হাওয়াই মিঠাই বিক্রির টাকায় চলে রাসেল মিয়ার সংসার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:৪২ পিএম
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি, দারিদ্র্য আর অবহেলায় মানুষ কি করবে কিছু বুঝতে না পেরে তখনি নেমে আসে রাস্তায়, তেমনি রংপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের এসে হাতে একটি বাশের লাঠি নিয়ে হাটছে আর বলে বেরাচ্ছে লাখবে নাকি মজাদার হাওয়াই মিঠাই দাম মাত্র ১০টাকা। যা দেখলে ছোট বড় সকলের খাওয়ার ইচ্ছা জাগে আর চোটরা তো না নিয়ে যাবেই না কোথাও যা সকল বয়সীদের জনপ্রিয় হাওয়াই মিঠাই।
বলছিলাম রাসেল মিয়ার কথা, গ্রাম থেকে এসে শহরে পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে হাওয়াই মিঠাই। রোজ মাত্র ২০০ টাকা রোজে কাজ করে তিনি সারাদিন। মাসে ৬ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন রাসেল বাড়িতে আছে মা, বাবা, বোন হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করেই চলে তার সংসার। রাসেল একমাত্র ভরসা অভাবী ঘরের সংসার।
রাসেল গাড়িতে গাড়িতে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে, এছাড়াও মেলায়, পূজা-পার্বনে, পথে পথে ঘুরে ঘুরে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে সংসার চালায়। চরকি কলের সাথে চিনি ও রং মিশিয়ে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর এই হাওয়াই মিঠাই। বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চারা এই হাওয়াই মিঠায়ে আকৃষ্ট। ঘর সংসার চালাতে গিয়ে রাসেল সব সময়ই গুরু দায়িত্ব বহন করে চলছে। এতটুকু যেন ক্লান্তি নেই, ফুরসত নেই তার মধ্যে। দ্রব্য মূল্যের বাজারে এটি বিক্রি করেই সে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। আবার অসুস্থ মা কে ডাক্তার দেখায়, ঔষধও কিনে দেয় সে।
নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া শহীদ মিনারে বসে কথা হয় রাসেল এর সাথে কথা হলে জানান, ভাই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এত কষ্ট ক্লান্তি করে বাঁচি কিন্তু কারো কাছে হাত পাতি না । তাই বলে জীবন যুদ্ধে বসে নাই হাওয়াই মিঠাইতেই জীবন তাতেই চলে আমাদের সংসার। আমাদের কারখানা দেওবোগ নাগবাড়ি এলাকায় আমরা ৬ জন কাজ করি তাদের সকলের বেতন ৬ হাজার টাকা করে। প্রতিদিন আমাদের একশ পিছ হাওয়াই মিঠিই বিক্রি করতে হয়, না হলে আমাদের কারখানায় ফেরা হয়না।


