প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে, উন্নয়নে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে : এসপি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২২, ০৫:২৮ পিএম
জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেছেন, এই জেলায় ৭০ লক্ষ লোকের বাস, আরও প্রায় ৩০ লক্ষ লোক এখানে ভাসমান ভাবে থাকেন। প্রায় এক কোটি লোক এই নারায়ণগঞ্জের ওপর নির্ভর করে। সেখানে আমাদের পুলিশের জনবল আছে ১৬'শ। যদি সত্তর লক্ষ জনগণ আমরা ধরি আমরা এই ১৬'শ পুলিশ চেষ্টা করি তাদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আমাদের একজন পুলিশ সদস্য ৪ হাজার ৪শত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। এটা আমি মনে করি পৃথিবীর কোন দেশের সম্ভব নয়। পৃথিবীর কোন দেশে একজন পুলিশ প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষের নিরাপত্তা দেয় এটা নেই। সেটা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ করে যাচ্ছে এবং আমি মনে করি তারা সফলতাও পাচ্ছে।
সেটা আপনাদের সকলের সহযোগিতার কারণে। মঙ্গলবার (১ মার্চ) সকালে জেলা পুলিশ লাইন্সে পুলিশ মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন তিনি। এসপি বলেন, আমাদের এ জেলা মাত্র ৮৪ জন পুলিশ সদস্য ট্রাফিক বিভাগ দেখেন। আমি যদি এখনাে অটো, সিএনজি, ইজিবাইক, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন মিলিয়ে প্রায় এক লক্ষ যানবাহন এখানে আছে।
এদের সুশৃঙ্খল রাখতে মাত্র ৮৪ জন পুলিশ সদস্য কাজ করে। প্রতি ১২শ যানবাহনে একজন পুলিশ। ১২ শ যানবাহনকে একজন পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করবেন এটা সম্ভব নয়৷ তারপরও নারায়ণগঞ্জবাসী যতটুকু চলাফেরা করতে পারছেন সেটা আমরা সকলের সহযেগীতার কারণেই করতে পারছি। তাই আমি নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
৬৪ জেলায় অনুষ্ঠান হচ্ছে, তবে আমাদের অনুষ্ঠান বিশেষ। কারন আমাদের অনুষ্ঠানে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং একাত্তরের সেই প্রত্যক্ষদর্শী উপস্থিত আছেন। তিনি আমাদের সেই সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আমরা সকলে আপনার আসায় উৎসাহিত হচ্ছি। " তিনি আরও বলেন, একাত্তরে যেভাবে বাংলাদেশ পুলিশ জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ঠিক বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে, উন্নয়নে বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতের তান্ডব৷ ২০১৪ সালে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে যারা চ্যালেঞ্জ করেছিল তাদের কাছ থেকে দেশকে নিয়ে আসার জন্য ২০১৪ সালের সেই নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছিল৷ ২০১৫ সালে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র যেভাবে জানমালে অগ্নিসংযোগ করেছিল আমার ট্রাফিক পুলিশের গাড়িতে সেদিন তারা আগুন দিয়ে আমার পুলিশ সদস্যকে মেরে ফেলেছিল বাংলামোটরে। মৎসভবনে পুলিশ ডিউটি করে আসার সময় তারা পেট্রোল বোমা দিয়েছিল।
পুলিশ তাদের মোকাবিলা করেছে এবং দেশকে রক্ষা করেছিল করোনার সময় যখন মা সন্তানকে ফেলে চলে গিয়েছিল। সন্তান বাবা মাকে ফেলে চলে গিয়েছিল। সেখানে জীবনপর ঝুকি নিয়ে পুলিশ বুক চিতিয়ে মানুষকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছিল। এ নারায়ণগঞ্জের মানুষকে করেনা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের সাথে পুলিশ রাতদিন কাজ করেছে।


