Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

বিকেল হলেই ঈদগাহ হয় খেলার মাঠ

Icon

আবু সুফিয়ান

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৬:২৫ পিএম

বিকেল হলেই ঈদগাহ হয় খেলার মাঠ
Swapno


# হাঁটার জন্যও পিছিয়ে নেই স্বাস্থ সচেতনরা


শরীর ও মনকে ভালো রাখতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নাই। খেলাধুলা মানুষের মনের দুঃশ্চিন্তা দূর করে। অস্থির মনকে স্থির করতেও খেলাধুলার কোন বিকল্প নাই। খেলাধুলা দৈহিক পরিশ্রমের ক্ষমতা বাড়ায়। তাছাড়া চরিত্র গঠনেও খেলাধুলার প্রয়োজন অনেক। আর তাইতো বিকেল হলেই নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ পরিনত হয় এক খেলার মাঠে।

 

 

শুধু খেলাধুলা করতে নয় এই ঈদগা মাঠে বিকেলে হাটতে আসেন স্বাস্থ্য সচেতন নারী-পুরুষও। ক্রিকেট খেলতে আসা মাহিন বলেন, প্রতিদিন বিকেলে স্কুল শেষে মাঠে না আসলে ভালো লাগে না। মাহিন বলেন, বিকেলে ক্রিকেট খেললে মন চাঙা হয়। বাসায় পড়তে বসলে একঘেয়েমি লাগেনা। হৃদয় ও তার নয় বন্ধু ফুটবল খেলতে এসেছেন এই মাঠে।

 

 

হৃদয় বলেন, আমরা বিকেলে সময় পেলেই মাঠে আসি ফুটবল খেলতে। হৃদয়ের ফুটবল প্রেমী বন্ধু রাসেল বলেন, প্রতিদিন বিকেল হওয়ার আগেই আমরা চলে আসি এই মাঠে। কারন দেরি করে আসলে মাঠে জায়গা পাওয়া না। জায়গা না পেলে খেলবো কোথায়? তাই আগে আগেই চলে আসি।

 

 

প্রতিদিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে অনেক অভিভাবক নিয়ে আসেন তাদের ছেলে-মেয়েকে। এমনি একজন অভিভাবক মো. আশিকুর রহমান। স্কুল শিক্ষক আশিকুর রহমান তার ছেলে রাইয়ানকে নিয়ে এসেছেন এই মাঠে। সুনাগরিক ও স্বাস্থ সচেতন এই পিতা বলেন, সু-নাগরিক হতে হলে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। খেলাধুলা মনকে সচেতন করে তোলে।

 

 

অপরাধ কর্মকাণ্ড থেকে সমাজকে দূরে রাখে। তাই ভালভাবে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং খেলাধুলার সুন্দর পরিবেশের কোন বিকল্প নাই। শিক্ষক মি. রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি লেখাপড়ার সাথে খেলাধুলায় মগ্ন থাকে তাহলে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাস, মাদক তাদের স্পর্শ করতে পারবে না।

 

 

এই মাঠে ক্রিকেট খেলতে এসেছেন মোঃ আল আমিন। এই খেলোয়ারা বলেন, দেশকে মাদকমুক্ত ও সমাজকে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এই ঈদগা মাঠে সকাল-বিকেল হাঁটতে আসেন মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, আমি এই মাঠে প্রতিদিন হাঁটি। কোন দিন সকালে আসতে না পারলেও বিকেলে অবশ্যই আসি। শরীরে মেদ জমে গেছে।

 

 

তাই এখন হাঁটার কোন বিকল্প নাই। আমিনুল হক-এর সাথে এসেছেন তার এক বন্ধু ইমতিয়াজ। তিনিও বলেন একই কথা। তিনি বলেন, বাসায় থাকতে থাকতে দম যেন বন্ধ যায়। তাই এখানে এসেছি একটু হাঁটা হাঁটি করার জন্য। ঈদগা মাঠে হাঁটতে আসা রাশেদুল ইসলাম বলেন, টানা একঘেয়ে কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছি।

 

 

একটানা কাজ করতে করতে ভীষন ক্লান্ত লাগছে। তাই এখানে একটু হাঁটার জন্য আসছি। এই মাঠ হাঁটতে আসা রমিজা বেগম বলেন, হাঁটতে আসি প্রতিদিন কিন্তু সমস্যা একটাই। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্রিকেট আর ফুটবলের কারনে আমরা ঠিক মত হাঁটতে পারি না। হাঁটতে আসলে প্রতিদিনই ফুটবল অথবা ক্রিকেট বল শরীরে লাগবেই।

 

 

যারা এখানে নিয়মিত খেলে তারা যদি একটু সাবধানে খেলাধুলা করতো তাহলে আমরা একটু নিরাপদে বিকেলে হাঁটতে পারতাম। তিনি আরোও বলেন, গত কয়েকদিন আগে এক মহিলার শরীরে ফুটবল লেগে আহত হয়েছিল। এখানকার কয়েজন নিয়মিত ক্রিকেট এবং ফুটবল খেলোয়ারদের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তারা বলেন, আমরা এখানে যথেষ্ট সাবধানেই খেলি।

 

 

আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের খেলার কারনে যেন কারো কোন ক্ষতি না হয়। সাজ্জাদ নামের একজন বলেন, আমাদের খেলার কারণে কারোও কোন সমস্যা হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমরা সচেতন। শেষে তিনি বলেন, যারা এখানে নিয়মিত হাঁটতে আসেন তাদেরও কিছুটা সাবধানে হাঁটা উচিৎ।

 

 

পরিশেষে তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সবাইকে খেলাধুলায় আরও বেশি করে সম্পৃক্ত হতে হবে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন