Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

বেড়েছে শীতবস্ত্র আর জুতা বিক্রি

Icon

আবু সুফিয়ান

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:১৬ পিএম

বেড়েছে শীতবস্ত্র আর জুতা বিক্রি
Swapno

 

গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে কাঁপছে পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে মানুষ ছুঁটছে গরম পোষাকের সন্ধানে। প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন কাপড়ের দোকান এবং ফুটপাতে শীতের পোষাক কিনতে দেখা যায় মানুষের ঢল।

 

 

শুধু শীতের কাপড় নয় শীত থেকে বাঁচতে বিভিন্ন ধরনের জুতা কিনতে শহরের জুতার দোকানেও মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়। ফুটপাতসহ কাপড়ের দোকানগুলোতে সন্ধ্যা থেকে বিক্রি জমে ওঠে, চলে রাত পর্যন্ত। কিন্তু এখন শীত বাড়ায় দুপুর থেকেই বিক্রি শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচা-কেনা।

 

 


নারায়ণগঞ্জে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মার্কেট গুলোতে বেড়েছে শীতবস্ত্রের বিক্রি। শেষ রাতের দিকে শহরের জনজীবনে শীতের প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভোরের ঠান্ডা বাতাস প্রতিনিয়ত শীতের উপস্থিতির বার্তা দিচ্ছে। শীতের হিমশীতল অনুভূতি থেকে বাঁচতে গরম কাপড় কিনতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ফুটপাতসহ মার্কেটগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।

 

 

বিক্রেতারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডা বেশি থাকায় শীতের কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। তাই ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় নারায়ণগঞ্জের শপিং সেন্টারেও প্রায় একই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারা পছন্দের জ্যাকেট, সোয়েটার ও বিভিন্ন ধরনের শাল দেখে পছন্দ হলে কিনে তবে বাড়ি ফিরছেন। শীত নিবারনে শীতবস্ত্রের পাশাপাশি বেড়েছে জুতা বিক্রিও।

 

 

বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বিভিন্ন রকমের জুতার দোকানের ভির দেখে বোঝা যায় শীত নিবারনে পোষাকের পাশাপাশি বেড়েছে জুতারও কদর। জুতা কিনতে আসা মমিনুল ইসলাম বলেন, পায়ে ঠান্ডা বেশি লাগে। পা ঠান্ডা থাকলে শরীর গরম হয় না বলে তিনি জানান। আরেক জুতা ক্রেতা মিলন বলেন, মীত বেশি পরেছে তাই বাচ্চার জন্য জুতা মোজা কিনতে আসছি।

 

 


সপ্তাহ থেকেই বিভিন্ন অভিজাত মার্কেট ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শীতের কাপড়ের পসরা নিয়ে বসেছেন ভ্রাম্যমান হকাররা। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের থেকে এবার ব্যবসা ভালো। গত সপ্তাহ থেকে শীত বাড়ায় ক্রেতারা দোকানে আসছেন। বেচা-কেনাও ভালো হচ্ছে।

 

 

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের থেকে এ বছর বেশি মুনাফা পাবার কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীরা অন্য বছরের মতো আধুনিক ডিজাইনের শীতের কাপড় নিয়ে এসেছেন। ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণীরা সেইসব পোশাক কিনতে ইতোমধ্যে মার্কেটে আসা শুরু করেছেন।

 

 

সায়াম প্লাজার কাপরের দোকানে আসা ক্রেতা মামুন হাসান বলেন, শীত শুরু হয়েছে তাই নিজের জন্য ও বাচ্চাদের জন্য শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। তবে এবার গত বছরের তুলনায় দাম একটু বেশি। দাম বেশি হলেও কিনতে তো হবে। বঙ্গবন্ধু সড়কে হাসানুর রহমান বলেন, সপ্তাহ থেকে ঠান্ডা বেড়েছে। তাই গরম কাপর কিনতে আসা। তবে দাম গত বছরের তেকে একটু বেশি। পরিবারের সবার জন্য প্রয়োজনীয় গরম কাপড় কিনতে এসেছি। একটি কম্বল, বাচ্চাদের সুয়েটার এবং নিজের জন্য একটি শাল নেবো ভেবেছি।

 

 

সায়াম প্লাজার সামনে ফুটপাত থেকে দেখেশুনে শীতের কাপড় কিনছেন দিনমজুর আব্দুর রহমান তিনি জানান, ছেলে মেয়েরা বায়না ধরেছে, শীতের কাপড় কিনে দিতেই হবে। এছাড়া যে এলাকায় থাকি সেখানে অনেক ঠান্ডা। শেষ রাতের দিকে শীতের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। শীতের কষ্টে ছেলে মেয়েরা ঘুমাতে পারে না। তাই কিছু গরম কাপড় কিনেছি।

 

 

তিনি আরোও বলেন, নিজে ঠান্ডায় কষ্ট করে থাকলেও ছেলে মেয়েদেরকে তো আর ঠান্ডায় রাখতে পারি না। কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে , গত এক সপ্তাহ ধরে মার্কেটে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। বেচাবিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে গত বছরের থেকে দ্বিগুণ লাভ হবে। ব্যবসায়ীরা জানান, শীতবস্ত্রের ব্যবসা হল মৌসুমী ব্যবসা। কাপড় অবিক্রিত থাকলে এক বছর পর্যন্ত পড়ে থাকবে। কাপড় পরে থাকলে লাভ তো দূরের কথা বরং লোকসান হবে।

 

 


নারায়ণগঞ্জ শহরের কালির বাজারে শীতের কাপড় কিনতে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সোবহান সরকার। তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, এবারের মত শীত আমি কোন বছরেও দেখি নাই। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। তীব্র শীত খেটে খাওয়া মানুষসহ সাধারনের জীবনযাত্রা বিপন্ন করে তুলছে। তীব্র শীতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ, দিনমজুর ও চাকুরিজীবিদের। শীত নিবারনে গরম কাপড়ের অভাবে তাদের অনেককেই কষ্ট পোহাতে হয়।  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন