আমাদের পরিবারের ভেতরেও রাজাকার ছিলো :শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:১৪ পিএম
# কথা লুকিয়ে রাখতে পারেননা দাবি এই সাংসদের
নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান তার বক্তব্যে বলেছেন, আমার একটা সমস্যা আমি কথা লুকিয়ে রাখতে পারি না । মুক্তিযুদ্ধ মানে কি, একটা সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। মুক্তিযুদ্ধ মানে কি দেশ স্বাধীন করলাম একটা পতাকা পেলাম, একটা জাতীয় সংগীত পেলাম মুক্তিযুদ্ধ হয়ে গেল। আমি অন্ততপক্ষে এটা মানি না এর কারণ হচ্ছে আমার বাড়ির সবাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলো আমি ছাড়া কিন্ত আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি খুব কাছে থেকে। একেবারে কাছে থেকে দেখেছি। আমি দেখেছি আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান না বলে চলে যাওয়া ক্লাস নাইনে থাকতে, আমি দেখেছি আমার বড় ভাই নাসিম ওসমান যিনি এখন নাই দুনিয়াতে।
আমার ওপর আমার পরিবারের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন যখন আমি ক্লাস থ্রি ফোরের ছাত্র সবাইকে দেখে রেখো যদি আমি ফিরে না আসি। আমি দেখেছি যে আমরা নৌকা দিয়ে যাচ্ছিলাম পালিয়ে আমাদেরকে ধরার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছিলো। আমাদের পরিবারের ভিতরেও রাজাকার ছিলো। পাকিস্তান থেকে আগত, এসেছিলো আমার বাবাকে তখন বিশাল অফার দেওয়া হয়েছিলো। সেই রাতেই আমাদের বাড়িতে হামলা করা হয়েছিলো আমার বড় বোনের পা ফেটে রক্ত বের হচ্ছিলো। আমরা হাঁটছিলাম পাগলের মতো। আমি তো ছোট ছিলাম, বুঝতাম না কিছু। গ্রামের দাদিদের বলছিলাম পিঠা খাবো, ঐ পিঠা বানানো ধরছিলো মাত্র, তখনই শুনলাম এট্যাক হবে গ্রামের বাড়িতে। ওনারা কাদঁছিলেন আর পিঠা গামছায় বেধে দিলেন।
আমার মনে আছে যে আমরা একটা নৌকার ভিতরে ছিলাম, ঐ নৌকায় আমার দুই বোন ছিলেন আমার বড় ভাই নাসিম ওসমান , সেলিম ভাইয়া তো আছেনি আমার আম্মা, আমার আাব্বা ছিলেন।আমি জাস্ট যারা জুনিয়র তাদের উদ্যেশ্যে বলতে চাই বিষয়টা একটু উপলব্ধি করেন আমার ছোট একটা স্বৃতি বলতে চাই আমার মনে আছে তখন পাক বাহিনী গান বোট ব্যবহার করতো ।ঐ গান বোট তখন নদী দিয়ে আসছিলো আমরা তখন এক জায়গা থেকে উঠবো আগরতলা থেকে বেড়িয়ে যাবো বখশি নগর থেকে এরকমই শুনছিলাম। গান বোট থেকে পাকিস্তানি সেনারা ওই নৌকার মাঝির কাছে জিজ্ঞেস করছে নৌকামে কেয়া হে, সামনেও পার্ট ছিলো, পিছনেও পার্ট এখানে আমাদের পরিবারের সদস্য আমি চুকি দিয়ে দেখলাম চিন্তা করছিলাম কি হচ্ছে ঘটনাটা বুঝতে পারছিলাম না।
কিছু দেখলাম। আমার আব্বা আমার বড় ভাইয়ের দিকে তাকালেন। বড় ভাই আমার মেঝ ভাইয়ের দিকে তাকালেন। আমি দেখলাম, অবাক হলাম যে আমার আব্বা একটা ভিজা গামছা নিলেন, আমার বড় ভাই একটা গামছা নিলেন, আমার মেঝ ভাই একটা গামছা নিলেন একটা গামছা আমার আব্বা আমার মায়ের ঘলায় পেচিয়ে ধরলেন, একটা গামছা আমার বড় ভাই আমার বোনের গলায় পেছিয়ে ধরলেন, আরেকটা আমার মেঝ ভাই আমার যে আরেক বড় বোন আছে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরলেন। আমি বুঝতে পারলাম না এই পেঁচিয়ে ধরার কারণটা কি, আমি পরে বুঝতে পেরেছি এই পেঁচিয়ে ধরার কারণটা কি সেদিন বুঝতে পারিনাই। পেঁচিয়ে ধরার কারণ ছিলো ঐ মাঝি লাগাতার মিথ্যা বলে যাচ্ছিলো।
নৌকামে পাঠ হে এভাবে বলে যাচ্ছিলো কিন্ত আমার আব্বা এবং ভাইরা বুঝছিলেন আমরা ধরা পড়ে যেতে পারি।আমার বড় ভাই তখন নাইন থেকে ক্লাস টেন এ উঠেছিলেন।যদি ধরা পরে যাই, তাহলে কি হবে। ধরা পরে গেলে আমার বাবার দায়িত্ব ছিলো আমার মাকে দিয়ে গলা টিপে মেরে ফেলা, বড় ভাইয়ের দায়িত্ব ছিলো বড় বোনকে গলা টিপে মেরে ফেলা এবং মেঝ ভাইয়ের দায়িত্ব ছিলো আমার বোন নার্গিসের গলা টিপে মেরে ফেলা। তারপরও ওদের হাতে যেন ইজ্জত দিতে না হয় এটার নাম মুক্তিযুদ্ধ এবং আমরা ধরা পরি নাই আমরা লাকে ছিলাম অনেকে ধরা পরেছেন যাদের সামনেই অনেক বাবার সামনে তার মেয়েকে কাপড় খুলে ধর্ষণ করা হয়েছে। কতো ভাইয়ের সামনে ভাইকে বাধা হয়েছে গাছের মধ্যে তার বোনকে একের পর এক একের পর এক ধর্ষণ করা হয়েছে। কোন বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে ছিলো পাক বাহিনীর তো জানার কথা ছিলো না।
দেখিয়েছে কে রাজাকার আলবদল আল সামস। ওরাতো এখনো কথা বলে তখনো বলেছিলো ওরা তো মন্ত্রীও হয়েছে।এদের মধ্যে অনেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেও ছিলো তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।খন্দকার মোস্তাককে কি বলবো আমি মুক্তিযোদ্ধা বলবো। তাহলে তো মুক্তিযুদ্ধই থাকেনা।আমার তো মনে আছে আমি তখন ক্লাস ফোরের ছাত্র আগরতলায় খন্দকার মোস্তাক হঠাৎ করে দেখলাম আমার আব্বা দৌড়াচ্ছেন সবাই দৌড়াচ্ছে। খোকা চাচা, আবজাল চাচা , ওনারা সবাই আমার আব্বার সাথে ছিলেন সবাই দৌড়াচ্ছেন কেন কি হয়েছে যে একটা লিফলেট ধরা পড়েছে শেখ মুজিবকে চাও না স্বাধীনতা চাও।মেক্সিমাম মুক্তিযোদ্ধারা তখন মুজিবকেই চেয়েছে কারন তখন স্বাধীনতার থেকেও শেখ মুজিবের দাম বেশি ছিলো।আর এই লিফলেট টা খন্দকার মোস্তাক ছড়িয়েছিলো।
মুক্তিযুদ্ধে যারাই গিয়েছিলো তারা সবাই কি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গিয়েছিলো আমার তো মনে হয় না তাই আজকে আমি একটা কথা বলতে চাই সত্যই সুন্দর। সুন্দর ই সত্য যদি এটাই হয়ে থাকে তাহলে অন্তত পক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের লিস্টের ব্যাপারে কোন আপোষ করা উচিৎ না।আমার মায়ের প্রশ্নে যেমন আপোষ হওয়া উচিৎ না , আমার পিতার প্রশ্নে যেমন আপোষ হওয়া উচিৎ না। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের নাম বাদ দিয়ে আমি অন্য কোন নাম দেখি ঐ পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি ভালো চোখে দেখি না।আমি জানি নারায়ণগঞ্জে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা,মুক্তিযোদ্ধা বলছে কিন্ত তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না এটাই সত্য। আমার মন করি তারা নিজে থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেওয়া উচিৎ এতে তাদের সম্মান বাড়বে কমবে না এবং আমি মনে করি যারা রিয়েল মুক্তিযোদ্ধা তারা এটা মানতে তাদের প্রচন্ড কষ্ট হয়।
