Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

বন্ধ ট্রেন চলাচল কমেনি যানজট

Icon

আবু সুফিয়ান

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৩৯ পিএম

বন্ধ ট্রেন চলাচল কমেনি যানজট
Swapno

 

# সময় ও অর্থ গচ্চার সাথে যাত্রীদের ভোগান্তি
 

সময় ও অর্থ বাচাঁনোর জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য ট্রেনকেই বেছে নেন নারায়ণগঞ্জের সাধারন যাত্রীরা। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ এবং ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের জন্য গত ৪ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জে যানজটের অন্যতম কারন হিসেবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন আপ-ডাউনকে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মহল। এই মনে করার তালিকায় নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক বিভাগ প্রথমে। কিন্তু বাস্তব দৃশ্য তো ভিন্ন। নারায়ণগঞ্জের ট্রেন, ট্রেনের আপ-ডাউন, শহরের যানজট আর ব্যস্ত সড়কের বিভিন্ন বাহন তো বলে ভিন্ন কথা।

 

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজটের জন্য দায়ী নয় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের ট্রেন আপ-ডাউন। এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ গত ৪ ডিসেম্বর। কিন্তু আজ পর্যন্ত কমেনি শহরের যানজট। এই যানজটের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন আন্ডারপাস এবং ওভারপাস। এমনটাই মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদসহ নারায়গঞ্জের সচেতন মহল।

 

 

এদিকে ট্রেন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে ঢাকা গামি সাধারন যাত্রী। তারা বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া গুনে বাস সহ বিভিন্ন বাহনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন এবং ফিরছেন। ঢাকা নারায়ণগঞ্জের নিয়মিত ট্রেন যাত্রী মো. আল আমিন শেখ। তিনি বলেন, আমি ট্রেনে অল্প টাকায় আগে ঢাকায় যেতাম। ২০ টাকা হলেই নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা যেতে পারতাম। গত ৪ ডিসেম্বর থেকে ট্রেন রেল পথ উন্নয়নের জন্য বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়েই বাস দিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যাচ্ছি। এতে আমার টাকাও বেশি লাগছে আবার সময়ও বেশি লাগছে।

 

 

সম্প্রতি রেল মন্ত্রী নারায়ণগঞ্জে আসেন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর সুবিধার জন্য দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। রেলে মন্ত্রী জানান, ঢাকা নারায়ণগঞ্জ রেল পথে ডাবল লাইনের কাজ শেষ হলে প্রতিদিন এই পথে ৫০ বার ট্রেন আসা যাওয়া করবে। রেল মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, রেলের ডাবল লাইনের কাজ শেষ হলে নারায়ণগঞ্জবাসী খুব সহজে ঢাকা যেতে পারবে। কাজ শেষ হলে ১৫ থেকে ২০ মি. সময় লাগবে।

 

 

ট্রেন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পরেছেন পাগলার কলেজ শিক্ষার্থী মো. মিনহাজুল ইসলাম। পাগলার এই শিক্ষার্থী বলেন, আগে ট্রেন চলত আমি ট্রেনেই আসতাম। নারায়ণগঞ্জে আসতে কোন ভাড়া লাগতো না। শিক্ষার্থী বলে এই বিশেষ সুবিধা নিতাম। কিন্তু এখন গত ৪ ডিসেম্বর থেকে ট্রেন বন্ধ থাকায় ব্যাটারি চালিত অটো রিকসায় কলেজে আসছি। তাতে ভাড়া তো বেশি লাগছে।

 

 

মিনহাজুল ইসলাম জানান, অটো দিয়ে আসতে এখন ডাবল ভাড়া লাগছে। ট্রেন বন্ধ থাকায় অটো চালকরা দ্বিগুন ভাড়া নিচ্ছে বলে তিনি জানান। এদিকে চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের অসুস্থ রোগীরা নির্ভরশীল ট্রেনের ওপর। এমনই একজন ফতুল্লার আজগর আলি। তিনি বলেন, ট্রেনে গেলে ঝাকুনি কম লাগে। তাই ডাক্তার দেখাতে আমি সব সময় ট্রেনেই ঢাকায় যাই। তাছাড়া এতে সময় ও টাকা কম লাগে। কিন্তু গত কিছু দিন ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ঝুঁকি নিয়েই বাসে যাচ্ছি ঢাকায় রোগী দেখাতে।

 

 

তিনি আরোও বলেন, রোগীদের জন্য ট্রেন সব থেকে নিরাপদ। এদিকে বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মহল বলে থাকেন, যে শুধু ট্রেন চলাচলের জন্যই নারায়ণগঞ্জে যানজট লেগে থাকে। এ বিষয়ে সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী অমিত কুমার বলেন, ট্রেনের জন্য যদি যানজট হতো তাহলে এখন তো ট্রেন বন্ধ। সেই ডিসেম্বর বাস থেকে নারায়ণগঞ্জ-এ ট্রেন চলাচল বন্ধ। তাহলে শহরের যানজট দূর হচ্ছে না কেন । তিনি আরোও বলেন, এসব কিছুই না। ট্রেন বন্ধ রেখে শহরের ঢাকাগামী বিভিন্ন বাসের বিশেষ সুবিধার জন্যই এমনটা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন