এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়ে নৈরাজ্য শহরজুড়ে
সাইমুন ইসলাম
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ পিএম
# কোন রকম চালান ছাড়াই কিনতে হয় সিলিন্ডার
# অভিযুক্ত চিহ্নিত করেই শুরু হবে অভিযান : ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এডি
চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১০৩ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে বর্ধিত মূল্যে তার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২২ টাকা করে। এতে করে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম হয়েছে ১৫০০ টাকা।
যা আগে ছিলো ১ হাজার ২৩৬ টাকা। এদিকে এই বর্ধিত দামের ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কারণ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির সাথে পরিবহণ ভাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। নারায়ণগঞ্জে বর্তমান সময়ে তিতাস গ্যাস এর সংযোগে জটিলতা এবং গ্যাস সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দেয়ার ফলে বাসাবাড়িতে তিতাস গ্যাস সংযোগের পাশাপাশি এলপিজির চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলে গ্যাসভিত্তিক খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। কিন্তু গ্যাসের যে দাম নির্ধারণ হয়েছে ভোক্তারা সেই দামেও গ্যাস কিনতে পারছে না। কিনতে হয় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও অনেক বেশি দামে। এ যেনো মরার উপর খাড়ার ঘা।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন গ্যাস সরবরাহকারী ও ভোক্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এলাকা ভেদে ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডার ভোক্তারা ১৭০০ থেকে ১৯০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে থাকে। যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এ নিয়ে ভোক্তারা কথা বললে তাদেরকে গ্যাস না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ভোক্তারাও বিপত্তি বাড়ার ভয়ে এ নিয়ে আর তেমন প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। তবে এ নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই জনমনে।
এ নিয়ে মহল্লার এক ক্ষুদ্র সরবরাহকারীর সাথে বর্ধিত দাম নিয়ে কথা বললে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, তিনি ডিলারদের থেকে গ্যাস নেন। যে দামে নেন তার চেয়ে ৫০-১০০ টাকা লাভে গ্যাস বিক্রি করে দেন। তিনি যেসব ডিলারদের থেকে গ্যাস নেন তারাই বর্ধিত মূল্যে সরবরাহ করায় গ্যাসের দাম ভোক্তা পর্যায়ে বেড়ে যায়।
তবে সরবরাহকারী ডিলাররা কোনো রকম ক্যাশমেমো দেয়না। কেউ ক্যাশ মেমো চাইলে তাকে পণ্যই দেয়না ডিলাররা। তাই কেউ এ বিষয়ে আর কথা বাড়ায় না। এতে করে স্পষ্ট বোঝা যায় শহরের এলপিজি গ্যাস একটা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। তারা পরিকল্পিতভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে। কেউ যেন কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারে তাদের বিরুদ্ধে এজন্য তারা চালান ছাড়াই গ্যাস বিতরণ করে আসছে।
শহরজুড়ে এলপিজি গ্যাসের দামে নৈরাজ্যে সৃষ্টিতে ক্ষুন্ন হয় ভোক্তাদের অধিকার। এবিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহকারি পরিচালক সেলিমুজ্জামান এর সাথে কথা বললে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে কেউ সিলিন্ডার বিক্রি করে ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুন্ন করলে তার বিরুদ্ধে কঠিনতম আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমন অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। এন.হুসেইন/জেসি


