পাইকপাড়ায় রাস্তা দখল করে ইট-বালুর রমরমা ব্যবসা
অর্ণব হাসান
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২২, ০৬:২৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া বড় কবরস্থান থেকে রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলাচলের রাস্তা দখল করে ইট, বালির ব্যবসা করে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। দীর্ঘদিন দরে মহলটি সরকারি রাস্তা দখল করে ইট, বালি ও পাথরের রমরমা বাণিজ্য চালালেও তা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন।
নামকাওয়াস্তে নাসিকের লোকজন অভিযান চালালেও তা আবার আগের রুপেই অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলে থাকে। ফলে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার কারণে চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। অপর দিকে ইট-বালু বহনকারী ট্রাকের দূষিত ধোঁয়ায় পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বাতাসে উড়ছে ধুলাবালি। পথ চলতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে লোকদের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের অভিযোগ, কতিপয় ব্যবসায়ী রাস্তা দখল করে ইট, বালু রাখায় সারা দিনই সড়কে উড়ছে ধুলাবালি। যা বাতাসে উড়ে আশপাশের বাসাবাড়িতে পর্যন্ত ঢুকছে। একই সাথে পাইকপাড়া বড় কবরস্থানের পাশেই রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। যার জন্য শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ধুলাবালি যাওয়া বিভিন্ন রোগজীবানু হয়। সেই সাথে ধুলাবালুর কারনে কবর জিয়ারত করতে আসা ব্যক্তিরাও ঠিকমত দাড়াতে পারে না।
একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, পাইকপাড়ার স্থানীয় প্রভাবশালি ব্যক্তি আবুল সরদারের ভাতিজা কাজল সরদার প্রভাব বিস্তার করে এখানে রাস্তা দখল করে ইট বালুর ব্যবসা করে যাচ্ছে। এছাড়াও সড়ক বন্ধ করে ট্রাক দাঁড় করিয়ে চলছে লোডিং-আনলোডিং। সড়কের বেশির ভাগ জায়গায় বালুর স্তূপ। কাজল ছাড়াও পাইকপাড়া এলাকার সাইদ,
সুজন ভূইয়া, রিপন ভূইয়া, রুবেল সহ প্রায় ১০ জন মিলে এই রাস্তা দখল করে অবৈধ ভাবে রমরমা ব্যবসা করে যাচ্ছে। এলাকাবাসির অভিযোগ সারা দিন বালুর ট্রাকের দখলে থাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও। সড়কে বছরের পর বছর বালু রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছেন প্রভাবশালীরা। ১৫ ফিট রাস্তার ৮ ফিট ওই এই অসাধু ব্যবসায়ীদের দখলে।
আশ পাশের দোকানদার বলেন, বালুবাহী ট্রাক লোড-আনলোড করায় বালু উড়ে এ সড়কে চলাচলকারীদের চোখ, মুখ ও নাকে যাচ্ছে। সেই সাথে আমরা যারা মুদি দোকানদার, চায়ের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করি আমাদের দোকানে পর্যন্ত ধুলাবালু এসে ভড়ে যায়। কিন্তু তাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। এছাড়াও এই সড়কে চলাচলকারী শত শত যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় চালকরা জানান, এই সড়ক দিয়ে শত শত যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। জরুরি পণ্যসহ বিভিন্ন মাল এ সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হয়। ব্যস্ত এ সড়কে বালু ব্যবসায়ীরা ট্রাক দাঁড় করিয়ে লোড-আনলোড করেন। এতে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে এ সড়কে গাড়ি চালাতে পারছি না।
ইট বালু ব্যবসায়ী কাজল সরদার বলেন, আমি একা এখানে বালুর ব্যবসা করি না। আরো অনেকে ইট বালু রেখে রাস্তা দখল করে ব্যবসা করে। কিন্তু তারা পার পেয়ে যায়। আমিই শুধু বার বার সমালোচিত হই। আমার ইট বালু এখান থেকে সরিয়ে নেয়া হবে।
নাসিক ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু বলেন, প্রত্যেকটি মোড়ে গেট বানিয়ে ছিলাম, কিন্তু এই গেট গুলো খুলে ফেরা হয়। এই বিষয়ে আমি মেয়র মহোদয়কে কয়েকবার জানাইছি। তাতে কিছু হয় নাই।রাস্তা দখল করে বালুর ব্যবসা করার বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। তারা এই ভাবে বালুর ব্যবসা করায় এই বালু গিয়ে ড্রেন ভরে থাকে।
আর এ জন্য আমার নিজের অর্থায়নের ড্রেন পরিস্কার করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়। আমি সিটি করপোরেশনের প্রশাসনকে একাধিকবার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জানিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হয় নাই। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল কেটে দেন।


