Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

পাঁচ বছর মেয়াদী একটি ব্যয়বহুল প্রকল্প কাঁধে নিয়েছে শফিউদ্দিন

Icon

পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২২, ০৬:৪৬ পিএম

পাঁচ বছর মেয়াদী একটি ব্যয়বহুল প্রকল্প কাঁধে নিয়েছে শফিউদ্দিন
Swapno

গত ১৫ই মে প্রতিপক্ষ্য কিশোর গ্যাংয়ের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন হোসিয়ারী শ্রমিক শুব্রত মন্ডল জয় (২২)। ৬ দিন ভূগে গত ২২ শে মে সিদ্ধিরগঞ্জের প্রো-এক্টিভ হাসপাতালে শুব্রতর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে বড়বোন সম্পা মন্ডল বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্ল্যেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ মামলায় মানিক রায় নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে।

 


এদিকে দেওভোগ, ডিএন রোড, ভূইয়ারবাগ জুড়ে হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবীতে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির সহ ১৯ জনের ছবি দিয়ে একটি ডবল ডিমাই পোষ্টার লাগানো হয়েছে। এ পোষ্টারে মনিরকে হুকুমের আসামী করা হয়েছে। এছাড়া এসব এলাকায় এ হত্যার বিচারসহ হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে অনেকগুলো ব্যানারও টানানো হয়েছে। 

 

এ ব্যানারেও কাউন্সিলর মনিরকে হুকুমের আসামী আখ্যা দেয়া হয়েছে। তবে জানা গেছে, নিহত শুব্রত চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারা কারা তাকে কুপিয়েছে পুলিশের কাছে তাদের নাম বলে গেছে। সেখানে কাউন্সিলর মনিরের নাম নেই। তাছাড়া সম্পা মন্ডল যে মামলা করেছে সেখানেও মনিরের নাম নেই। জানা গেছে, মনির এবং আরো ৬ তরুণের ছবি দিয়ে পোষ্টার ছাপানো হলেও পুলিশের এফ.আই.আরে তাদের নাম নেই। 

 

এদিকে গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে নিহত শুব্রতর মা গৌরি মন্ডল এবং বিবাহীত দু-বোন সম্পা ও লিপি মন্ডলকে তাদের ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধানের গোয়ালপাড়ার বহুতল ভবনে নিয়ে আসা হয়েছে। 

 

সেখানে তাদেরকে শফিউদ্দিন প্রধান বসবাসের জন্য বিনা ভাড়ায় একটি ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়েছেন। একই সাথে তাদের খাওয়া দাওয়ার জন্য ১ বস্তা চাল, ৫ কেজি পোলাওয়ের চাল, ডাল, তেল মসলা ও তরী-তরকারী কিনে দিয়েছেন। শফিউদ্দিন বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে। মানবতার খাতিরে তিনি তাদের আশ্রয় দিয়েছেন।

 


অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১১ই এপ্রিল দেওভোগ দিঘীরপাড় এলাকায় ডিএন রোডের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সাথে দেওভোগ এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় ডিএন রোডের কিশোর গ্যাংটি লক্ষ¥ীরাণী ও পূজারাণীসহ ৫-৬ টি হিন্দু বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। সে সংঘর্ষে ডিএন রোডের কিশোর গ্যাং দেওভোগের কিশোর গ্যাংয়ের দোলন নামের এক তরুণকে কুপিয়ে গুরত্বর আহত করে।

 

 এ ঘটনায় দোলনের চাচাতো ভাই বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ডিএন রোড গ্রুপের নেতা সাবেক ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধানের ভাই, ভাতিজা ও ছেলেকে আসামী করা হয়। এ মামলার ৫ নম্বর আসামী ছিলো নিহত শুব্রত মন্ডল।

 

 সে হামলার প্রতিশোধ নিতেই পরবর্তীতে ১৫ই মে হামলা চালিয়ে শুব্রতকে গুরুত্বর আহত করা হয়। জানা গেছে, ডিএন রোড কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য শুব্রত সাবেক কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধানের ছেলে পবণ প্রধানের বন্ধু এবং একজন মাদকাসক্ত তরুণ ছিলো।

 


অভিজ্ঞ মহলের মতে, শুব্রত হত্যার বিচার দাবিতে পোষ্টার ও ব্যানারের পিছনে লাখ টাকার ওপরে খরচ হয়েছে। এ টাকা খরচ করার ক্ষমতা শুব্রতর পরিবারের নেই। এ টাকা খরচ করেছে সাবেক কাউন্সিলর শফিউদ্দিন প্রধান। শুব্রতর চিকিৎসার পেছনেও শফিউদ্দিন প্রধান অনেক টাকা খরচ করেছেন। এরপর আবার এ পরিবারটিকে একটি ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়ে তাদের ভরন পোষণের দ্বায়িত্ব নিয়েছে শফিউদ্দিন প্রধান। 

 

বিগত নাসিক নির্বাচনে মনিরুজ্জামান মনিরের কাছে বিপুল ভোটে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই শফিউদ্দিন প্রধান এসব করছে। তার উদ্দেশ্য, অত্র এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আগামী নাসিক নির্বাচনে আবার কাউন্সিলর পদ দখল করা। তবে ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটি বেশ ব্যায় বহুল।

 

 এ প্রকল্প সফল নাও হতে পারে। কারণ ইতিমধ্যে অত্র এলাকার হিন্দুরা সবই জেনে গেছে। তাদের ঘরবাড়িতে যে, মনিরের লোকেরা হামলা ও ভাংচুর করেনি তাও তারা যেনে ফেলেছে। হিন্দুদের কথা এলাকার দুই মোড়লের ঝগড়ায় বলি হয় হিন্দু তরুণ, গ্রেফতারও হয় হিন্দু তরুণই।এসএম/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন