চাকুরীচ্যুত হওয়ার পরও ১৬ বছর সরকারি বেতন ভাতা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২২, ০৬:৫৭ পিএম
ঐতিহ্যবাহী নারায়নগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজে অনিয়মের শেষ নেই। একজন শিক্ষক ভুয়া সনদপত্র ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে চাকুরিচ্যুত করার পরও ১৬ বছর যাবৎ তিনি সরকারী বেতন ভাতা এবং স্কুল থেকে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত সে স্কুলে বহাল রয়েছেন শিক্ষক হিসেবে।
মাহাবুবুর রহমান নামের এই শিক্ষকের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জেনেও প্রভাবশালী মহলের চাপে মুখ খুলছেন না। এনিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই শিক্ষকের অবৈধ আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের দাবী জানিয়েছে। ইতিপুর্বে তার মামা আমিনুল ইসলাম খন্দকার দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের দায়ে চাকুরীচ্যুত হয়ে কারাবরণ করেছেন।
নারায়নগঞ্জ হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির একজন সাবেক সদস্য জানান, ২০০৫ সালে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষক মাহাবুবুর রহমানের ভুয়া সনদ এবং দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে ব্যর্থতা সহ ৫টি অভিযোগ তদন্ত করার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য রমজানুল রশিদকে আহবায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ঐ কমিটির কাছে মাহাবুবুর রহমানের জবাব সন্তোষ জনক নয় বিধায় তাকে চাকুরীচ্যুত করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলম স্বাক্ষরিত পত্রে মাহাবুবুর রহমানকে জানিয়ে দেয়া হয়। এর আগে তার মামা খন্দকার আমিনুল ইসলামকে স্কুলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাকুরীচ্যুত করে জেলে পাঠানো হয়।
কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তার চাকুরীচ্যুতির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়। চাকুরীচ্যুতির পর সে সময় ম্যানেজিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মরহুম মনিরুজ্জামাম মিলুর বাসায় একাধিক অনির্ধারিত সভায় প্রভাবশালী মহলের তদবিরে তাকে চাকুরী চালিয়ে যেতে মৌখিক ভাবে নির্দেশ দেয়ার পর তিনি এখন পর্যন্ত অর্থাৎ ১৬ বছর যাবত চাকুরী করছেন।
ঐ সময়কালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হামিদা বেগম জানান মাহাবুবুর রহমানকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। ২০০৮ সালের পট পরিবর্তনের পর মাহাবুবুর রহমান সুচতুর ভাবে পারসোনাল এবং অফিসিয়াল ফাইল থেকে সকল কাগজ পত্র সরিয়ে ফেলেন। বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগের পর তারা রেজুলেশন খাতায় সিদ্ধান্ত দেখে নিশ্চিত হয়েছেন ২০০৫ সালে মাহবুবুর রহমানকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে। তিনি কিভাবে বেতন ভাতা গ্রহণ করছেন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য সরকার আলম বলেন মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানান আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। অন্য সদস্য ওয়াহিদ সাদত বাবু বলেন ইতিমধ্যে মাহবুবুর রহমানের প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা সহ মোট সাত লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে এবং তার প্রভিডেন্ট ফান্ড একাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে গভর্নিং বডির অপর সদস্য আবদুস সালাম বলেন, সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগের পর আমরা নিজ উদ্যোগে তদন্ত করছি। তিনি জানান সম্ভবতঃ শিক্ষা বোর্ড থেকেও মাহবুবুর রহমানের চাকুরীচ্যুতির পত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে স্কুলের তিনজন সাবেক প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়টি তাদের দায়িত্বকালীন সময়ের আগের ঘটনা। তাই এটি নতুন ভাবে তদন্ত করে দেখা যেতে পারে। এ ব্যাপারে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক এবং গভর্নিং বডির সভাপতি চন্দন শীল’কে একাধিকবার ফোন করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেনি।


