তারুণ্যের প্রাণকেন্দ্র খ্যাত চাষাঢ়া শহীদ মিনার এলাকা আড্ডা, গল্প, গানে মেতে থাকে সব সময়। তবে বাহারি স্ট্রিট ফুডের জন্যও জনপ্রিয় এই স্থানটি। এখানে পাওয়া যায় বিভিন্ন রকমের চা। এছাড়াও রয়েছে চাপ, ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি সহ বিভিন্ন রকমের মুখরোচক খাবার। এই শহীদ মিনারের সামনে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্রি হয় বিভিন্ন রকমের ফ্রাই। তুলনামূলক কম দাম বলেই তরুণদের মধ্যে এখানের স্ট্রিট ফুডের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।
স্ট্রিট ফুডের জন্য নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনার বেশ জনপ্রিয় হওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা, এমনকি মধ্য রাত পর্যন্ত এই শহীদ মিনার এলাকা সরগরম থাকে স্ট্রিট ফুড-প্রেমীদের ভিড়ে। 'স্ট্রিট ফুড’ বলতে আমরা সহজ বাংলায় ‘রাস্তার খাবার’ কেই বুঝি। নানা অভিযোগ উপেক্ষা করে এই রাস্তার খাবারই তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাস্তার পাশে ঝকঝকে চকচকে দৃষ্টিনন্দন একেকটি ছোট্ট ঘর হয়ে উঠছে মুখরোচক খাবারের কেন্দবিন্দু। নারায়ণগঞ্জের প্রাণ কেন্দ্র চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পাশে বাহাড়ি ‘স্ট্রিট ফুড’ খেতে বিকেল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ভিড় জমে।
কাঁচঘেরা ছোট্ট ‘স্ট্রিট ফুড’ দোকানে হাতে গ্লাভস পরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবেই পরিবেশন করা হয় খাবার। ছোট বড় যে কোনো রেস্টুরেন্ট থেকে তুলনামূলক কম দামে চোখের সামনেই তৈরি করা গরম গরম মজাদার বিভিন্ন রকমের খাবার মন কাড়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর। অপরদিকে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। শুধু চাষাঢ়া নয় নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইদানিং এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে অনেকেই।
স্ট্রিট ফুডের নাম জিজ্ঞাসা করলে আমরা পিঁয়াজু, মুড়ি, চানাচুর মাখাতেই আটকে যাই। অথচ নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে কত পদের খাবার বিক্রি হয়, তার কোনো হিসাব নেই। শরবত বিক্রি হয় একাধিক প্রকারের। চিকেন ফ্রাই থেকে শুরু করে পিজ্জা পর্যন্ত এখানে বিক্রি হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষদের পছন্দের স্থান চাষাঢ়া শহীদ মিনার। তাই এখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন রকম খাবারের দোকান। স্ট্রিট ফুড কিংবা ছোট্ট পরিসরে খাবারের দোকান নিয়ে বসেছেন অনেকে।
হালিম, মুড়ি ভর্তা, ফুচকা, ছোলা, চটপটি, চাপ থেকে শুরু করে চা কিংবা কফি প্রায় সব রকমের খাবার পাওয়া যায় এখানে। নারায়ণগঞ্জের স্কুল কলেজ পড়ুয়া তরুণ প্রজন্মের সান্ধ্যকালীন আড্ডাস্থল নগরীর চাষাঢ়া শহীদ মিনার। সন্ধ্যা নামতেই এই এলাকায় বসে ভ্রাম্যমাণ বাহারি ফাস্ট ফুডের দোকান। বিপদজনক জেনেও এসব দোকানগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে খাবার প্রিয় মানুষের সংখ্যা। শহীদ মিনার এর দেয়াল ঘেষেই সড়কের ধারে সন্ধ্যার পর চোখে পড়ে স্ট্রিট ফুডের বাহারি ভ্রাম্যমাণ দোকান।
কেউ দাঁড়িয়ে কেউবা বসে খাবার খাচ্ছেন, কেউবা আবার অপেক্ষায়। কি নেই এসব স্ট্রিট ফুডশপে। সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী আ. জব্বার বলেন, বন্ধু বান্ধব নিয়ে এসেছেন শহীদ মিনারে ঘুরতে আর মুখরোচক এসব খাবারের স্বাদ নিতে। তিনি বলেন, অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে তুলনামূলক কম দামে এবং ভালো মানের এসব খাবার পাওয়া যায়। নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা আফজাল সর্দার বলেন, প্রতিদিন বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে এখানে চলে আসি। এখানে গরুর শিক কাবাব বেশ মজাদার, দাম একটু বেশি হলেও খেতে ভারি মজা।
এখানকার একজন দোকানদার তানভীর জানান, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। করোনার সময় কয়েকমাস ব্যবসা খারাপ ছিল আমাদের। কিন্তু এখন মোটামুটি ভালোই। এখন ২ জন স্টাফ নিয়ে ভালোই চলছে আমার এই ভাসমান স্ট্রিট ফুড ব্যবসা। তিনি জানান, খাবার পণ্য ক্রয় ও স্টাফদের হাজিরা দিয়ে ২৫০০ টাকার মতো আয় হয়। এখানকার আরেক দোকানদার রিফাত বলেন, আমাদের এখানে মধ্যবয়সী ক্রেতা বেশি। এছাড়া স্টুডেন্টরা বেশি আসে। তবে এখানকার তৈরীকরা এসব খাবার কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি কেউ।
তিন বন্ধু মিলে ঘুরতে আসা ইশরাক বলেন, সন্ধ্যা বেলায় শহীদ মিনারে না আসলে ভালো লাগে না। এখানে এসে এক কাপ চা না খেলে গলা যেন খুস খুস করে। তাইতো আমরা তিন বন্ধু মিলে এখানে এসেছি। কথা হয় মুন্সিগঞ্জ থেকে চাষাঢ়ায় ঘুরতে আসা মিজানুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, চাষাঢ়া শহীদ মিনার বিখ্যাত একটা জায়গা। এখানকার চাপ আমার খুব ভালো লাগে। তিনি আরোও বলেন, শহীদ মিনারের বিভিন্ন রকমের খাবারের কথা ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় আলোচনা হয়।
চাষাঢ়ার শহীদ মিনারে দেখা যায় কয়েকটি বড় কাচের জারে ভিতর শরবত। তাতে বরফ ভাসছে। থরে থরে সাজানো গ্লাস। গ্লাসে কেটে রাখা আছে পেঁপে ও আপেল কুচি। শরবতের নয় পদ সম্পর্কে জানতে চাইলে এখানকার একজন দোকানি বলেন- পানি, চিনি, লেবু, তোকমা, পেঁপে, আপেল, ট্যাং ও রুহ আফজা। এখানে রুহ আফজা অপশনাল। ইচ্ছা হলে খাবেন, না হলে নেবেন না। তিনি বলেন রুহ আফজা নিলে দাম একটু বেশি দিতে হবে।
এখানে আ. আউয়াল নামের আরেকজনও শরবত বিক্রি করছেন। নয়টি উপকরণ দিয়ে তৈরি তার শরবত। তার শরবত কতটা স্বাস্থ্যকর জানতে চাইলে আ. আউয়াল বলেন, কত ভাজাপোড়া খাচ্ছেন, এখানে ফল আছে। সবই ভালো ফল। ভালো করে ধুয়ে কেটে বানানো। বরফ কোথা থেকে আনেন জানতে চাইলে বললেন, ভালো পানি দিয়ে বানানো বরফকল থেকেই বরফ আনেন। প্রতিনিয়তই মানুষের কাছে বৃদ্ধি পাচ্ছে ভাসমান দোকানের তৈরি খাবারের চাহিদা। তৈরি হচ্ছে সম্ভাবনাময় ব্যবসার পরিসর।
এমনই একটি লাভজনক ব্যবসা ফুড কার্ট বা খাবারের গাড়ি। এটি ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে ক্রেতা ও উদ্যোক্তা উভয় পক্ষের কাছে। বিশেষ করে নারী ও স্বল্পপুঁজির মানুষের আয়ের ক্ষেত্র তৈরিতে সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে ফুড কার্ট ব্যবসা। তাই স্ট্রিট ফুড শুধু আমাদের মুখরোচক খাবারের স্বাদই দিচ্ছে না, পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের বেকার শ্রেণির কর্মসংস্থানও হচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, খেতে উপাদেয় বা মুখরোচক হলেও কিছু কিছু স্ট্রিট ফুড অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত ও পরিবেশিত হয় বলে বিভিন্ন জটিল ও মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।
এস.এ/জেসি


