বিন্নির পক্ষ নিয়ে ব্যবসায়ীর মাথা ফাটালেন রাজু আহম্মেদ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২২, ১২:০২ পিএম
# থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের
চাষাঢ়ায় রেল গেইট সংলগ্ন বাড়ির সামনে সংরক্ষিত কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নির গাছ লাগানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনায় সাংবাদিক রাজু আহম্মেদ; সাংবাদিক সৈকতের ছোট মামা ব্যবসায়ী তমাল আহম্মেদের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। গুরুতর আহত তমাল আহম্মেদকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পর্যবেক্ষণে রেখেছে ডাক্তার। তার মাথার ক্ষত স্থানে তিনটি সেলাই লেগেছে। ঘটনার পরপরই রাজু আহম্মেদ আত্মগোপনে চলে যায়।
এ ঘটনায় থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে তমাল আহম্মেদ জানান, ‘কাউন্সিলর বিন্নি ও আমি চাষাঢ়ায় অবস্থিত একই বাড়িতে ফ্ল্যাট ক্রয় করে স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে বসবাস করে আসছি। বাড়ির সামনের কিছু জায়গায় গাছ লাগাতে গেলে কাউন্সিলর বিন্নি প্রায় সময়ই আমাকে বাধা দেয় এবং আমার সাথে খারাপ আচরণ করে।’
তিনি আরো জানান, ‘আজ (১৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে গাছ লাগানোকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর বিন্নি ও তার স্বামী সাংবাদিক রাজু আমাকে উত্তেজিত কথাবার্তা বলে। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সাংবাদিক রাজু এবং তার এক সহযোগী ইট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। এতে আমার মাথা ফেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এরপর আমার স্বজনরা এবং এলাকাবাসী আমাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আমার মাথায় তিনটি সেলাই পড়ে। এরপর নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করি।’
একই ঘটনায় কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নী থানায় আরেকটি লিখিত অভিযোগে বলেছেন, তমাল আহম্মেদ বাড়ির সামনে ঢেড়শ গাছ লাগাতে না দিয়ে তাকে এবং তার সন্তানদের নিয়ে কটূক্তি করেছেন। ১৩, ১৪ ও ১৫নং ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর (সংরক্ষিত) শারমিন হাবিব বিন্নি রাতে ফোনালাপে দৈনিক যুগের চিন্তা’কে বলেন, ‘তমাল আহমেদ এবং আমি একই বাড়িতে বসবাস করি। সে প্রায়ই আমার বাড়ির সামনে রেলওয়ের জায়গায় গাছ লাগাতে গেলে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে। তমাল আহমেদ এত জঘন্য ভাষায় কথা বলে যে, তা ভাষায় প্রকাশ করার নয়।’
তিনি আরো জানান, ‘আমাকে এই ফ্ল্যাটটি ক্রয় করতে সাংবাদিক রাজু আহাম্মেদ এবং সাংবাদিক সৈকত সহযোগিতা করেছেন। তাই বাড়িতে কোনো সমস্যা হলে সবসময় আমি তাদেরকে জানাই। আজ (১৯ আগস্ট) দুপুর বেলা যখন তমাল আহমেদ আমার সাথে খারাপ আচরণ করছিলো; তখন আমি সাংবাদিক রাজু আহম্মেদকে জানাই। সে আমার বাসার সামনে আসলে তমাল আহমেদ এর সাথে তর্কাতর্কি হয়। তমাল আহমেদ আমাকে এবং আমার সন্তানদেরকে নিয়ে অনেক কটূক্তি করে।’ এসময় কাউন্সিলর বিন্নি বলেন, রাজু আহম্মেদ তার স্বামী নন, কে কি বললো সেটা আমার কথা নয়। আমার ফ্ল্যাট কিনতে সহযোগিতা করেছে বলেই আমি যে কোন সমস্যায় তাকে ডাকি এবং জানাই। আজ এই ঘটনায় আমি সাংবাদিক সৈকতকেও ফোন করেছিলাম। এসময় সৈকত ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেনি। কিন্তু রাজু এসেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাজু আহম্মেদের সাথে তমাল আহম্মেদের বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় রাজু আহম্মেদ ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে তমাল আহম্মেদকে রক্তাক্ত জখম করে। তারা আরও জানায় রাজু আহম্মেদ তমাল আহম্মেদকে গুরুতর জখম করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে এলাকাবাসী ও স্বজনরা তমাল আহম্মেদ উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তবে এব্যাপারে সাংবাদিক রাজু আহম্মেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা যুগের চিন্তাকে জানান, উভয়পক্ষ দুইটি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ দায়ের করেছে। উভয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামীকাল তদন্ত করে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


