পণ্য লোড-আনলোডে সমস্যায় দিশেহারা নিতাইগঞ্জের ব্যবসায়ীরা
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২২, ০৫:৩৯ পিএম
বাংলাদেশের সব চেয়ে বৃহত্তম পাইকারী বাজার হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলার নিতাইগঞ্জ এলাকায়। নিতাইগঞ্জ পাইকারী ব্যবসায়ী বাজারটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪০টি জেলার মালামাল চাল-ডাল,আটা-ময়দা, লবণ, চিনি, তেল, ভূষি ইত্যাদি ভোগ্যপণ্য এই নিতাইগঞ্জ পাইকারী বাজার থেকে নিয়ে যাওয়া হতো।
সেই সময় দৈনিক এই নিতাইগঞ্জ বাজারে প্রায় ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হতো। কিন্তু বর্তমানে এই নিতাইগঞ্জ নিজেই এখন পথহারা। দৈনিক লেনদেন এখন নেমে এসেছে ৫০ কোটি টাকায়। পুরোনো এই বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন দৈন্যদশায় আছেন। পথ খুঁজছেন তারা কিভাবে ছাড়বেন এই ব্যবসা। ইতি মধ্যে লোকসানের কারনে অনেক মেইল ও পাইকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এরই মধ্যে বর্তমানে দেশে নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিনই উঠা-নামা করছে। নিত্যপণ্যের দাম উঠা-নামার কারনে প্রতিদিনই লোকসানের হিসাব কষতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এবিষয়ে নিতাইগঞ্জ চাউল আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত হোসেন জানান, এখন নতুন চাউলের আমদানি শুরু হচ্ছে। পাইকারী বাজার থেকে চাউলের বস্তা নৌ পথে আনলে খরচটা একটু কম পরে।
আর আনা-নেওয়ার খরচ কম হলে খুচরা বাজারেও চাউলের দাম একটু কম পরে। কিন্তু বর্তমানে নৌপথে মালামাল আনলেও নিতাইগঞ্জ খাল ঘাট দিয়ে ট্রলার থেকে মালামাল উঠা-নামানো করা যাচ্ছেনা। গত ২মাস ধরে নিতাইগঞ্জ খাল ঘাট থেকে শুরু করে শীতলক্ষ্যা কদমতলী ঘাট পর্যন্ত নদীর পশ্চিম পাড়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ওয়াকওয়েতের কাজ চলছে।
এ কাজের জন্য আমাদের কোন মালামাল নৌপথে লোড-আনলোড করতে পারিনা। অন্য ঘাট দিয়ে মালা-মাল লোড-আনলোড করলে লেবারদের দিতে হচ্ছে বস্তা প্রতি বেশি টাকা। এদিকে বস্তা প্রতি বেড়ে যাচ্ছে ২০টাকা করে। এ বিষয়ে চাউল আড়ৎদার মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম লিটন জানান, আমি চাউলের ব্যবসা করি। তার পাশাপাশি আমি ঘাটে ইজারার সাথেও সংযুক্ত।
ঘাটের এই সমস্যার কারণে আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। দুই মাস যাবত ঘাটের এই সমস্যা, মনে হয় আগামী ৬ মাসেরও এই ওয়াকওয়েতের কাজ শেষ হবেনা। আমি চাই বিআইডব্লিইটি যাতে এই সমস্যার সমাধানটি তাড়াতাড়ি করে। দ্রুত যাতে কাজটি শেষ করে। ভূষি মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আল-আমিন জানান, খাল ঘাট ও মাছুয়াবাজার ঘাট দিয়ে প্রতিদিন আমাদের কয়েকহাজার ভূষির বস্তা ট্রলারে লোড-আনলোড করানো হয়।
আর আমাদের ভূষির ঘরগুলো এই সব ঘাটের সামনে কিন্তু বর্তমানে ঘাটের এই সমস্যার কারনে আমাদের মালামাল লোড-আনলোড করা যাচ্ছে না। আমরা বস্তা প্রতি ১০-২০ টাকা লাভ করি কিন্তু বর্তমানে ঘাটের সমস্যার কারণে লাভের বেশির ভাগ অংশ লেবারকে দিয়ে অন্য ঘাট দিয়ে মালামাল লোড-আনলোড করানো হচ্ছে।
এবিষয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের মাছুয়াবাজার কালেকশন রাইট পয়েন্ট ও টানবাজার হতে কদমতলী লেবার হ্যন্ডলিং পয়েন্টের ইজারাদার তমিজ উদ্দিন জানান, আমরা ২০২১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত নদীর পশ্চিম পাড়ের লোড-আনলোডের ইজারা পেয়েছি প্রায় ৪ কোটির টাকার উপরের টেন্ডারে।
আমাদের এই ঘাটটি মূল্যত গমের লোড আনলোডের ঘাট। চট্টগ্রাম থেকে বড় বড় জাহাজের মাধ্যমে এই গম নিতাইগঞ্জে আনা হয়। বর্তমানে নদীর পাড়ে বিআইডব্লিউটি’র ওয়াকওয়েত এর কাজের জন্য জাহাজ থেকে মালামাল লোড-আনলোড করা যাচ্ছে না।
এই ওয়াকওয়েতের কাজের জন্য প্রতিটি ঘাটের জেটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, সে কারণে জাহাজ গুলো কাঁচপুর দিয়ে মালামাল উঠাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের ঘাটে কোন জাহাজ নেই, জাহাজ না থাকার কারনে আমরা এ বছর ২ কোটি টাকা লোকসানে পরতে পারি।


