Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

নারায়ণগঞ্জ নগরীও অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে

Icon

অহিদুল হক খান

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম

নারায়ণগঞ্জ নগরীও অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে
Swapno

# লক্ষ্যাকে বাঁচানোর উদ্যোগ এখনই নেয়া প্রয়োজন

 

নারায়ণগঞ্জের প্রাণ সলিল শান্ত ও ছোট্ট নদী শীতলক্ষ্যা। এ নদী এবং নদীর পানিকে উপজীব্য করেই গড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর ও শিল্প নগরী। কিন্তু অবিবেচক দু’কুলবাসীর অত্যাচার ও অবহেলায় এ নদী এখন মরতে বসেছে। শুকনো মওসুমে ঘোড়াশাল থেকে নদীর উৎসমুখ ময়মনসিংহের টোক-বর্মী পর্যন্ত ঊজানের অর্ধেক নৌপথ প্রায় শুকিয়ে আর নদী পদবাচ্য থাকে না। 

 

তখন লক্ষ্যা ক্ষীণ ধারা মজা নদীতে পরিণত হয়। এপথে তখন চার ফুট নব্যতাও না থাকায় কোন নৌযান এমন কি দেশী নৌকাও চলাচল করতে পারে না। লক্ষ্যা-মেঘনা মোহনা থেকে ডেমরা শীতলক্ষ্যা-১ সেতু পর্যন্ত ১১ মাইল নৌপথে (এখানে রয়েছে খাদ্য গুদাম সাইলো ও পদ্মা-মেঘনা তেলের ডিপো) জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনে সারা বছরই ১৪ ফুট নব্যতা ধরে রাখলেও শুকনো মওসুমে এ পথ একটি দুর্গন্ধময় বৃহৎ নিষ্কাশন খালে পরিণত হয়।

 

তখন এ পথ দিয়ে নেমে আসে রূপগঞ্জ থেকে মদনগঞ্জ পর্যন্ত কয়েক হাজার কলকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের নাগরিক বর্জ্য। নদী পারাপারে মানুষকে তখন নাকে রুমালচাপা দিতে হয়। 

 

তবে বর্ষা এলেই লক্ষ্যা আবার প্রাণ ফিরে পায়। তখন ঊজান থেকে এ নদী দিয়ে আদি ব্রহ্মপুত্র, তুরাগ ও বালু নদীর মিলিত ধারা নেমে আসার কারণে নদীতে প্রবাহ বেড়ে যায়। প্রবল প্রবাহে লক্ষ্যায় পুঞ্জীভূত বর্জ্য ও আবর্জন্াও মেঘনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে ভেসে যায়। কালো কুচ্ছিত পানিও দূর হয়ে ঊজানের পানির সঙ্গে বয়ে আসে টলটলে স্ফটিক স্বচ্ছ পানি। জুনের শেষ থেকে অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত বর্ষার চার মাস মুমূষ লক্ষ্যা আবার প্রাণ ফিরে পায়।

 

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানিয়েছে, ময়মনসিংয়ের টোক-বর্মী এলাকায় আদি ব্রহ্মপুত্রের শাখা হিসেবে শীতলক্ষ্যার উৎপত্তি। এরপর ময়মনসিংহ, গাজিপুর, নরসিংদি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ এ পাঁচটি জেলার ভেতর দিয়ে বয়ে এসে লক্ষ্যা মুন্সীগঞ্জের অদূরে মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে। প্রকৃতিগত ভাবে লক্ষ্যা শান্ত ও স্বচ্ছ। এ কারণে দূর অতীত থেকে নিরাপত্তার জন্য নৌযান এনদীতে আশ্রয় নিয়েছে।

 

এ নদীর দু’তীরে ছিল অসখ্য স্বাভাবিক খাড়ি। এ কারণেই নারায়ণগঞ্জ এ দেশের প্রধান নদী বন্দরে পরিণত হয়। স্বচ্ছ পানির কারণে এ নদী তীরে গড়ে বস্ত্র, গেঞ্জি, সাবান এবং গার্মেন্টস্ ও ডায়িং শিল্প। অভিজ্ঞ মহলের মতে, ড্রেজিং ও বর্জ্য প্রবাহ বন্ধের মাধ্যমে এখনো লক্ষ্যাকে বাঁচানোর উদ্যোগ না নিলে নদীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ নগরীও অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন