# মাছচাষ একটি উৎপাদনমুখী কাজ
বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। তেমনি জলীয় প্রাণী মাছেরা সুন্দর পানিতেই। পানি থাকলে সেখানে মাছ জন্ম নেবেই। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। তা সে খাল, বিল, পুকুর, নদী, নালা, লেক যাই হোক না কেন।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নব নির্মিত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ বাবুরাইল- কাশীপুর লেকে মাছ চাষের অনুমোদন দিয়েছে এবং তা পেয়েছেন মহানগর বিএনপি নেতা হাসান আহমেদ। এতে শহরের একটি মহল নাখোশ হয়েছে।
তাদের বক্তব্য, লেকের সৌন্দর্য্য বর্ধনের সঙ্গে মৎস চাষ জুড়ে দেয়া হয়েছে। এতে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩০ মে ‘বিএনপি সন্ত্রাসীর মাছ চাষ’ শিরোনামে একটি সংবাদ ছেপেছে।
প্রকাশিত সংবাদে অভিযোগ করা হয়েছে, লেকের সৌন্দর্য্য বর্ধনের সঙ্গে মৎস চাষ প্রকল্প জুড়ে দেয়া হয়েছে। নাসিক কর্তৃপক্ষ এটা ঠিক করেনি। এ মাছ চাষের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তিনজন বিতর্কিত ব্যাক্তিকে। এরা হলেন, বাবুরাইলের লিখন সরদার ও বিজন এবং কাশীপুরের সুমন।
এদের পেছনে রয়েছে বিএনপি শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসান আহমেদ। হাসান আহমেদ ইতিমধ্যেই বউ বাজার ব্রীজের নীচে খালে একটি বাঁশ ও নলের বেড়া নির্মান করেছে।
এ ব্যপারে আলাপকালে জেলা ও উপজেলা মৎস অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কোন জলাশয়ে জলজ প্রাণী মাছ থাকলে সেখানে পানি ভাল থাকে। কারণ, মাছ পানির শেওলা, ভাসমান ময়লা এবং পোকা-মাকড় খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখে। তাই পানিতে মাছ থাকলে সেখানে পানি ভালো থাকে।
তাছাড়া লেকের পানিতে খাবারের খোঁজে ঝাঁক বেঁধে ঘুরে বেড়ানো মাছও দর্শনার্থীদের বিশেষ করে শিশুদের আনন্দ দান করবে। তাছাড়া অপরিষ্কার ও দূষিত পানিতে যেহেতু মাছ দ্রুত বাড়তে পারে না,
তাই মাছচাষীরা নিজ স্বার্থেই লেকের ময়লা আবর্জনা ও পলিথিন নিয়মিত পরিষ্কার করবে এবং ময়লা আবর্জনা ও পলিথিন ফেলতে লেকপাড়বাসীদের বাঁধা প্রদান করবে।
সূধী মহলের মতে, হাসান আহমেদ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি সহ সাংগঠনিক সম্পাদক। ঈর্ষা ও প্রতিহিংসা বশত তার গায়ে সন্ত্রাসী তকমা লাগানো হয়েছে। কারণ, মাছ চাষ একটি উৎপাদনমুখী কাজ। সন্ত্রাসীরা কখনো উৎপাদনমুখী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে না। তারা মূলত চাঁদাবাজী ও মাদক ব্যবসার মতো অনৈতিক ও অনুৎপাদনশীল কাজ করে বেড়ায়। বিবি/জেসি


