শীতলক্ষ্যার নদীতে অবৈধ ড্রেজারে চলছে বালু ব্যবসা
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ মে ২০২২, ০৯:৫৫ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিক ৫নং ওয়ার্ডে শীতলক্ষ্যার নদীতে সরকারি নিয়মনীতি না মেনে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালুর ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান আনিস সহ তার সহযোগী মিজান-কবিরের বিরুদ্ধে। অবৈধভাবে বালু ভরাট চললেও চক্রটির বিরুদ্ধে কোনো স্থায়ীব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বালু ভরাট করায় হুমকির মুখে চলাচলের সড়কগুলো। ধুলাবালিতে স্কুলের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বয়স্ক লোক ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। আবার পাইপ লিকেজ এর কারণে বালু পানি মানুষের উপর পড়ে নষ্ট হচ্ছে জামা কাপড়।
সিদ্ধিরগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এইভাবে বালু তুলে বিক্রি করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। বালু ভরাটকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পান না। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান আনিস সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীও ছিলো। তার পক্ষে কাজ করেছিলো মিজান ও কবির। কেউ কিছু বললে হুমকি দিয়ে বলে আমরা আওয়ামী লীগ করি।
প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ ব্যবসা করছি। শুক্রবার (২৭ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, ৫ নং ওয়ার্ডের সর্দারবাজার এলাকা সংলগ্ন শীতলক্ষা নদীতে ড্রেজার বসানো হয়েছে। ৬ ইঞ্চি পাইপ লাইন টানা হয়েছে পিডিবির দেয়াল ঘেসে সর্দারবাজার এলাকা হয়ে আন্তঃজিলা ট্রাক চালক ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে।
সাইলরোড ঘেসে আমিজ ভবন পার হয়ে একটি লাইন চলে গেছে ওমরপুর হারানো পুকুর পাড় এলাকায় আর সোজা লাইন চলে গেছে সাইলো রাস্তার মাথায়। সেখান থেকে সংযোগ বা বোস্টার ড্রেজার বসিয়ে লাইন মিজমিজি এলাকায় নেওয়ার পক্রিয়াও চলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আমাদের এলাকায় যেভাবে ড্রেজারের পাইপ ছেয়ে গিয়েছে তা দেখে এখন মনে হয় না এটা আমাদের সিদ্ধিরগঞ্জ ৫নং ওর্য়াড। তাছাড়া এই ড্রেজারকে কেন্দ্র করে শীতলক্ষা নদীতে এই গং এর নেতৃত্বে চলছে বালুবাহী বাল্কহেড থেকে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি। তাছাড়া প্রতিদিন এরা সাইলরোড থেকে নদী পর্যন্ত হোন্ডাবাহিনী ও গাড়ী ভরে লোকজন নিয়ে মহড়া দিয়ে থাকে।
মাঝে মাঝে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে সাধারণ জনগণকে ভয় দেখিয়ে থাকে। তাই ওদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশে মুখ খুলতে চায়না। আমরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের কথা শুনে না। তারা প্রভাবশালী বলে কেউ আর কিছু করতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে এলাকাবাসী।
ড্রেজারের পাইপের বিষয়ে এ ওর্য়াডের কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল মুঠোফোনে জানান, ‘আমি বিষয়টি জানি না। তারা আমার এখান থেকে অনুমতি নেয় নাই। অথবা সিটি করপোরেশন থেকে নিয়েছে কিনা তাও জানি না। ড্রেজার পাইপের অনুমতি দিয়েছে কিনা এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘গতকাল সন্ধ্যার পরে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন থেকে অনুমতি নিয়েছে কিনা জানা নেই।
যদি না নেওয়া হয়ে থাকে রোববার আমি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবো’। এবিষয়ে মিজান ও কবিরের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান আনিস বলেন, আমার কোনো ড্রেজার নাই। এগুলো সব মিথ্যা। আমার কোনো লোক জনের সাথে ড্রেজারের কোনো সম্পর্ক নাই। আমার বি আই ডব্লিউ টি এর ডাকের ঘাট। আমার ঘাটে জাহাজ আসে আমি অনুমতি নিয়ে এসকল জাহাজ খালি করি আপনারা যখন খুশি যে কেউ এখানে এসে দেখে যেতে পারেন। অথবা বি আই ডব্লিউ টিতে যোগাযোগ করতে পারেন।এসএম/জেসি


