নিতাইগঞ্জে ডিও’র নামে সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৩১ পিএম
# বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ডিও কিনলেও পণ্য উত্তোলন করেনা
# এখানে উদাসীন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
নারায়ণগঞ্জের সব চাইতে পাইকারি বড় বাজার হচ্ছে নিতাইগঞ্জ। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই পাইকারি বাজারে সূর্যাস্তের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে হাজারও মানুষের আনাগোনা। আটা-ময়দা, ভূষি, চাউল-ডাল, তেল, চিনি, লবণ, মসলাসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যেও বেচা বিক্রিতে ব্যস্ত থাকে এই পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জ।
বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টি জেলার মালামাল যেত এই নিতাইগঞ্জ থেকে। কিন্তু আগের ব্যবসার সেই জৌলুস এখন আর নেই। এক সময় দৈনিক নিতাইগঞ্জে ২০০ কোটি টাকা লেনদেন হলেও এখন এটা ১০০ কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে।
এখন এই নিতাইগঞ্জ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে ব্যবসায়ীরা। এখানকার ব্যবসায়ীদের মতে, করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা বড় কোম্পানিগুলো এখন আটা-ময়দা, চাল, ডাল, লবণ, চিনি, তেল সহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় চলে এসেছে। তারা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের এজেন্ট এর মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে।
একসঙ্গে অনেক পণ্য এক খরচে চলে যাচ্ছে, তাছাড়া বড় বড় কোম্পানির পণ্যগুলোর মূল্যও কম। এ কারণে ব্যবসায়ীদের আর মোকামে আসতে হচ্ছে না। আবার যেসব এলাকায় কৃষিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে, সেসব এলাকায় মিলকারখানা গড়ে উঠেছে।
অঞ্চলভিত্তিক বাজার তৈরি হয়েছে। যার ফলে আগে নিতাইগঞ্জ থেকে ৪০ জেলায় মাল যেত, এখন তা নারায়ণগঞ্জের আশপাশের জেলা এবং সিলেট ও ময়মনসিংহসহ ১০-১২ জেলায় সীমিত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে নতুন কায়দায় রমরমা জুয়ার ব্যবসা হচ্ছে ডিও। দেশের বিভিন্ন বড় বড় কোম্পানিগুলো পামঅয়েল, সয়াবিন, চিনি, ময়দা, ভূষি, ডাল সহ বিভিন্ন পণ্য এখন ডিমান্ড অর্ডারের (ডিও) মাধ্যমে বিক্রি করে।
নিতাইগঞ্জে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে তারা বিভিন্ন কোম্পানিগুলো থেকে ডিও কিনলেও পণ্য উত্তোলন করে না। দফায় দফায় হাত বদল করে তারা পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে। এমনও ডিও আছে যেটা এক বছর ধরেও হাত বদল হচ্ছে।
কয়েকজন ব্যবসায়ী একাধিক ডিও কিনেও পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি মাধ্যমে পণ্যের বাজারে মূল্য বৃদ্ধি করছে। এই ডিওর বেচাকেনার কারণে প্রতিদিনই বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা সকালে এক দাম, দুপুরে এক দাম ও বিকেলে এক দাম করে হাত বদল করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করছে।
জানা যায়, নিতাইগঞ্জ ডাউলপট্টি এলাকায় গোপিনাথ ভান্ডারের সামনে প্রতিদিন এই ডিওর জুয়া চলে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েকজন সেন্ডিকেট করে এই ডিওর ব্যবসা করে। এর মধ্যে রয়েছে গোপিনাথ ভান্ডারের বড় ভাই নারু ও তার ছোট ভাই সঞ্চয় সহ আরও কয়েকজন।
প্রতিদিন আটা, ময়দা, তেল, চিনি, ডালের ডিওর ট্রেড হলেও কিন্তু পণ্য বাজারের আসে না। এই পণ্য মাসের পর মাস হাত বদল করেন দাম বৃদ্ধি করছে। আর এই দাম বৃদ্ধির কারণেই বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাজারগুলোতে পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ ডিও জুয়া। ডিও জুয়া বন্ধ হলে দেশে ভোগ্যপণ্যের দাম কমছে। তাই এখন থেকে এই সকল সিন্ডিকেট ডিও জুয়ার ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এদিকে অসাধু উপায়ে সিন্ডিকেট করে পণ্যের এমন দাম বৃদ্ধির মূল কুশীলবদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদাসীন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।


