নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দামের ঊধ্বগতির সাথে সাথে লাগামহীন মাছের বাজার। শহরে মাছের পাইকারী বাজার হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে ৩নং মাছ ঘাটের। মঙ্গলবার ভোরে শহরের ৩ নং মাছ ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায় মাছের দামের ঊর্ধ্বগতি হলেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়।
অনন্য দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব এখানেও পরিলক্ষিত হয়। নদীর মাছের দাম অনেক বেশি হলেও সামুদ্রিক মাছের দাম সেই হিসেবে ততোটা বাড়েনি।তবে চাষের মাছের দাম ও ঊর্ধ্বগতি।
বাজার পরিস্থিতী পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ইলিশ ৫০০ ও ১৫০০ গ্রাম ওজনের দাম যথাক্রমে ৮০০ ও ২২০০ টাকা।যার পূর্ববর্তী মূল্য ছিল যথাক্রমে ৬৫০ ও ১৮০০ টাকা। এছাড়াও পুঁিট মাছ একটু বড় সাইজের কেজি ৫০০ যার পূর্ববর্তী দাম ৪০০ টাকা।
রুই মাছ বড় ও ছোট সাইজের দাম যথাক্রমে ৩২০ও ২৮০ টাকা। পূর্ববর্তী দাম ছিলো ২৮০ ও ২০০ টাকা। তেলাপিয়া বড় ও ছোট সাইজের দাম যথাক্রমে ২০০ ও ১৬০ টাকা যার পূর্ববর্তী দাম ১৭০ ও ১৪০ টাকা। পাবদা ৩০০ টাকা কেজি (পূর্ববর্তী দাম ২৫০), গলদা চিংড়ি বড় ও ছোট সাইজের দাম যথাক্রমে ১৫০০ ও ১২০০ টাকা কেজি যার পূর্ববর্তী মূল্য ছিল যথাক্রমে ১০০০ ও ১২০০ টাকা।
ছোট সাইজের চিংড়ির দাম ৬০০ যার পূর্ববর্তী দাম ছিলে ৫০০ টাকা। গুলশা মাছ কেজি ৬৫০ টাকা, পূর্ববর্তী দাম ছিলো ৬০০ টাকা। শোল মাছ ১ কেজির উপরে ৭৫০টাকা, ১ কেজির নিচেরগুলো ৬৫০ টাকা, যেগুলোর পূর্ববর্তী দাম ছিলো ৬৫০ ও ৫৫০ টাকা কেজি। পোয়া মাছ ৩০০ পূর্ববর্তী ২৫০ টাকা, সিলন ৬৫০ ও টেংরা ৬৫০ যার পূর্ববর্তী দাম যথাক্রমে ৬০০ টাকা ছিলো।
এছাড়াও কই মাছ ২০০ পূর্ববর্তী দাম ১২০, পাঙ্গাশ মাছের দাম যথাক্রমে ১৫০ ও ১৬০ টাকা যার পূর্ববর্তী দাম যথাক্রমে ১১০ও ১২০ টাকা। ব্রিগেড ২০০, কারফু ২০০, কালো নলা ২০০, সুরমা ২০০, কাতলা বড় সাইজের ৩৫০, রূপচাদা ৩৫০,সরপুটি ২০০, বাডা ২০০, চেওয়া মাছ ৪৫০ ও ৬০০, বেলে মাছ ৫০০, বোয়াল মাছ ৫০০, বাইন মাছ ৫০০,মলা ৪০০।
ক্রেতারা জানান, দেশে সব কিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর ধারাবাহিকতা মাছের বাজারেও অক্ষুন্ন আছে। আমাদের আসলে কিছু বলার নেই। কার কাছে বলবো, কে শুনবে আমাদের কথা। আমরা আসলে অসহায়। দাম বাড়তি হলেও আমাদের তো খেয়ে বাচতে হবে। অন্যন্য নিত্যপন্যের ঊর্ধ্বগতি দেখতে দেখতে মাছের বাড়তি দাম সহ্য করে নিয়েছি,আমরা অসহায়, মেনে নেয়া ছাড়া কিছু করার নেই।
অন্যদিকে বিক্রেতারা জানান, মাছের বাজার বর্তমানে জমজমাট। নদীতে মাছ কম থাকায় কিছু কিছু মাছের দাম বাড়তি হলেও বেশিরভাগ মাছের দাম অপরিবর্তীত।
আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের অনুপস্থিতে আড়তে প্রশান্ত নামের এক দায়িত্বপ্রাপ্তের সাথে কথা বললে তিনি জানান,বর্তমানে মাছ নদীতে তেমন ধরা পড়ছে না। আগে চাঁদপুর , বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালি, শরিয়তপুর ও নাটোর থেকে প্রচুর মাছ আসলেও এখন তা কমে গেছে।
এছাড়া, পরিবহন খরচ ও বাড়তির দিকে। মাছ চাষে খাবারের দাম বেড়ে গেছে। তা সত্ত্বেও মাছের দাম তেমন ভাবে বাড়েনি। নদীর মাছের দাম বাড়তি হলেও অন্যন্য মাছের দাম অপরিবর্তিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাছের দাম নির্ধারণ করার পদ্ধতি সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, পাইকাররা বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ নিয়ে আসে। এখানে তা নিলামে উঠানো হয়। নিলামে জয়ী পাইকারের কেনা দাম অনূযায়ী বিক্রি শুরু করেন। এখানে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই।
এব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তা সেলিমুজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, তিনি এই মাছের বাড়তি দামের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাকে কোনো ভোক্তা এই ব্যাপারে অভিযোগ জানাননি। অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এসএম/জেসি


