Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

শুভ্রত’র খুনীদের গ্রেপ্তারে বাধা কোথায়

Icon

অর্ণব হাসান

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২২, ০৫:২৯ পিএম

শুভ্রত’র খুনীদের গ্রেপ্তারে বাধা কোথায়
Swapno

# কাউন্সিলরের লোক হওয়ায় গ্রেপ্তার হচ্ছে না
# খুনিরা দেদারছে ঘুরে বেড়াচ্ছে

 

সম্প্রতি সময়ে নারায়ণগঞ্জে কিশোরগ্যাং গ্রুপের হাতে স্কুল ছাত্র সহ একাধিক কিশোর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ভূক্তভোগী থেকে অভিযোগ রয়েছে তার মাঝে কয়েক হত্যা জনপ্রতিনিধিদের নিদের্শে হয়েছে। প্রভাবশালি ব্যক্তি জরিত থাকায় আসামীদেও গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসন তেমন একটা তৎপর না।

 

কিন্তু নিহতের পরিবার প্রথম থেকে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তাদের কাছে তেমন একটা সাহায্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন। গত সপ্তাহে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে শহরে আশেপাশের এলাকায় ৪ থেকে ৫ টি খুনের ঘটনা ঘটে। তার মাঝে আলীরটেক ইউনিয়নের সিয়াম সরদার হত্যায় ৪ জন আসামী গ্রেপ্তার করে। ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়। তারা হত্যার স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।


এদিকে নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেওভোগ দিঘিরপাড় এলাকায় শুব্রত ২২ নামের এক যুবককে বাসা থেকে ঢেকে নিয়ে রাতের আঁধারে নির্যাতন করে বাসার সামনে রেখে যায়।

 

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার মারা যায় নির্যাতিত শুব্রত। নিহত শুভ্রত’র পরিবারের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনিরের নিদের্শে খুন হওয়ায় পুলিশ প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।

 

এদিকে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন শুব্রত হত্যার খুনিদের গ্রেপ্তারে বাধা কোথায়? খুনিরা এলাকায় ঘুরে বেরাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা, অথচ তাদের গ্রেপ্তারে করা হচ্ছে না। নামকাওয়াস্তে একজনকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। তাও আবার তিনি এই ঘটনার সাথে জরিত নন বলে তার পরিবারের দাবী। তাই নগরবাসি প্রশ্ন তুলেন  তাহলে কি প্রশাসন অপরাধীদের গ্রেপ্তারের নিরব ভূমিকা পালন করছেন।


নিহত’র বোন সম্পা মন্ডল জানান, শুভ্রত মারা যাওয়ার আগে তাকে যাারা নির্যাতন করে হত্যা করেছে তাদের নাম বলে গেছে। শম্পা মণ্ডল ভাই হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমার ভাইকে মেরে একজন সন্ত্রাসী কাউন্সিলর মনিরকে ফোন দিয়ে বলেছে ভাই ওকেতো মেরেছি এখন কি করবো। তখন ফোনের ওই পাশ থেকে কাউন্সিলর মনির তার সন্ত্রাসবাহিনীর সদস্যকে বলে ছিনতাইকারী বলে রাস্তায় ফেলে দে।

 

একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি কি করে এই ধরণের কথা বলতে পারেন। আমার ভাই মারা যাওয়ার আগে তাকে যে কাউন্সিলর মনিরের নির্দেশে মেরে নির্যাতন করে হত্যা করেছে তা সে নিজে বলে গেছে। আমরা এজহার কপিতে কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনিরের নাম দিছি। পুলিশ তার নাম বাদ দিয়ে দিছে।

 

পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহতের বোন বলেন, আমরা অভিযোগ দেয়ার পর থেকে পুলিশের কোন তৎপরতা দেখতাছি না। একই সাথে তাদের কাছে কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। তারা উল্টো আমার ভাইয়ের নাম্বার চায় অথচ কাউন্সিলর মনিরের মোবাইল নাম্বার চেক করলে আমার ভাইয়ের খুনিরা যে তার সাথে কথা বলেছে তা পেয়ে যাবে।

 

 মামলার তদন্তকারী এস আই নূরে আলম কাউন্সিলর মনিরের কাছ থেকে টাকা খেয়ে আসামীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কোন তড়িৎগতি দেখতাছি না। অথচ আসামীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেদারছে গুরে বেরাচ্ছে। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তার করা হয় না। আমরাও পুলিশ প্রশাসন থেকে কোন সহযোগিতা পাচ্ছি না। জেলা পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযেগা করা হলে তিনি ফোনকল কেটে দেন।


শুভ্রত হত্যার মামলার তদন্তকারী এস আই নুর আলম সিদ্দিকী জানান, ইতিমধ্যে আমরা এই হত্যা মামলার মানিক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তার করার জন্য জেলা পুলিশ সুপার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে র‌্যাব, ডিবি, পুলিশ সাবই মিলে কাজ করছি।এমআই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন