বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত আবার বেদখল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৪১ পিএম
ফুটপাত নাগরিকদের হাঁটার সুবিধার্থে তৈরি হলেও নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে মানুষের হাঁটা এখন দুঃসাধ্য এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। শহরের বঙ্গবন্ধু রোডের দুই পাশের ফুটপাত যেন হকারদের পৈতৃক স্পত্তি হয়ে গেছে, হকার নেতাদের আচরনে সেই ভাবখানা ফুটে উঠেছে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে বসা, এটা যেন নিয়মেই পরিণত হয়েছে।
অথচ এই ফুটপাত দখল নিয়ে শহরের নগরবারি প্রতিনিয়ত প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। তাছাড়া শহরের হকার নেতা রহিম মুন্সি ও তার প্রধান সহযোগি আসাদুজ্জামান ফুটপাতে চাদাঁবাজির রাম রাজত্ব কায়েম করছে। তাদের বিরুদ্ধে কে ব্যবস্থা নিবে।
পুলিশ প্রশাসনের সামনেই তারা হকারদের থেকে চাদাঁ তুলে। অথচ প্রশান নিরব থাকে। তাছাড়া ফুটপাতের হকার নেতা আসাদুজ্জামান হত্যার মামলার আসামী হয়েও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। আর এতে করে তারাও ফুটপাতকে পৈতৃক স্পত্তি মনে করছেন।
এদিকে খোজঁ নিয়ে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে শুরু করে, শায়েস্তা খান রোড, সিরাজ্জউদ্দৌলা রোড, শহরের ২ নম্বর রেলগেট থেকে টার্মিনাল ঘাটের দুই পাশের ফুটপাত এখন হকারদের দখলে। তারা এখান ফুটপাত ছাড়িয়ে চলাচলরত রাস্তার ১০ ফুট দখল করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, শহেরর এই আশ পাশের সড়ক গুলোতে কয়েক হাজার দোকানি থেকে দৈনিক ১০০ টাকা করে চাদাঁ তুলে হকার নেতা রহিম মুন্সি ও আসাদের বিরুদ্ধে। তাছাড়া নতুন করে একটি দোকান বসাতে গেলে তাদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে থাকেন। নগরবাসীর মতে এতে করে মানুষ তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে।
সচেতন মহলের মতে, এই হকারদের কারনে শহরের যানজটের প্রধান মুল কারণ। চাদাঁবাজিতো আছেই। বঙ্গবন্ধু সড়কে চাঁদা তুলেন হকার নেতা রহিম মুন্সি ও আসাদ। অপরদিকে শায়েস্তা খান রোডে হকারদের থেকে চাদাঁ তুলেন সোহেল ও তার সহযোগী আব্দুল্লাহ। তার র্যাবের হাতে এর আগে গ্রেপ্তারও হন। যদিও আরও অনেক গুরো কারণ রয়েছে।
তার মাঝে ফুটপাতের হকাররা এখন রাস্তা দখলে নামায় যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই হকারদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী হত্যার সিকার হয়ে কোনরকম বেচেঁ গেছেন। তিনি একাধিক সভা অভিযোগ করে বলেছেন, হকারদের থেকে কারা চাঁদা তুলে তাই এই শহরের সকলে জানে।
কিন্তু যখনি প্রতিবাদ হয় তখন কিছুদিনের জন্য পুলিশের কঠোরতা থাকে। পরে আবার যেই সেই। তবে নারায়ণগঞ্জে যখন এসপি হারুন বর্তমানে ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ ছিলেন তখন ফুটপাত কিভাবে খালি রাখতে হয় তা দেখিয়ে গেছেন।
তার আগে বা পরে পুলিশ প্রশাসনের কেউ তা দেখাতে পারে নাই। নগরবাসির অভিযোগ বর্তমানে যেন নারায়ণগেঞ্জ এসপি আছে তার কার্যক্রমে মানুষ বুঝতে পারে না। কেননা তারা এই ফুটপাতকে মুক্ত রাখতে পারেন না।
অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসা নিষিদ্ধ করেছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু ফুটপাতে হকার বসছেই। এতে বাধ্য হয়ে নাগরিকদের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়কের উপর দিয়ে হাঁটতে হয়। হকারদের সঙ্গে পুলিশের চলে ইঁদুর-বিড়াল খেলা যা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে।
পুলিশের দেখা মিলতেই সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে ছুটে চলে হকাররা। কিন্তু পুলিশের নিত্যদিনের নামমাত্র টহল চললেও স্থায়ী সমাধানে কোন উদ্যোগ নেই। নাসিক তাদের উচ্ছেদের দাবী জানালেও অন্যদের এতে সহযোগিতা নেই।
অভিযোগ রয়েছে, বঙ্গবন্ধু সড়কের বিশেষ করে চাষাড়া থেকে কালিরবাজার গ্রীণল্যান্ড ব্যাংকের মোড় হয়ে নিতাইগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের অবৈধ হকারদের মুক্ত রাখতে চায়। অথচ পুরো শহরের ফুটপাত হকারের দখলে। যেমন সলিমুল্লাহ রোড, চেম্বার রোড, শায়েস্থাখান সড়কসহ বিভিন্ন পয়েন্টের ফুটপাত হকারের দখলে। তাদের নিয়ে প্রশাসন নিশ্চুপ।
নারায়ণগঞ্জের সচেতনমহলের মতে, নারায়ণগঞ্জ শহরে হকারদের উৎপাত যে হারে বেড়েছে, এই অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। জানাযায়, হকারদের থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর হকার্সলীগ সভাপতি রহিম মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান হকারদের থেকে চাদাঁ তুলে থাকেন।
সাধুপৌলের গির্জার সামনে জুতা বিক্রি করে সাইফুল নামের এক হকার জানান, তিনি প্রতিদিন দৈনিক ১শ’ টাকা করে চাঁদা দেন আসাদের কাছে। তাছাড়া মানুষের সাথে তারা প্রতারনা করে থাকেন। দুদিন আগে সাইফুলের দোকান থেকে এক ব্যক্তি তার বাচ্চার জন্য জুতা কিনে নেন।
ওই ক্রেতা যাওয়ার সময় ফুটপাতে জুতা বিক্রি করা জকার সাইফুলকে বলে যান জুতা ছোট হলে তা পাল্টিয়ে দিবেন। গতকাল তা পাল্টাতে আসলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তার দোকান থেকে নাকি এই জুতা নেয়া হয় নাই। এক পর্যায়ে কিরা কসম কেটে ফেলেন এই জুতা বিক্রেতা হকার।
তাছাড়া হকার নেতা আসাদকেও ক্রেতাদের সাথে দূর ব্যবহার করতে দেখা যায়। তাদের অত্যাচারে এখন মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হকার জুবায়ের হোসেন হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ইকবালকে বরিশালের উজিরপুর থেকে গত বছরের ২৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে র্যাব ১১। তখন তিনি র্যাবের কাছে স্বীকারোক্তি দেন হকার নেতা আসাদের হুকুমে ফুটপাতে দোকান বসা নিয়ে জোবায়েরকে হত্যা করা হয়।
আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নূরউদ্দিন শহরের হকার উচ্ছেদ ও যানজট নিরসন প্রসঙ্গে বলেন, এসপি হারুন থাকতে সম্ভব হলে এখন কেন সম্ভব হচ্ছে না। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব ফুটপাত মুক্ত রাখা। বর্তমানে প্রশাসন হকার মুক্ত রাখতে না রাখায় তাদের দায়িত্বের অবহেলার প্রমাণ দিয়েছে।
তাছাড়া এখন হকারদের উতপাত এত বেরেছে তাদের অত্যাচারে মানুষযে শহরে হাটবে সেই সুযোগটাও নেই। কিন্তু আমাদের শহরে ফুটপাতের দুই পাশে এমন ভাবে হকার বসে, পথচারী ফুটপাতের বদলে রাস্তা দিয়ে চলে। যানজটের কথা আর কি বলব, যানজট ছাড়া শহরের সড়কগুলো এখন চিন্তা করা যায় না।
বিভিন্ন সময় ফুটপাত থেকে হকারদের তুলে দেওয়া হলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তা আবারও দখল হয়ে যায়। আর ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বিষয়টিও বহুল আলোচিত। মাঝেমধ্যে ফুটপাতে পুলিশ নামমাত্র টহল দেয়। যা আসলে ফলপ্রসূ নাহ। তাই নাগরিকরা যাতে নির্বিঘ্নে হাঁটতে পাওে সেজন্য ফুটপাতকে হকারমুক্ত রাখাও জরুরি।
আামদের কথা হলো নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি হারুন যখন ছিল তখনতো হকার মুক্ত ছিল। তাহলে পুলিশ প্রশাসন এখন পারে না কেন। আমরা নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমস্যা নিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারি শহীদ মিনারের সামনে প্রতিবাদ সভা করবো। নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) সোহান সরকার জানান, হকার উচ্ছেদ করা আমাদের দায়িত্ব না।
থানা পুলিশ হকারদের উচ্ছেদ করবে। তবে রাস্তায় কোন দোকান থাকলে তা আমরা উঠিয়ে দেই। নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমানের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। এবিষয়ে হকার নেতা রহিম মুন্সির সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। এন.এইচ/জেসি


