গুলিতে আহত রেস্টুরেন্ট ম্যানেজারের মৃত্যু, বাবা-ছেলে কারাগারে
এম. সুলতান
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:০৮ পিএম
# রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ম্যানেজার
শহরের চাষাড়া বাগে জান্নাত মসজিদের পাশে আঙ্গুরা প্লাজার মালিক আজহার তালুকদারের ছোঁড়া গুলিতে গুরুতর আহত ‘সুলতান ভাই কাচ্চি রেষ্টুরেন্ট’ এর ম্যানেজার সফিকুর রহমান কাজল (৫০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন রেস্টুরেন্টের কর্মচারী মনির। মনির যুগের চিন্তাকে জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে বাড়িওয়ালার গুলিতে গুরুতর আহত রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সফিকুর রহমান কাজল মারা গেছেন।’
রোববার রাতে রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে তাণ্ডব চালিয়ে নারীসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ করে আহত করার ঘটনায় বাড়িওয়ালা আজহার তালুকদারের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন রেষ্টুরেন্টের মালিক শুক্কুর আলী। এদিকে মামলার প্রধান আসামী আঙ্গুরা প্লাজার মালিক আজহার তালুকদারকে (৬৫) ও তার পুত্র আরিফ তালুকদার মোহানকে (২৫) কে আদালতে পাঁচ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারী) সদর থানা পুলিশের রিমান্ড আবেদনের পর আজ মঙ্গলবার শুনানীর দিন ধার্য্য করে আসামী আজহার তালুকদারকে (৬৫) ও তার পুত্র আরিফ তালুকদার মোহান (২৫) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত এমনটি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান।
রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আঙ্গুরা ভিলার নিচতলায় ওই রেস্টুরেন্টে এলোপাথাড়ি গুলি করে পাঁচ জনকে আহত করে আঙ্গুরা প্লাজার মালিক আজহার তালুকদার। এঘটনায় তখন আহত হন- রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সফিকুর রহমান কাজল (৫০), কর্মচারী ইউনুস, (৩৫) আউয়াল (৩০) ও জনি (১৬) ও আজাহার তালুকদারের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে আঁখি (১৭)। এর মধ্যে রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার কাজলের অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় সুলতান ভাই কাচ্চি রেস্টুরেন্টের মালিক শুক্কুর মিয়া এজহারে উল্লেখ করেন, দশ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় মার্কেট মালিক তার ছেলেকে সাথে নিয়ে এসে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার শফিউর রহমান কাজল ও কর্মচারী জনিকে গুলি করেন।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিল ও পানির সংযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় আঙ্গুরা শপিং কমপ্লেক্স ভবনের মালিক আজাহার তালুকদারের লাইসেন্স করা অস্ত্রের গুলিতে গুরুতর আহত হন ভাড়াটে রেস্টুরেন্ট ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’র ম্যানেজার শফিউর রহমান কাজল ও কর্মচারী জনি। পরে গুলিবিদ্ধদের গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মার্কেট মালিক আজাহার তালুকদার ও তার ছেলেকে একটি শটগান ও একটি পিস্তলসহ আটক করেন।
রবিবার রাতে ঘটনার পরে সুলতান ভাই কাচ্চি’র মালিক শুক্কুর গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আজহার তালুকদার এসে বলে পানির বিল বাবদ আপনাকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। আমরা ১০ লাখ টাকা ঋণ হয়ে গেছি। আমি বললাম ১০ লাখ টাকা কেনো দিবো। আমি তো আপনার কাছ থেকে দোকান নেই নাই। আমার বাড়িওয়ালা আপনার ভাই আজিজুল হক। আর আমি তো পানির বিল প্রতিমাসে দিয়েই যাই। পানিসহ আমার ৮০ হাজার টাকা ভাড়া। পানির জন্য ৫ হাজার, আর ভাড়া ৭৫ হাজার। তার পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আজাহার আমাকে খারাপ ভাষায় গালমন্দ করে। পরে আমিও গালি দেই। এরপর সে বলে দাঁড়া আমি বাসা থেকে আসতাছি একথা বলে সে চলে যায়। তার একটু পরে এসে সে গুলি করে।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একটি পিস্তল ও একটি শর্টগান উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর লাইসেন্স রয়েছে কিনা যাচাই বাছাই চলছে। আরো তদন্তের জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এস.এ/জে.সি


