Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

ত্বকী হত্যার ক্লু পেয়েও তারা বিচার বন্ধ করে রেখেছে : রফিউর রাব্বি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২২, ০৭:৩৮ পিএম

ত্বকী হত্যার ক্লু পেয়েও তারা বিচার বন্ধ করে রেখেছে : রফিউর রাব্বি
Swapno

 

# সংকটগুলো ঘনিভূত হয়েছে
# আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই

 

 

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, এ দেশে খাবার খেয়ে বেঁচে থাকা একটি দুঃসাধ্য বিষয় হয়ে পড়েছে এবং আমাদের দেশে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা যান, সরকার যারা গঠন করেন তারা প্রতিশ্রুতি দেন সংবিধান ছুঁয়ে তারা প্রতিজ্ঞা করেন এই দেশের মানুষের জীবনজীবিকা তারা নিশ্চিত করবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বিচার পাওয়ার অধিকার তারা নিহ্নিত করবে কিন্তু এই সরকার ১৪ বছর দরে একনাগাড়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছে এবং আমরা দেখেছি কিভাবে মানুষের এই দাবিগুলোকে তারা পদদলিত করেছে নিয়ন্ত্রিত একটা বিচার ব্যবস্থা তারা প্রতিষ্ঠা করেছে।

 

নিয়ন্ত্রিত বিচার ব্যবস্থায় তারা বেছে বেছে গুটি কয়েক বিচার সম্পূর্ণ করে দেশেও বিশ্বকে সেটা দেখাতে চায় যে আমার বিচার ব্যবস্থা চালু রেখেছি। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছি কিন্তু প্রকৃত অর্থে যেই অপরাধের সাথে এই সরকার দলের ব্যক্তিবর্গ জড়িত তারা থাকছে ধরা ছোয়ার বাহিরে রাজনৈতিক প্রয়োজনে তারা এই বিচারগুলো সম্পূর্ণ করে থাকে।

 

প্রতিপক্ষকে দমানোর জন্য ঘায়েল করার জন্য তারা আইন বিচার প্রক্রিয়াকে তারা ব্যবহার করছে যথেষ্টভাবে ব্যবহার করছে সাংবিধানিক যেই অধিকারগুলো রয়েছে। সাগর রুনি হত্যার এই বিচারের আবার তারা তদন্তকারী সংস্থা তারা সময় চেয়ে ৮৯ বার তারা সময় নিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন সময় দেওয়ার জন্য এই সাড়ে দশ বছরে অথচ তারা তদন্ত সম্পূর্ণ করতে পারে নাই কেন পারে নাই আমার জানি এর পিছনের রহস্য কি তনু হত্যার বিচার বন্ধ হয়ে আছে।

 

তদন্ত হচ্ছে না সাগর রনি হত্যার বিচার বন্ধ হয়ে আছে তদন্ত হচ্ছে না । তদন্ত না হওয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পেছনে যে কারণ এমপিগুলোর সাথে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ সরকার দলের ব্যক্তিবর্গ তারা জড়িত। তার জন্যই এর বিচর তারা বন্ধ করে রাখে। সরকারের বিরুদ্ধে হলে তারা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে এই বিচার সম্পূর্ণ করে কিন্তু আমার যে বিষয়টি বলে এসেছি সাগর রুনি, তনুর ক্ষেত্রে হচ্ছে তারা বলছে এর ক্লু তারা পাচ্ছে না।

 

হত্যার তাই বিচার আগানো যাচ্ছে না। আর ত্বকীর ক্ষেত্রে হচ্ছে বিপরীত ক্লু পেয়েও তো তারা সেখানে বিচার বন্ধ করে রেখেছে। তাহলে ক্লু পাওয়া আর না পাওয়াটা কোনো বিষয় না। বিষয়টা হচ্ছে সে সরকার দলের না সরকার বিরুদ্ধে সরকার দলের হলে সে সরকারীর ছত্রছায়ায় থাকবে আার অন্যদিকে তাকে বিচারের আওতায় আসতে হবে না। সরকারে এই নীতি নৈতিকতার আমরা তীব্র বিরোধীতা করছি।

 

তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১১১ মাস উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোক প্রজ্বালনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

রফিউর রাব্বি আরো বলেন,  দেশে যে একটি দুঃশাসন তারা প্রতিষ্ঠা করেছে আমরা এর তীব্র নিন্দ্রা জানাচ্ছি।  বিগত দুইটি নির্বাচন কিভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে এটি দেশে এবং সারা বিশ্ব দেখেছে সারা বিশ্ব বলছে যে আগামী নির্বাচন যাতে পূর্বের ধারাবাহিকতায় না হয়। আজকে এই সংকটগুলো ঘনিভূত হয়েছে।

 

রফিউর রাব্বি আরো বলেন, আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। আমরা ত্বকীসহ সাগর রনি, তনু হত্যার বিচার চাই। আমাদের নারায়ণগঞ্জের আশিক, চঞ্চল, বুলুসহ যে সমস্ত হত্যা সংগঠিত হয়েছে সকল হত্যার বিচার চাই। যে মানুষগুলো সীতাকুণ্ডে নিহত হলো আমাদের একটি সরকারী সংস্থা ফায়ার বিগ্রেড এদের ৯জন তারা মৃত্যুবরণ করেছে এবং এই যে মৃত্যুবরণ করলো অর্ধশত মানুষ এর কি কোনো দায় নাই এখানে কোনা অপরাধী নাই। এই কন্টেইনার গুলোতে যে ক্যামিক্যাল ছিল এই বিষয় গুলোতো জানতো তাহলে কেনো বলা হয় নাই।

 

এটি না যেনে যখন তারা আগুন নেভাতে গিয়েছে তখনতো এতোগুলো মানুষ সেখানে ফায়ার বিগ্রেটের এতোগুলো লোক সেখানে মৃত্যুর মুখে ঢলে পরেছে এদেরকেতো অতন্ত সেখানে আইনের আওতায় আনতে হবে। হত্যাকারীরা এই সরকারের ছত্র ছায়ায় থাকে তখন তারা আইনের আওতায় আসেনা। আমার রূপগঞ্জে হাসেম ফুডের সেখানে ব্যাপারে দেখেছি এতোগুলো মানুষের মৃত্যু হলো এরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায়। মামলাগুলো টেকে না। তল্লা মসজিদে এতো মানুষ মারা গেলো এই দায় কেউ নিতে চায় না। এই মামলাগুলো কয়েকদিন পরে সেখানে তামাদি হয়ে যায়। অর্থাৎ এই জায়গায় যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে সংস্থাগুলো রয়েছে সরকারের এদের ব্যর্থতার কারণে এই হত্যাকাণ্ডগুলো সংগঠিত হচ্ছে। এই বিচার করতে হলে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ এবং আমলা দিয়ে অপরাধীদের তালিকায় যুক্ত করে বিচারের কাঠগোড়ায় দাড় করাতে হবে হবে। কিন্তু সরকার এদের পাহারা দিয়ে রাখে। তাই কোনা হত্যারই বিচার হচ্ছে না।

 

সংগঠনের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব, কবি, সাংবাদিক হালিম আজাদ, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, সিপিবি’র জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ এর জেলা সদস্য সচিব আবুনাইম খান বিপ্লব, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলা সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক গবিন্দ সাহা ও খেলাঘর জেলা সাধারণ সম্পাদক ফারুক মহসীন।

 

অনুষ্ঠানে হালিম আজাদ বলেন, আমরা বার বার বলে এসেছি র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ি আজেমেরী ওসমানকে গ্রেপ্তার করতে হবে, এবং তাকে হত্যার নির্দেশ দাতা শামীম ওসমানকে গ্রেপ্তার করতে হবে। কিন্তু উল্টো বিচার বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সরকার দলীয় এমপির সংশ্লিষ্টতার কারণে বিচার বন্ধ হয়ে আছে। তিনি প্রধানপন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা হয়ে কখনো ঘাতক, খুনীদের পক্ষ নিতে পারেন না। আপনাকে ত্বকী হত্যার বিচার করতে হবে।

 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এর পর থেকে ত্বকীর হত্যার বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোকপ্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।এমই/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন