Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

তিনদিনের ছুটিতে নগরবাসী’র স্বস্তি

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২২, ০৬:০৩ পিএম

তিনদিনের ছুটিতে নগরবাসী’র স্বস্তি
Swapno

# শত ব্যস্ততা, জনজট আর যানজটের নগরী কার্যত ছিলো ফাঁকা

 

শত ব্যস্ততা, জনজট আর যানজটের নগরী নারায়ণগঞ্জ তিনদিনের সরকারি ছুটিতে কার্যত ছিলো ফাঁকা। শহরে ছিলো না মানুষের চাপ, ছিলো না জনজট। গত বৃহস্পতিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ছিল সরকারি ছুটি। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি ও শনিবার শবে-ই-বরাতসহ টানা তিনদিনের ছুটিতে অনেকেই শহর ছেড়েছেন।

 

ফলে শনিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে যানজটের নগরী নারায়ণগঞ্জ । নগরীর বিভিন্ন সড়কে স্বাভাবিক গতিতেই ছুটছে যানবাহনগুলো। যানজটে না থাকায় এক প্রকার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন নগরবাসী। আর এই সুযোগে স্থবিরতা ভেঙে এ শহর হয়ে উঠেছে গতির শহর। ঘণ্টার রাস্তার দূরত্ব যেন কমে এসেছে ১০ মিনিটে। এখন নগরবাসীর মনে প্রশ্ন এই নগরী কি ঔই নগরী!

 

সরেজমিনে নগরীর চাষাঢ়া, কালীরবাজার, ২নং রেলগেইট, ডিআইটি ও নিতাইগঞ্জ মোড়  ঘুরে দেখা যায়,  নেই কোনো কোলাহল ও নিত্যদিনের যানজট। চোখে পড়েনি সড়কে বা গাড়িতে ভিড় কিংবা যানজটের চিরচেনা রূপ। ফাঁকা রাস্তায় সামান্য কয়েকটি গণপরিবহনই চলাচল করতে দেখা যায়। তবে নগরীতে দাবড়ে বেড়াচ্ছে তিন চাকার বাহন ‘রিকশা’। আর এই দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে নগরী এখন রিকশার দখলে।

 

নগরীর চাষাঢ়া হতে নিতাইগঞ্জ পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকার রেকর্ড রয়েছে নগরবাসীর কাছে। চলাচলের সেই চিরচরিত স্থবিরতা ভেঙে নারায়ণগঞ্জ এখন গতির শহর। কোথাও আচমকা থামতে হচ্ছে না চলার পথে। নেই শহরজুড়ে কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল। শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলো ঘুরে বুঝে ওঠার উপায় নেই এটা নারায়ণগঞ্জ শহর। চলার গতির সঙ্গে বেড়েছে স্বল্পসংখ্যক যানবাহনের গতিও।  

 

তিন দিনের ছুটিতে রিকশায় যাতায়াত কিভাবে উপভোগ করছেন জানতে চাইলে রিকশার যাত্রী কাউছার আহম্মেদ বলেন, যানজট মুক্ত শহরকে আমি ভিন্নভাবে উপভোগ করছি। প্রধান সড়কে রিকশায় যাতায়াত করতে পেরে আমি সত্যই খুব আনন্দিত। চির চেনা ব্যস্ত নগরী এখন নারায়ণগঞ্জ সনয়। এমন মুক্ত হাওয়ার নগরী আমি সর্বদাই প্রত্যাশা করি।

 

এদিকে শহরের যানজট আমাদের দেশের জন্য একটি অভিশাপ বলে মনে করেন বেসরকারি চাকরিজীবী অর্পূব আহম্মেদ । তিনি বলেন, শহরের এই গতিহীনতা আমাদের থামিয়ে দিচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ন দৌড়ে। এখনকার মতো যদি সবসময় নির্বিঘ্নে চলাচল করা যেতো তাহলে শহরের মানুষ প্রতিদিন কাজ করার জন্য আরও ২/১ ঘণ্টা সময় বেশি পেতো।


উৎসব পরিবহনের চালক রুবেল বলেন, ছুটির কারনে গাড়ি চালিয়ে ও ট্রিপ দিয়ে শান্তি পাইতেছি। রাস্তাঘাট পুরোই ফাঁকা ছিল। নেই যানজট ছিলো না ট্রাফিক সিগন্যাল একটানেই চইলা আসতে পারছি। ঢাকা থেকে ২০মিনিটে নারায়ণগঞ্জ আসছি। যা অন্যান্য দিন সময় লাগে ৪০থেকে ৫০মিনিট।

 

এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শেখ মো. ইমরান হোসেন বলেন, সরকারি টানা তিন দিনের ছুটিতে অনেক মানুষ নারায়ণগঞ্জ শহর ছেড়েছেন। ফলে শনিবার সকাল থেকেই অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে শহর। এদিন রাস্তায় গাড়ির চাপও বেশ কম। নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে যানজট দেখা যায়নি। ফলে ট্রাফিক পুলিশ অনেকটা আরামেই দায়িত্ব পালন  করছেন। গণপরিবহনে ছিল না যাত্রীদের চাপ।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন