লাশের রাজনীতি ওসমান পরিবারই শুরু করেছে : রফিউর রাব্বি
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২২, ০৫:৫৪ পিএম
# আমরা অবশ্যই এদের বিতাড়িত করবো
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, দযে ঘাতক পরিবারটি ত্বকীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারা নারায়ণগঞ্জে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি করে। তারা কখনই সুস্থ ধারার রাজনীতি করেনি। তাদের বাপ, দাদা পূর্বপুরুষরাও সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ছিল না। নারায়ণগঞ্জে লাশের রাজনীতি ওসমান পরিবারই শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় শহরের ৫নম্বর গুদারা ঘাটে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে ত্বকী হতার ৯ বছর উপলক্ষে আলোর ভাসান ও আলোচনা সভা এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘৭৩ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকনকে হত্যা করেছে। তারপর বহু লাশ তারা শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলেছে। বহু লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে। যেগুলো অহরহ আলোচনা হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমে প্রচার হয়েছে।
আশিক, চঞ্চল, সাতখুনের লাশ শীতলক্ষ্যা থেকেই উদ্ধার হয়েছিল। আমাদের দেশে অনেক হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে। ত্বকী হত্যার পর সংঘটিত সাতখুন হত্যার বিচার নিম্ন ও উচ্চ আদালতে সংঘটিত হয়েছে। এরপর আরও চাঞ্চল্যকর কিছু হত্যার বিচার সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে সরকার যেগুলো প্রয়োজন মনে করে সে বিচারগুলো সম্পন্ন করে। আর যে বিচারগুল বন্ধ রাখার প্রয়োজন মনে করে সেগুলো বন্ধ রাখে।’ রফিউর রাব্বি বলেন, ‘৯ বছর ধরে আমরা দেশ ও দেশের বাইরে থেকে ত্বকী হত্যার বিচার চেয়ে আসছি। কিন্তু এ বিচার হয়নি।
কেন হয়নি তা আমরা জানি। হত্যাকান্ডের বছর না যেতেই তদন্তকারী সংস্থা কারা ঘাতক, কীভাবে হত্যা করেছে তা প্রকাশ করেছেন। র্যাব জানিয়েছে, ওসমান পরিবারের লোকজন তাদেরই টর্চার সেলে নির্যাতন করে ত্বকীকে হত্যা করেছে। কারা ঘাতক তা প্রকাশ হবার কারণেই ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ রয়েছে তা আমরা বুঝতে পারছি।
তিনি বলেন, ‘তৈরি হওয়া চার্জশিট আদালতে অচিরেই দাখিল করার ঘোষণা দিয়ে তার কপি সংবাদকর্মীদের সরবরাহ করেছিল র্যাব। এদিকে প্রধানমন্ত্রী ওসমান পরিবারকে দেখে রাখবেন এ ঘোষণার পরই এই মামলার সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেল। চার্জশিটও আর জমা দেয়া হলো না। আইন যে কতটা রূঢ়ভাবে সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তা ত্বকী হত্যার ঘটনার দিতে তাকালে দেখতে পারি৷
সাগর-রুনি হত্যার বিচারও ১০ বছরে হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যার টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে বলে র্যাব জানালো দিব্যি সে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দলবল নিয়ে শত শত হোন্ডা দিয়ে শহরে মহড়া দিচ্ছে। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ডিসি, এসপি রয়েছে। সাম্প্রতিককালে নারায়ণগঞ্জে প্রচুর হত্যাকান্ড হচ্ছে। তারপরও প্রশাসন বলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নারায়ণগঞ্জে ভালো।
লাশের পর লাশ পড়ছে এটা তাদের কাছে স্বাভাবিক।’ সাংস্কৃতিক এই ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘এমন বাংলাদেশের জন্য দেশটা স্বাধীন হয়নি। দুর্বৃত্ত, ঘাতক, জল্লাদদের আস্ফালনের জন্য দেশটা স্বাধীন হয় নাই। এদেরকে সরকার যতই প্রশ্রয় আর পৃষ্ঠপোষকতা দিক, এদের বাসযোগ্য এদেশ হবে না, এ নারায়ণগঞ্জ হবে না। আমরা অবশ্যই এদের বিতাড়িত করবো। নারায়ণগঞ্জের মানুষকে রক্ষার জন্য এদেরকে নিশ্চিহ্ন করবো, বিচারের আওতায় অবশ্যই আনবো।
ত্বকী হত্যার বিচার এ সরকারের আমলে না হলে অন্য সরকারের আমলে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার যারা বন্ধ করে রেখেছিল তারা ধিকৃত হয়েছিল। গডফাদারদের রক্ষা করার জন্য এ বিচারও যারা বন্ধ রাখছে তারা ঘৃণিত হবে। আমরা তা চাই না। যত যাই হোক না কেন, এ বিচার হবেই।’ নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল ইসলাম, সারোয়ার আলী।
আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান, সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা আহ্বায়ক নিখিল দাস, নারায়ণগঞ্জ খেলাঘর আসরের আহ্বায়ক রথীন চক্রবর্তী, মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আওলাদ হোসেন প্রমুখ।


