# ক্ষমতার শেল্টার না থাকলে শহর ছেড়ে পালাতে হবে: রফিউর রাব্বি
‘দৈনিক খবরের পাতা’র সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমানের বাড়ির ফটকে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে সুধী সমাজ। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আয়োজনে মানববন্ধনে বক্তারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির সভাপতিত্বে ও শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সদস্যসচিব হালিম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক, জেলা সিপিবির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের সদস্যসচিব আবু নাঈম, সমমনা সভাপতি দুলাল সাহা, প্রগতিশীল লেখক সংঘের সভাপতি বিমল কান্তি, খেলাঘর আসরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মহসিন, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন,
গণসংহতি মহানগরের সাধারণ সম্পাদক পপি রানী সরকার প্রমুখ। মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। রফিউর রাব্বি বলেন, ‘ত্বকী হত্যার পর আমরা কারও নাম উল্লেখ না করেই মামলা করেছিলাম। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা র্যাব তদন্ত করে বের করেছে, ওসমান পরিবারের নির্দেশে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করেছে।
সুতরাং কার নির্দেশে কারা মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সেটি বের করা প্রশাসনের জন্য কোনো বিষয়ই নয়। কিন্তু প্রশাসন এটি বের করতে চায় কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও প্রশাসন তাঁদের গ্রেপ্তার না করায় আমাদের বুঝতে কিছু বাকি থাকে না।
’ রফিউর রাব্বি বলেন, সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকা কার্যালয়ে হামলা, মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে হামলা ভয় দেখানোর জন্যই। তাদের পেছনে সরকার, তাদের পেছনে প্রশাসন, তাদের পেছনে পুলিশ এসব কারণে তাদের এত বীরদর্প। গডফাদার ও সন্ত্রাসীদের পেছনে সরকার, প্রশাসন না থাকলে এরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেত।
তিনি বলেন, আমাদের বিচারব্যবস্থা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, হত্যাকারীর সহযোগীরা, স্বজনেরা আস্ফালন করে বিচারকদের সামনে। আমরা বুঝতে পারি, কেন ৯ বছরেও বিচার হয় না। নারায়ণগঞ্জে এমন অসংখ্য ঘটনার কেন বিচার হয় না সেটি বুঝতে অসুবিধা হয় না।’
হালিম আজাদ বলেন, ‘ত্বকীর খুনিরা যখন বুঝতে পারছে, তারা পার পাবে না, তাদের আইনের আওতায় আসতে হবে। তখন তারা ভয় দেখাতে উন্মাদ হয়ে গেছে। ভয় দেখিয়ে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।’
বক্তারা আরও বলেন, ত্বকীকে যারা হত্যা করেছে, সেই গোষ্ঠীর বিচার দাবি করায় বারবার হামলাসহ নারায়ণগঞ্জে একের পর এক ঘটনা ঘটাচ্ছে। হামলা ও হুমকি দিয়ে বিচার আটকে রাখা যাবে না। মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন তাঁরা।


