# শহীদ মিনারের পবিত্ররা রক্ষা করতে হবে : এড. মাসুম
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে ওঠেছে বহু মানুষের মিলনস্থল । এক কাপ চায়ের সাথে জমে ওঠে প্রিয় সেই মানুষ গুলোর সাথে আড্ডা । প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে সময় পেলে ছুটে আসেন এখানে বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে মানুষের ঢল পরে যেন শহীদ মিনারে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওঠে আড্ডা ও আলোচনার আসর। প্রায় সময় এখানে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনা আয়োজন করা হয়।
বহুমূখী ব্যবহারের কারণে শহীদ মিনারটি হয়ে ওঠেছে সাধারণ মানুষের মিলনস্থল। সকালের দিকে আড্ডা জমে কলেজ,র্ভাসিটির শিক্ষার্থীদের আর দুপুর পেরুতেই সাহিত্য লেখক, কবি, সাংবাদিক সহ নানা শ্রেণির মানুষের আনাগোনা চলে এখানে। এর পশ্চিম পাশে রয়েছে অসংখ্য খাবার এবং চায়ের দোকান। এখানকার এই চা গুলোই আড্ডাকে সম্পূন্ন রূপ দেয়। আবার এগুলো নিয়ে অভিযোগ রয়েছে অনেকেরই। আবার দেখা যায় যে বিভিন্ন অনলাইন ব্যবসায়ীর পণ্য আদান-প্রদানের জন্য ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছে এই শহীদ মিনার।
এ ব্যপারে একজন অনলাইন ব্যবসায়ী বলেন,চাষাঢ়া শহীদ মিনার সকল মানুষের পরিচিত এবং সহজেই যাতায়াত করা যায় ।এতে জেলা ও জেলার বাহিরের ক্রেতারা সহজেই তাদের পন্য হাতে পান এবং এ জায়গাটাকে তারা নিরাপদ মনে করেন। শুধু মাত্র অনলাইন ব্যবসায়ী নয় চা প্রিয় মানুষেরা কোনো কাজে নগরীতে আসলে শহীদ মিনারের চায়ে চুমুক দিতে ভুল করেন না।
একটি চায়ের দোকানের মালিক সজল ইসলাম বলেন, তাদের এখানে প্রায় ১০ রকমের চা পাওয়া যায় যেমন রং চা, পুদিনা চা, লেবুর চা, মসলা চা- ১০ টাকা ; কফি- ৫০ টাকা ; তেতুল ও মালটা-২০ টাকা ; জলপাই ও কাচা আমের চা ৩০ টাকা আর মালাই চা ৫০ টাকা ) এছাড়া শহীদ মিনারে আসা লোকদের প্রিয় খাবার হলো এখানকার ফুচকা । এখানে প্রায় ১০ টার বেশি ফুচকার দোকান রয়েছে ।
শহীদ মিনারে চা খেতে আসা নারায়নগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী রাতুল বলেন, কলেজের ক্লাস শেষে আমরা সব বন্ধুরা মিলে এখানে আড্ডা দিতে আসি এবং বন্ধুদের সাথে যে সময়টা আমরা কাটিয়েছি তা ধরে রাখার জন্য ছবি তুলি ।
ঠিক তেমনি নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজে আফসানা মীম বলেন, কোচিং শেষে সময় কাটানোর জন্য এখানে আসা হয়। সেখানে ঘুরতে আসা একজন দর্শনার্থী বলেন, প্রতিটি শহরে এমন একটি পরিচিত স্থান রয়েছে যেখানে মানুষ তার সুখ- দুঃখের সময় একত্রিত হয়। ঠিক তেমনি আমাদের এ শহীদ মিনার, এখানে রাজনৈতিক, সাংস্কতিক সভার ও আয়োজন করা হয়। সবকিছুর গন্তব্যই আমাদের এ শহীদ মিনার। তবে এর সঠিক রক্ষনা বেক্ষণ করা দরকার বলে সে জানান।
পবিত্রতা রক্ষার ব্যপারে নারায়নগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য । ভাষা আন্দলনের শহীদদের স্মরণে এই শহীদ মিনার, তাদের অপমান করা মানে জাতিকে অপমান করা, যারা শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষা করতে পারবেন না তারা দয়া করে শহীদ মিনারে আসবেন না এবং যারা স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছেন , তাদের জাতি সত্তার জন্য শহীদ মিনার সংরক্ষিত তিনি আরো বলেন, কর্তৃপক্ষের সিটি কর্পোরেশন এবং প্রশাসনের উচিত শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং যারা এর অবমাননা করে তাদের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ। এমই/জেসি


