নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত এখন ভাসমান হকারদের বিক্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নগরীর বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাড়া থেকে শুরু করে ২নং রেল গেইট এলাকা জুড়ে পুরো ফুটপাত হকার ও ভাসমান দোকানীদের দখলে। গতকাল নগরীর ২নং রেল গেট এলাকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্যের সামনে দেখা যায় পুরোটি ভাসমান দোকানীদের দখলে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি নগরীর মানুষদের শান্তি ও স্বস্তির জন্য এই বাগান সমৃদ্ধ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য এর প্রবেশের মুখেই পুরো ফুটপাতটি ভাসমান দোকানিদের দখলে।
এই বিষয়ে দোকানিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে চলে খাবারের বেচাকেনা। সরেজমিনে দেখা যায়, ফুচকা, চটপটি, নুডলস, চা, দুধ, ডিম, মাঠা, আম, আনারস, লিচু, সিগারেট ও পানের দোকান সেই ভাস্কর্যের এলাকাটি দখল করে রেখেছে।
খবর নিয়ে জানা যায়, তারা দোকান প্রতি দৈনিক ১০০ থেকে ২০০ টাকা চাঁদা দিয়ে এখানে দোকানদারি করেন। এই দোকান গুলোর কারনে এখানকার ফুটপাত দিয়ে জনগণের হাটাচলা করায় সমস্যা হচ্ছে। পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় হকারদের উচ্ছেদ করলেও ২নং রেল গেট এলাকার কোনো ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেননি। এখানকার হকার ও দোকানদারগণ ২নং রেল গেট এলাকায় ট্রাফিক বক্সের পুলিশকে প্রতিদিন চাদাঁ দেয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
ফুচকা , চটপটি , নুডলস , চা, দুধ, ডিম, মাঠা, আম, আনারস, লিচু, সিগারেট, পান কী নেই ফুটপাত জুড়ে! বিচিত্র এসব পণ্যের মাঝখান দিয়ে কিছুটা জায়গা করে নিয়ে কয়েকজন চলাচল করলেও বেশিরভাগ পথচারীই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই হাটছেন।
কেবল ২নং রেল গেটই নয়, নগরের বেশিরভাগ ফুটপাত এখনও হকার ও দোকানিদের দখলে রয়েছে।মাঝে মাঝে সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান চললেও পুনরায় তা চলে যাচ্ছে হকারদের দখলে। স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিভিন্ন সড়কের পাশে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকানপাট । এর ফলে শুধু যে হাটাচলায়ই প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে তা নয়, একই সাথে নগরের পরিবেশও নোংরা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে কেউ কোনো জিনিস বা পণ্য রাখলে তা বাজেয়াপ্ত করা ও সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির বিরুদ্ধে জরিমানা করার বিধান রয়েছে।
এখানকার দোকানিরা ফুটপাত দখল করেই ক্ষান্ত হননি, রাস্তার কিছু অংশও তারা দখল করে নিয়েছেন। প্রশাসনের উচিত এসব এলাকার অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বস্তি দেওয়া ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে নারায়ণগঞ্জ শহরের বুকে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মাণ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত এই ভাস্কর্যটিকে ঘিরে শহরের দুই নম্বর রেলগেইট এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে চত্ত্বর।
এই চত্ত্বরের নামও দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কর্মসূচির দিন ভাস্কর্য ও বঙ্গবন্ধু চত্ত্বরের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং তার স্মরণে মেয়র আইভী এ চত্ত্বর নির্মাণ ও নামকরণ করেন। বঙ্গবন্ধু চত্বরে ঢুকতেই রয়েছে হাঁটার রাস্তা, রাস্তার দুই পাশে বৃক্ষশোভিত কংক্রিট নির্মিত বসার স্থান।
উত্তর পাশে লাল ইটের দেয়ালের সামনে রয়েছে দু’টি ছোট আকারের মঞ্চ। পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে কৌনিক হয়ে যাওয়া এ চত্বরের ঠিক পশ্চিম দিকে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় সম্বলিত ফলক ও তাঁর আবক্ষ ভাস্কর্যটি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন অর্থায়নে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এ বঙ্গবন্ধু চত্বরের নির্মাণ করা হয়। এই চত্ত্বরের নকশা করেছেন স্থপতি মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ডালিম। এদিকে শিল্পী সঞ্জয় পাল ও রিঙ্কু অনিমিখ তৈরি করেছেন ব্রোঞ্জনির্মিত বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্যটি। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন পুরোটাই হ-য-ব-র-ল।এসএম/জেসি


