# সড়ক থেকে হকার ও ট্রাক সরাতে বাধা
# বিকল্প রাস্তা তৈরি কিংবা বাড়ানোতে বাধা
# মীর জুমলা সড়ক ও শায়েস্তা খান সড়ক দখলমুক্ত করতে বাধা
# শীতল ও মৌমিতা বাসের বিরুদ্ধে মামলায় বাধা
# এমনকি কদম রসুল সেতু তৈরিতেও বাধা
কোন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও উপযোগী পরিবেশ। এর মধ্যে কোন একটি বাদ পড়লে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তবে এরমধ্যে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় তাহলো প্রকল্পের নির্দিষ্ট বাজেট অনুযায়ী অর্থের যোগান দেওয়া। তাই অর্থের যোগানের সম্ভাবনা থাকলেই পরিকল্পনা ও পরিবেশের বিষয় আগানো যায়।
তবে শুধু অর্থের যোগান থাকলেও যদি প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কাজ করার মতো উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়া যায় তাহলেও সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আর্থিক যোগানের স্বল্পতার কারণে বাজেটের আকার ছোট হয়, ফলে চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্প হাতে নেওয়া যায় না।
কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)’র ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের চেয়েও বেশি অন্তরায়; উপযোগী পরিবেশ বা বাধা। অর্থাৎ নাসিকের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের সমস্যা সমাধানে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন অসহযোগিতা। অর্থাৎ চতুর্দিকের অসহযোগিতার কারণে নাসিকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থমকে আছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী।
নাসিকের উন্নয়ন কাজ ত্বরান্বিত করতে অনেকেরই সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে গত ২০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বাজেট পেশ অনুষ্ঠানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এই কারণে শহরের নানাবিধ সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হয়ে তিনি যতটা সমস্যার সম্মুখীন হন, নারায়ণগঞ্জে আর কোনো জনপ্রতিনিধি এমন সমস্যার সম্মুখীন হন না। যেখানে যে কাজ করার দরকার তিনি সেখানে সে কাজগুলো করার চেষ্টা করেন বলেও জানান। তবে এর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি অসহযোগিতার সম্মুখীন হন, বলে জানান তিনি।
এসকল অসযোগিতার কারণে শহরের ফুটপাত থেকে হকার সরানো যাবে না, গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক থেকে ট্রাক সরানো যাবে না, বিকল্প রাস্তা তৈরি কিংবা রাস্তা বাড়ানো যাবে না, মীর জুমলা সড়ক দখলমুক্ত করা যাবে না, খাল দখলমুক্ত করা যাবে না, শায়েস্তা খান রোড অবমুক্ত করা যাবে না, শীতল ও মৌমিতা বাসের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া যাবে না, কদম রসুল সেতু তৈরিতে বাধাসহ অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় মেয়রকে।
এসব বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের সবগুলো অরগনাইজেশন চুপ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই চুপ; কেউ কারো সত্যি কথাটাও বলেন না। আমি একদম একা হয়ে গেছি। প্রেস ক্লাব চুপ, ইউনিয়ন কমিটি চুপ, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ চুপ। কাউন্সিলরগণও সবজায়গায় সমঝোতা করে চলে, কিছু বলে না, উপায় নাই। নাহলে তারাও দুই-চার-পাঁচটা মামলা খাইয়া যাইবো। আগে র্যাব সহযোগিতা করতো; এখন র্যাবও আসে না।
বিভিন্ন অন্তরায়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে মেয়র আইভী বলেন, নগর পরিষ্কারের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন এসপির অধীনে, ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসকের অধীনে। নাসিকের নিজস্ব পুলিশও নাই, ম্যাজিষ্ট্রেটও নাই। অনেকটা হাত-পা বেঁধে চেয়ারে বসিয়ে দেওয়ার মতো। ফুটপাত হকার মুক্ত করতে জীবন বাজি রেখে উচ্ছেদে গিয়ে (২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি) হামলার শিকার হয়ে মামলা দেওয়ার জন্য দেড় বছর ঘুরেও থানায় কিংবা কোর্টে মামলা করা সম্ভব হয়নি।
দেড় বছর পরে হাই কোর্টের অর্ডার নিয়ে ৭ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। তাহলে উচ্ছেদ হবে কীভাবে। ট্রাক মালিকদের রাস্তার উপরে ট্রাক রাখতে নিষেধ করলেও প্রশাসন ও বহু মানুষকে মাসোহারা দিয়ে তাদের চুপ করিয়ে দিচ্ছে। সিটি কর্পোরেশনের এরিয়ার মধ্যে নদীর পাড় ঘেষে বিকল্প রাস্তা তৈরিতেও বাধা।
সেখানে নৌমন্ত্রনালয়ের জায়গা, জেলা প্রশাসকের খাস জায়গা, পাবলিকের জায়গা। তাই সেখানেও কাজ করা অত্যন্ত জটিল। প্রেস ক্লাবে মিটিং করে প্রশাসককে সাথে নিয়ে মীর জুমলা সড়ক উদ্ধার করার পর একবছরও সেটা খালি রাখা সম্ভব হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার কারণে ৪ মাসের জন্য সাময়িকভাবে নিয়োজিত প্রশাসক এসে মীর জুমলা সড়ককে টেন্ডার দিল। ফলে আবারও সেখানে বাজার বসলো। এর পিছনে কারা আছে তা সবাই জানে।
যানজট নিরসনের জন্য শীতল বাস, মৌমিতা বাসের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া যাবে না। তারা চাষাঢ়া দাবড়িয়ে বেড়াবে। এসব করে এক শ্রেণির লোক ও প্রসাশনের কিছু অসাধু লোক টাকা কামাচ্ছে। এর ফলে যারা ভালো কাজ করতে চাচ্ছে, তারা তাদের কাছে অসহায় হয়ে যাচ্ছে।
এ সময় কদম রসুল সেতু নির্মাণেও একটির পর একটি বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। তা নাহলে এর কাজ এতদিনে শুরু হয়ে যেত। প্রথমে কুমুদিনিকে দিয়ে বাধা, তা সমাধান করার পর এখন রেলওয়ের বাধা। রেলওয়ে রাস্তা করার জন্য ১৬ একর জায়গা দিয়ে দিয়েছে অথচ এই ব্রিজের জন্য ১ একর জায়গা দিতে চাচ্ছে না।
রেলওয়ের সার্টিফিকেট পেলে এই প্রকল্পটি টেন্ডারে চলে যেতে পারবে। শায়েস্তা খান রোডের ব্যাপারে প্রসাশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে সিটির বেশিরভাগ কাজের সমাধানই বিভিন্ন অসহযোগিতার কারণে আটকে আছে বলে মেয়র আইভীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠে। এন.এইচ/জেসি


