Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

টাকা আর স্বর্ণালঙ্কারের জন্যই মা-মেয়েকে খুন  

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২২, ০৪:৩৩ পিএম

টাকা আর স্বর্ণালঙ্কারের জন্যই মা-মেয়েকে খুন  
Swapno

# জোবায়ের স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র
 # জোবায়ারের তিন দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে আদালত

 

নগরীর নিতাইগঞ্জে মা ও অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে খুনের ঘটনায়  শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার এজহারে উল্লেখ্য করা হয় টাকার জন্য নগরীর পাইকপাড়া এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে আল জোবায়ের স্বপ্নীল (২৬) নিহত মা মেয়েকে হত্যা করেছ। যা আসামী পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকারোক্তি প্রদান করে বলে জানান পুলিশ।

 

নারায়ণগঞ্জ নিতাইগঞ্জের ডালপট্টি এলাকায় মা- মেয়ের খুনের ঘটনায় রাম প্রসাদ চক্রবর্তী বাদী হয়ে এই ঘটনায় মামলা করেছেন। যার মামলা নম্বর ০৫। ৩৯৪/৩০২  ধারা মতে পেনাল কোর্ড মামলা রুজু করা হয়। মামলায় পাইকপাড়া এলাকার আলাউদ্দিনের একমাত্র সন্তান গ্রেপ্তাকৃত আল জুবায়ের স্বপ্নীলকে একমাত্র আসামী করা হয়েছে। পরে এই হত্যার মূল কারণ উৎঘাটনের আরো বিস্তারিত তথ্য জানার বুধাবার দুপুরে আসামী জোবায়েরের বিরুদ্ধে পুলিশ ১০ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে তোলেন।

 

পরে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূর মোহসীনের আদালতে শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে অবসাদগ্রস্ত জীবনে টাকা ও স্বর্ণের জন্যই তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।


১ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় থেকে ৩ টায় নিতাইগঞ্জ ডালপট্টি এলাকায় স্বপন দাসের ছয়তলার ফ্ল্যাটে ঢুকে মা রুমা চক্রবর্তী ও ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঋতু ভট্টচার্য্য ধারালো ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে খুন করে জোবায়ের।


গ্রেপ্তার জোবায়ের পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, ওই পরিবারের সঙ্গে তার কোন পূর্ব পরিচয় ছিল না। তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। করোনার কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার পর থেকে তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। টাকার জন্যই তিনি ওই ফ্ল্যাটে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।


এদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহত রুমা চক্রবর্তি রামপ্রসাদ চক্রবর্তির স্ত্রী হন। সেই সাথে ঋতু ভট্রচার্য তার মেয়ে হয়। রামপ্রসাদ ‘মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্সে’ চাকরি করেন।মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় বাড়ির মালিকের ভাগ্নে জানান তাদের ফ্ল্যাট যে ভবনে, সেটির নিচে অনেক লোক জড়ো হয়েছে। তিনি গিয়ে দেখেন, ভবনের ফটক বাইরে থেকে তালা দিয়ে রেখেছে।

 

ভেতর থেকে তার ছেলে হৃদয়ের স্ত্রী ফারজানা কান্নাকাটি করছে। ফারজানা জানান তাদের ফ্ল্যাটে ঢুকে এক যুবক রুমা ও ঋতুকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়েছে। তাকে হত্যার জন্য রান্নাঘরে বটি হাতে নেন হামলাকারী জোবায়ের। তবে ফারজানা কৌশলে সেই বটি ছিনিয়ে নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে নিচে নামেন। হামলাকারী যুবক তাকে ধাওয়া করে নিচে নামে, তবে ততক্ষণে ভবনের অন্য লোকজন এসব টের পেয়ে বাইরে থেকে ফটক আটকে দেয়। ওই যুবক ফের ৬ তলার ফ্ল্যাটটিতে ফিরে যায়।

 