কারণ উনি জানের আরেকজন যে বলছে উনি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট জোগার করেছে কিন্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলো না।মুক্তিযোদ্ধা মানে যদি সত্য প্রতিষ্ঠা হয় , মুক্তিযোদ্ধা মানে যদি স্বাধীনতা হয়,তাহলে আমার মনে হয় সত্যটা লিষ্টে থেকেই তৈরী হওয়া উচিৎ।আর আপনাকে ঠিক করতে হবে এনারা কেন জীবন দিয়ে গেছেন।এই ছবি দেখার জন্য ওনাদের। এখানে তো কেউ না থাকতে পারতো কে দেখতে তাদের ছবি।কোন দেশের জন্য আমরা যুদ্ধ করলাম পৃথীবিতে একটা মাত্র রাস্ট্র আছে বাংলাদেশ যেখানে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি যারা একাত্তরে ডায়রেক্টলি বাংলাদেশের বিরোধীতা করেছে তারা এখনো রাজনৈতি করে এবং তারা ক্ষমতায় ছিলো এটা কত লজ্জা আমাদের জন্য ছিঃ কত লজ্জা ।
যারা আপনার আমার মা বোনের ইজ্জত নিয়েছে কথায় কথায় কত বড় ধরনের কথা বলি আমরা মা বোনের সংগম গেছে তোমাদের ভুলবো না শ্রদ্ধা নিবেদন করি এক মিনিট নিরবতা পালন করে দাড়িয়ে আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি দাড়িয়ে আবার বুকে হাত দিয়ে গানও গায় মিলাইয়া মিলাইয়া গাই। ভন্ডামি করি সব আমার কথায় কিছু মনে করবেন না ভন্ডামি এগুলা সব। ভন্ডামি না হলে ওরা ওই সময়ে আলিমরা মন্ত্রী হতে পারে যারা নিজের হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। সাহাদিদের মতো লোক প্রধানমন্ত্রী হতে পারে বাংলাদেশে যে জাতিসংঘে গিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে কথা বলেছে।আমি কোন দলকে আঘাত করছিনা এটা রিয়ালেটি এটা বাস্তবতা মানতে হবে।আমার মনে হয় মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধুর যে ত্যাগ ।
কত ইমানদার জাতি আমরা এখনতো সবাই বঙ্গবন্ধু বলে দুই একজন ছাড়া ওরাও পারলে বইলা ফালাইবো অবস্থা এদিক ওদিক দেখলে। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা এই পরিবারের সবাই বলে। কিন্ত আমরা যারা ৭৫ এর পরে দেখেছি আমাদের কথা টেলিফোনেও কেউ ধরেনাই, না খেয়ে ছিলাম কেউ খাবারও নিয়ে যায়নি। ছরের পর বছরের পর বছর না খেয়ে ছিলাম পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে পারি নাই । মেঝ ভাই নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ময়মনসিংহ বাস চালিয়েছেন, মুরগি এনে বাইতুল মোকারমের পাশে বিক্রি করেছেন।তবে আমরা মাথা নত করি নাই। বাড়ি-ঘর নিলামে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিলো আমার বাবাকে যোগদান করতে বলা হয়েছিলো মাথা নত করে নাই। তাই ওই বাবার সন্তান মাথা নত করেনাই আমরা মাথা উচু করে কথা বলতে চাই।
যদি আমরা সত্যিকারের ইমানদার জাতি হতাম সারে ৩ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে মারতাম না।আর যদি শেখ হাসিনা না থাকতেন আমরা হেন করেন গা, তেন করেন গা আমরা বলতে পারি আমরা ৭৫ এর পর সৃষ্টি হয়েছি। আমরা ৭৯ সনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দিয়েছি। আমরা বলতে পারি আমরা ৭৫ এর বুঝেশুনে রাজনৈতিতে এসেছি। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার চাওয়ায় ধরে নিয়ে পিটিয়ে পিঠে সাইকেল ভাঙ্গা হয়েছিলো। তাই আমার কাছে মনে হয় এখন অনেক কিছুই ভন্ডামি আর নাটক।
এস.এ/জেসি


