাকে বলে।
না বুঝে করা অপরাধকে অপরাধ হিসেবে গন্য করা হয় না। এজন্য শিশু ও পাগলের অপরাধকে সমাজে ক্ষমার চোখে দেখা হয়। তবে, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের অপরাধকে ক্ষমা করা হয় না। বিচার করে তার অপরাধের শাস্তি প্রদান করা হয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অপরাধীর বসবাস মানুষের মস্তিষ্কে।তাই অত্যন্ত সুসভ্য দেশ ও সমাজেও অপরাধ সংঘটিত হয় এবং শত চেষ্টা করেও অপরাধকে শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায় না।
তাই প্রতিটি সভ্য দেশ ও সমাজে শক্তিশালী ও ক্ষমতাশালী মানুষের অপরাধ প্রবণতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। অপরাধ হবেই ধরে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হচ্ছে, অপরাধ সংগঠনের পর অপরাধীকে দ্রুত ধরে ফেলা এবং তাকে বিচারের জন্য আদালতের কাছে সোপোর্দ করা। সমাজে চুরি, ডাকাতি, খুন ইত্যাদি হবেই এবং এসব ঘটার পর মানুষের মাঝে ভয় ও শঙ্কা সৃষ্টি হবেই।
যে কোন অপরাধ সংগঠনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক তৎপর হলে এবং অপরাধী গ্রেফতার হলে মানুষ বেঁচে থাকার আস্থা ও সাহস ফিরে পায়। আর অপরাধী ধরা না পড়লে বা মুক্ত থাকলে মানুষের ভয় ও শঙ্কা আরও চেপে বসে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি দৈনিক পত্রিকায় সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকি প্রদানের পর শহরের দুই ডজন পত্রিকা অফিস এবং সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের মাঝে এক অযাচিত ভয় ও শঙ্কা নেমে আসে।
তবে, প্রশাসন এ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক তৎপর হয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়ার পর সাংবাদিকদের ভয় তাৎক্ষণিক কিছুটা কমে যায়। কিন্তু এ হামলার মাষ্টরমাইন্ডসহ এজাহারভূক্ত মূল আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় এবং মূল আসামী পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এ হামলার সঙ্গে সে জড়িত নয় বলে সাফাই গাওয়ার পর আবার সাংবাদিকদের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা বৃদ্ধি পায়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারী এ হামলার পর সংশ্লিষ্ট পত্রিকা সম্পাদক ১৯ জন সন্ত্রাসীর নামোল্লেখ সহ অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করলেও এর মধ্যে এজাহারভূক্ত আসামী মাত্র দু’জন। এদিকে, ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত ৭ জন আসামী জামিনে মুক্তি পেয়েছে। এসব ঘটনা সাংবাদিকদের মধ্যে ভয় ও শঙ্কা বাড়িয়েছে।


