মানুষ জল্লাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে জানে : রফিউর রাব্বি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২২, ০৫:২৮ পিএম
# তারা চায় চাঁদাবাজি, রাহাজানি, মাদকব্যবসা, ছিনতাই এসবের বিরুদ্ধে মানুষ যেন কথা না বলে
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বী বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মানুষ জল্লাদ চিনে, এই জল্লাদের হাত থেকে কীভাবে মুক্তি পেতে হয় তাও তারা জানে। সুতরাং এসব বক্তব্য শিশুদের বলেও লাভ হবে না।’ গতকাল সোমবার (৭ মার্চ) শহরের শেখ রাসেল নগর পার্কের মুক্তমঞ্চে ত্বকী হতার ৯ বছর উপলক্ষে শিশু সমাবেশে তিনি এসব কথা বলে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে শুভবুদ্ধি ও শুভচিন্তার মানুষগুলোর টুটি চেপে ধরে।
তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। নারায়ণগঞ্জে এর বিভৎস রূপটি হচ্ছে ওসমান পরিবার। তারা নারায়ণগঞ্জের মানুষের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে দিয়ে ভয়ের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা লাশের পর লাশ ফালায় এজন্য যে তাদের যেন মানুষ ভয় পায়। তাদের চাঁদাবাজি, রাহাজানি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এসবের বিরুদ্ধে মানুষ যেন কথা না বলে।
এখনও মানুষদের বোকা মনে করে। তারা নাকি ডাক দিলেই লাখ লাখ মানুষ দুই তিন ঘন্টায় হাজির হয়ে যায়। তারা ভাবে নারায়ণগঞ্জের মানুষ বোধহয় শিশু। এখানকার মানুষ জল্লাদ চিনে, এই জল্লাদের হাত থেকে কীভাবে মুক্তি পেতে হয় তাও তারা জানে। সুতরাং এসব বক্তব্য শিশুদের বলেও লাভ হবে না। এখানে যখন নতুন এসপি-ডিসি আসেন তখন তাদের সম্মোহিত করার জন্য এসব প্রলাপ আওড়াতে থাকেন।
সেই দিন আর নাই।’ রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের শিশুরা ছবি আঁকা, লেখালেখি, আবৃতি, গানের মধ্য দিয়ে দেশের যোগ্য নাগরিক হয়ে উঠুক। সত্যকে সত্য বলতে শিখুক। সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলতে শিখুক। নির্ভয়ে অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখুক। কারণ আমরা যেই সময় অতিক্রম করছি তা অত্যন্ত দুর্বিষহ।
আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা নেই, বেঁচে থাকার নিরাপত্তা নেই। আমাদের মৌলিক চাহিদা পূরণেরও কোন নিরাপত্তা আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাইনা। সব মিলিয়ে এক ব্যর্থ রাষ্ট্রে আমরা বসবাস করছি। এমন অবস্থায় দেশে যোগ্য নাগরিক তৈরী করা, সাহসী মানুষ তৈরি করা অনেক বেশী জরুরি। তারা আমাদের শোষনহীন, অসাম্প্রদায়িক এবং একাত্তরের আকাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র আমাদের উপহার দিতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে আজ ৯ বছর। এই হত্যার সাথে যারা জড়িত তারা রাষ্ট্র ক্ষমতারই একটি অংশ। যার ফলে এটি আমাদের কারোরই বুঝতে বাকি থাকে না, ৯ বছরে বিচার না হওয়ার কারণ কী? আমরা রাষ্ট্রের এই অমানবিক চরিত্র কখনই আশা করি না। এই জন্য দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি।
আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, কিন্তু যেই সমান অধিকারের যেই বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ছিলো তা আমরা পূরণ করতে পারিনি। তাই ৫১ বছরে এসেও বলতে হয় আমাদের সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, শিল্পী জাহিদ মুস্তাফা, অশোক কর্মকার, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক মাহবুবুর মাসুম, সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ খেলাঘর আসরের আহ্বায়ক রথীন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সামছুল আলম আজাদ প্রমুখ।


