সাংবাদিকপুত্রকে ছুরিকাঘাতের মামলায় গ্রেফতার তিন কিশোর সংশোধনাগারে
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২২, ০৫:৪৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজের ছেলে আহম্মেদ অনন্ত শাহ্’কে হত্যা চেষ্টার আসামীদের বুধবার আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে ফতুল্লা থানা পুলিশ। আদালতে আওয়ামীলীগের সব গ্রুপ, বিএনপিন্থীসহ সকল মতাদর্শের আইনজীবিরা অনন্ত’র পক্ষে দাঁড়িয়ে কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের রিমান্ডের পক্ষে জোড়ালো যুক্তি উপস্থাপন করেন।
তবু তিন আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেনি নারী ও শিশু আদালতের বিচারক রাজিয়া সুলতানা। রিমান্ড না মঞ্জুর করে তাদের টঙ্গীতে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুর দুইটায় জেলা নারী ও শিশু আদালতের বিচারকের আদালতে অনন্ত হত্যা চেষ্টার আসামী আলিফ জিহান, সামিউল ইসলাম আবির, গোলাম মারুফ জিদানকে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
মামলার শুনানীতে অংশ নিয়ে নারী শিশু আদালতের পিপি রাকিব উদ্দিন বলেন, এই হত্যাচেষ্টা মামলার বেশ কয়েকজন আসামীর পিতার নাম ঠিকানা নেই। এছাড়া পনেরজন অজ্ঞাত আসামী রয়েছে। এদের পরিচয় জানতে আসামীদের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন। সিনিয়র আইনজীবি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, সাবেক পিপি এডভোকেট আসাদুজ্জামান,
জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান দীপু বলেন, শরীফ উদ্দিন সবুজ নারায়ণগঞ্জের অত্যন্ত সাহসী একজন আইনজীবি। তার লেখনি বক্তব্য নারায়ণগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রায়ই গেছে। তিনি এসবের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্যও রেখেছেন বিভিন্ন সময়ে। তাই তার ছেলে অনন্ত’র উপর হামলার নেপথ্যে এসব কারন রয়েছে কিনা কিংবা প্রকৃতই কারা রয়েছে এসব জানতে আসামীদের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।
জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল, এডভোকেট খোকন সাহা বলেন, এ হামলায় ব্যবহৃত ছুড়িটি এখনো উদ্ধার হয়নি। যেটি হামলার গুরুত্বপূর্ন আলামত। সেটি উদ্ধারের জন্য আসামীদের রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।
বিএনপি সমর্থক আইনজীবি এডভোকেট হুমায়ুন, এডভোকেট খোরশেদ মোল্লা, গনতান্ত্রিক আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজলসহ বাদিপক্ষের আরো পনের-বিশজন আইনজীবি বলেন, মানুষ কিশোর গ্যাং এর হামলায় আতঙ্কিত।
এদের হামলার শিকার হলেও মানুষ নানা কারনে থানা আদালত পর্যন্ত আসেনা। সেখানে একজন বাবা, যিনি নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের দুইবারের সেক্রেটারি তিনি মামলা করেছেন, পুলিশ আসামীদের ধরেছে। সেই আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সকল আসামীদের গ্রেফতার করা না গেলে মানুষ হতাশ হয়ে যাবে। এজন্য এদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আসামীপক্ষের আইনজীবি এডভোকেট রাসেল ও এডভোকেট সিমি বলেন, আসামীরা কিশোর অপরাধী। তাদের রিমান্ডে নেয়ার বিধান আইনে নেই। তাদের বক্তব্যের বিরোধীতা করে এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম আদালতকে একটি রিমান্ড আদেশের কপি দিয়ে বলেন, কিশোর অপরাধীদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার কপি সরবরাহ করলাম। আইনে কিশোর অপরাধীদের রিমান্ডে নেয়ার বিধান রয়েছে। পিপি রাকিব উদ্দিন বলেন, নারী শিশু আদালতে অন্তত দশটি মামলার কিশোর আসামী রিমান্ডে নেয়ার কথা আমি জানি।