ফারজানা থেকে শুনে তিনি স্ত্রী রুমার মোবাইল ফোনে কল করলে তা রিসিভ করেন ওই যুবক। তখন হত্যাকারি জোবায়ের টাকা-গয়না কোথায় আছে তা জানতে চান। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। ততক্ষণে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। পুলিশসহ তিনি ফ্ল্যাটে গিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। সেই সাথে নিহত মা মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন সদর থানা পুলিশ।


মামালায় আরও উল্লেখ্য করা হয়, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৪ টি ধারালো ছুড়ি, ২ জোড়া হ্যান্ড গ্ল্যাভস, বটি, এবং তার ব্যাগ থেকে ৬৯ হাজার টাকা মূল্যের গলার চেইন ও কানের দুল উদ্ধার করে। নিহত রুমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুড়ি দিয়ে ৬টি আঘাত করে পেটের ভূড়ি পর্যন্ত বের করে। অন্ত:সত্তা ঋতু ভট্রচার্য’র শরীরে ৩টি ছুড়ি পাওয়া যায়। আর হত্যাকারীর হাতে হ্যন্ডা গ্ল্যাভস পরে থাকা অবস্থায় তার হাত একটি ছুঁড়ি উদ্ধার করা হয়।


জোবায়ের শহরের পাইকপাড়াপুল এলাকার লবণ ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি জানান, তার ছেলে ঢাকা স্টামফোর্ড বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি লেখা পড়া করেন। তার আগে ২০১৩ সনে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি শেষে করেন।

 

জোবায়ের  নারায়ণগঞ্জ মাসদাইর ঈদগাহ সংলগ্ন আদর্শ স্কুলে প্রাথমিক শেষ করেন। একই সাথে ওই স্কুল থেকে ২০১১ সনে এইচএসসি শেষ করে জোবায়ের। আলাউদ্দিন জানান, এক দেড় মাস ধরে আমার ছেলে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। সে ফোনে অনেক বেশি কথা বলত। কার সাথে কথা বলত তা জানতাম না। ঘটনার দিন তার ছেলে বাসা থেকে ২ টার সময় বেন হন।


মঙ্গলবার রাতে তাঁকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমির খসরু বলেন, ‘জুবায়েরকে আমরা ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। সে স্বীকার করেছে তাঁর নিজের চলার জন্য টাকার দরকার। এ কারণে বড় বাড়িটি তিনি টার্গেট করেন। ছয়তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে কলবেল বাজিয়েছিলেন তিনি।

 

কিন্তু ওই ফ্ল্যাটের কেউ দরজা খোলেননি। তখন পাশের রামপ্রসাদ চক্রবর্তীর ফ্ল্যাটে কলিংবেল চাপেন তিনি। তখন ওই ফ্ল্যাটের দরজা খুললে ভেতরে প্রবেশ করে রুমা চক্রবর্তীর গলা চেপে ধরেন জোবায়ের। এ সময় রুমার গলার মালা তিনি ছিনিয়ে নেন। এরপর ছুরি মেরে রুমাকে হত্যা করেন। রুমার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা ঋতু চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরি মেরে হত্যা করে।’


নিহত রুমা চক্রবর্তীর স্বামী রামপ্রসাদ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘জুবায়েরকে তিনি চিনেন না। স্ত্রী ও কন্যাকে তিনি কেন খুন করেছেন সেই সম্পর্কেও কোনো ধারণা দিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারি নাই এইরকম কিছু আমার পরিবারের সঙ্গে হবে। আমি গরিব মানুষ। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নাই। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করি।

 

তার দুই সন্তান ঋতু ও হৃদয় চক্রবর্তী। হৃদয় নগরীর মাসদাইর এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সম্প্রতি তিনি ফারজানা নামের এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর হৃদয় ধর্মান্তরিতও হয়েছেন।

 

ঘটনার সময় তার পুত্রবধূ ফারজানা ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন। তার চিৎকারেই স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পাইকপাড়া এলাকাবাসী জানায়, জোবায়ের এমন কাণ্ড করতে পারে এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না তাদের।’
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন