মীর জুমলা রোড দখল করে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে রুবেল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২২, ০৭:০২ পিএম
# দখলাদারদের কারণে দীর্ঘদিন মৃত এই সড়ক
# এসপি হারুনই পেরেছিলেন এই সড়ক দখলমুক্ত করতে
নারায়ণগঞ্জ দিগুবাবুর বাজার সংলগ্ন মীর জুমলা রোডে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে রোড দখল করে রেখেছেন দিগুবাবুর বাজারের ইজারাদার রুবেল। এই অস্থায়ী দোকানগুলোর কারণে মানুষ এই রোড দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। এ নিয়ে সাধারণ জনগণ সবাই তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছেন। অপর দিকে এই রোডকে ময়লার ভাগাড়ে ও পরিণত করা হয়েছে।
দিগুবাবুর বাজারের ইজারাদার এই রোডে নিয়মিত দুই বেলা দোকান বসিয়ে থাকেন। এই দোকানগুলো রোড দখল করে বসিয়ে তারা প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে থাকে। এই রোডে যে দোকানগুলো বসানো হয়। ওই দোকানের চৌকি প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হয়। যদি দোকান বড় হয় তাহলে সেখানে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা ও দেয়া লাগে নিয়মিত। এই রোডে বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে শুরু করে সিরাজদৌল্লা রোড পর্যন্ত রাস্তার উপরে ফলের দোকান ১২টা, শাক-সবজির দোকান ৩৪টা, মাছের দোকান ১৩টা, আলু,পিয়াজ,আদা, রসুনের দোকান ১৫টা, পানের দোকান ৭টা, মুরগী ও গরুর মাংসের দোকান ১৪টা। এই দোকানগুলো দিয়ে এই পুরো রোড দখল করে দুই বেলায় মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে রুবেল।
এই চাঁদা নিয়মিত তুলেন তাদের লোক স্বপন ও রিয়াজ। এই রোডটি অবৈধ দখলের কারণে সংকীর্ণ হয়ে রয়েছে। রাস্তাটি দিয়ে যানবাহন ও প্রবেশ করতে পারছে না। এই মীর জুমলার প্রধান মুখ যেটা বঙ্গবন্ধু সড়কের সাথে ওইটা বন্ধ করে রেখেছে অস্থায়ী ভ্যানগাড়ি দিয়ে দোকান বসিয়ে। আর সিরাজদৌল্লাহ রোডের সাথে প্রবেশ মুখ রয়েছে সেটা ও বন্ধ করে রাখা হয়েছে হকারদের বসিয়ে।
এই রোডকে দখল করে তারা চাঁদাবাজি করতে করতে এই রোডকে মৃত বানিয়ে ফেলছে। সর্বশেষ মীর জুমলা সড়ক দখলমুক্ত হয়েছিল এসপি হারুন অর রশিদের সময়।
এ বিষয়ে ইজারাদার রুবেল যুগের চিন্তাকে বলেন, সিটি কর্পোরেশন থেকে আমরা সর্বোচ্চ ডাক প্রধানের মাধ্যমে এই বাজারটি পেয়েছি। এটা আমাদের ডাকের বাজার। এই মীর জুমলা রোডে আমরা দোকান বসাই নাই। আর ওই দোকানগুলোর টাকা আমাদের লোকেরাই তোলে কিন্তু এটা কোনো সাবজেক্ট না কে টাকা তোলে, কে তোলে না। সিটি কর্পোরেশন আমাদের ডাক দিয়েছে আমরা ডাক নিয়েছে তাই সব দোকানগুলো থেকে আমরাই টাকা তুলি। সিটি কর্পোরেশন যে ডাক দিয়েছে ওইটাতো রাস্তার উপরে বাজার।
সিটি কর্পোরেশনের নির্দিষ্ট মার্কেট নাই যে আমরা মার্কেটে দোকান বানিয়ে বসবো। আর এগুলো সব পাইকারি বাজার আর সিটি কর্পোরেশন আমাদের ডাক দেয়াতে আমরা এই রোডে বাজার বসিয়েছি। তিনি বলেন আপনি সিটি কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করে দেখেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন তো মীর জুমলা রোডের ইজারা দেয়নি এমন প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের হাট বাজারের এক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামকে মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। এলডি/জেসি


