ফুটপাতের পসরায় গভীর রাতেও জ্বলছে বাতি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২২, ০৮:১৯ পিএম
বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের নির্দেশে মার্কেট ও শপিং মল রাত ৮টার পর বন্ধ রাখা হয়। তবে, ফুটপাতে ব্যবসা করা হকাররা সেই নিয়মকে তোয়াক্কা না করে গভীর রাত পর্যন্ত করছেন নিজেদের পণ্য বিক্রি। এতে এক দিকে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে যেমন প্রভাব পড়ছে, অন্যদিকে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি, ২নং রেল গেট, চাষাঢ়া, কালিরবাজারসহ প্রধান সড়ক গুলোতে এই চিত্র প্রতিদিনের। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ও পুলিশ বলছেন, খুব শীঘ্রই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মধ্যে রাত ৮টার পর দোকানপাট, মার্কেট ও শপিং মল বন্ধ রাখা, এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং, ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে আনা, ইত্যাদি। গত ১৯ জুলাই থেকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।
সরেজমিনে ঘুরে ২৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি, দুই নং রেল গেইট, ১নং রেল গেইট, কালিরবাজার, বঙ্গবন্ধু সড়ক, সলিমুল্লাহ সড়ক, নবাব নিরাজুদৌলা সড়ক ও ফুটপাতে হাজারও হকার পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। এ সকল দোকানের বেশির ভাগ গুলোতেই একাদিক বৈদুতিক বাতিতে আলোকসজ্জা করে রাখা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দোকান গুলো থেকে আলোকসজ্জার জন্য প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয় একটি মহলকে। ডিআইটি এলাকার করিম মার্কেট থেকে শুরু করে গুলশান সিনেমা হল পর্যন্ত অবৈধ বিদ্যুত লাইনের টাকা উঠায় নয়ন, জামান, সুমন নামের তিন ব্যক্তি। আবার গুলশান হলের সামনে থেকে ২নং রেল গেট এলাকার পাবলিক টয়লেট পর্যন্ত টাকা তোলে তাহের মিয়া। এদিকে পুলিশ বক্সের সামনে ফলের দোকন থেকে শুরু করে নগরীর ১নং রেল গেট এলাকা পর্যন্ত টাকার তোলার দায়িত্বে আছেন আল আমিন। এই বিদ্যুৎ চোর সিন্ডিকেট এর মধ্যে চাষাঢ়ায় ৮ জন ব্যক্তি জড়িত থাকার কথা জানা গেলেও তাদের নাম জানা যায়নি।
আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈধ ব্যবসায়ীরা ঠিকই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারী নিয়ম মেনে রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তু ফুটপাতে যারা দোকানদারি করে, তারাতো এমনিতেই অবৈধ। তার উপর আবার বিদ্যুতের চোরাইলাইন ব্যবহার করছে, আর তা দেখেও যেন দেখে না সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যারা অবৈধ ভাবে বিদ্যুতের লাইন ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান বলেন, অবৈধ বিদ্যুত সংযোগের বিষয়ে ইতিমধ্যেই আমাদের সাথে ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জ ডিপিডিসি উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, অবৈধ বিদ্যুত সংযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ বিদ্যুত সংযোগকারীদের উপর ব্যবস্থা নিবো।এসএম/জেসি


