Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে আনু-খোরশেদের পদত্যাগের দাবি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২২, ০৭:৩৬ পিএম

শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে আনু-খোরশেদের পদত্যাগের দাবি
Swapno

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক ট্যাংলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের শুধু নামেই শ্রমিক ইউনিয়ন। কাজে কর্মে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাদাঁবাজিই মূল আয়ের উৎস। এই সংগঠনের যারা নেতৃত্বে আসে তাদের বেশির ভাগ নেতাই অল্প সময়ে আঙল ফুলে কলাগাছ বনে যান। অর্থাৎ অল্প দিনে লাখপতি থেকে কোটিপতি হয়ে যান।

 

রোববার দৈনিক যুগের চিন্তায় আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙিয়ে আনু খোরশেদের চাদাঁবাজি শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সোমবার চাদাঁবাজি করে কোটি টাকার মালিক আনু এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ নিয়ে নিতাইগঞ্জসহ শহরের অলিতেগলিতে তাদের নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

 

সেই সাথে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তুলেন শ্রমিকরা। এই আনু খোরশেদকে  শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে পদত্যাগের দাবী তুলেন শ্রমিকরা। তাদের চাদাঁবাজির কারনে পরিবহন মালিকরা অতিষ্ঠ হয়ে আছে।

 

এদিকে অভিযোগ উঠেছে জেলা ট্রাক ট্যাংলরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমানে যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি সহ শ্রমিকদের কল্যান তহবিলের টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ তুলেন খোদ শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন যাবৎ জেলা ট্রাক ট্যাংলরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে খোরশেদ আলম সাব এবং ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে আছেন আনোয়ার হোসেন আনু। 

 

তাদের সহযোগি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ক্যাশিয়ার সাইফুল ইসলাম পলাশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এদের থেকে ইতোমধ্যে কয়েকজন লাখপতি থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। তাকে আর এখন পিছনে তাকাতে হয় না।

 

এদিকে অভিযোগ উঠেছে এখানে মূলত ট্রাক শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের নাম ব্যবহার করে এই সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম সাব এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু চাদাঁবাজি করেন।

 

ইউনিয়নের নামে চাদাঁ তোলা এবং চাদাঁর টাকা ভাগযোগ করে খাওয়াই তাদের মূল কাজ। তাছাড়া শ্রমিকদের অভিযোগ দেড় যুগধরে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হয় না। এখানে নির্বাচন না হওয়ার জন্য আনু খোরশেদকে দায়ী করেন শ্রমিকরা। 

 

তবে সংগঠনের বর্তমান শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের দাবী আগে যাার নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন তারা এই সংগঠনকে জিম্মি করে রেখেছেন। তারা নির্বাচন দিতে চান নাই। কিন্তু প্রায় ১৯ বছর যাবৎ এই সংগঠনের নির্বাচন কেন হয় না তা নিয়ে শ্রমিকদের থেকে প্রশ্ন উঠেছে।

 

একাধিক শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের চাদাঁবাজি এখনো অব্যাহত রয়েছে। শহরের নিতাইগঞ্জকে কেন্দ্র করে এখান থেকে প্রতিদিন নানা নামে বেনামে লক্ষাধিক টাকা চাদাঁ তুলে তারা। এই চাদাঁর টাকা সিংহভাগ টাকা নিজেরা ভাগভাটোয়ারা করে নেন। বাকিটা তাদের উপদেষ্টার দরবারে পাঠান বলে জানান একাধিক ব্যাক্তি। 

 

একটি সূত্র জানান, এখান থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় প্রায় দুশ’ গাড়ি ছেড়ে যায়। প্রতিটি গাড়ি থেকে ৬শ’ থেকে ৭শ টাকা চাদাঁ তুলেন। সে হিসেবে প্রতিদিন লাখ টাকার চাদাঁ উঠে এই সংগঠনের নামে। তাছাড়া বিভিন্ন ঘর থেকে মাসিক নিম্নে ১০ হাজার টাকা মাসোয়ারা পান। যার পরিমান লাখ টাকা হবে।

 

 ট্রাক ট্যাংলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামে কল্যান তহবিল থাকলেও সেখানে শ্রমিকদের কল্যানে তেমন কোন উন্নয়ন হয় না। শ্রমিকরা অসুস্থ্য হলে কল্যান তহবিল থেকে সহযোগিতা করার কথা থাকলেও কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হয় না। তাছাড়া কোন শ্রমিক মারা গেলে তাদের পরিবারকে পর্যন্ত কোন টাকা দেয়া হয় না। 

 

বেশির ভাগ টাকা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন এবং তার সহযোগিরা লুটপাট করে খায়। তাদের পকেটেই এই চাদাঁবাজির মূল টাকা যায়। তার আগে এই টাকার মোটা অংকের অংশ হাজ্বী রিপনের  পকেটে যাইত। এখন যায় আনু এবং পলাশের পকেটে।

 

নগরবাসির অভিযোগ, নিতাইগঞ্জে এই চাদাঁবাজির কারনে শহরের যানজট তৈরী হয়। আর এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হয়। শহরের চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী তুলেন নগরবাসি। এই সকল চাদাঁবাজরা বেশির ভাগ লোকই নারায়ণগঞ্জের বাহিরের। কিন্তু তারা শহরের চাদাঁবাজি করে লক্ষ টাকা কামিয়ে অনত্রে বাড়িঘর বাধেন।

 

সদ্য অতিরিক্ত ডিআইজি পদন্নোতি প্রাপ্ত জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, আমাদের গোয়েন্দা পুলিশ নজরদারিতে রাখছে। তাছাড়া আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

জেলা ট্রাক ট্যাংলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম সাব বলেন, আমাদের এখানে কোন চাদাঁবাজি করা হয় না। আমরা এখানে শ্রমিকদের আপদে বিপদে কাজ করে থাকি। আপনি অফিসে এসে কথা বললে ভালো হয়। 

 

জেলা ট্রাক ট্যাংলরি শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনুর দাবী তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, আমি নির্বাচনের পক্ষে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আমার আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের হাজ্বী রিপন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই সংগঠনের নেতৃত্বে আসেন। তারা নির্বাচন করে আসেনি। নির্বাচন তারাই বন্ধ করে রেখেছে।এসএম/জেসি 

 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন