Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

শহর জুড়ে জমে উঠেছে ফুলের ব্যবসা

Icon

আবু সুফিয়ান

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০২:২৩ পিএম

শহর জুড়ে জমে উঠেছে ফুলের ব্যবসা
Swapno


# বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ

 

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও পবিত্রতার প্রতীক ফুল। এমনকি শোকের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ফুল। ফুলকে ভালবাসেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। তাই যে কোনো উৎসবে ফুলের দোকানগুলোতে দেখা যায় ভিড়।

 

 

তাইতো পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস ঘিরে নারায়ণগঞ্জে জমে উঠেছে ফুল বিক্রি। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে তিনটি দিবস কে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে এই ফুলের ব্যবসা। পহেলা ফাল্গুনে বসন্ত বরণ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন জায়গায় চলছে বিভিন্ন ফুলের রমরমা ব্যবসা। 

 

 

১৩ ফেব্রুয়ারি বসন্তবরণ উৎসব। এর পরের দিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রিয়জনকে এসব উৎসবে ফুল দিয়ে চমকে দিতে ভালোবাসেন মানুষ। এ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহরের কালিবাজার, দুই নং রেলগেট সহ বিভিন্ন জায়গায় ফুল ও ফুলের মালা বিক্রি জমে উঠেছে। সকাল থেকে এসব ফুলের দোকানে ফুল ও ফুলের মালা বেচাকেনা শুরু হয়, যা চলে রাত পর্যন্ত।

 

 

শহরের বিভিন্ন ফুলের দোকানের বিক্রেতারা জানান, বসন্ত বরণ এবং ভালোবাসা দিবস কে কেন্দ্র করে ফুল বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ রোববার (১২ই ফেব্রুয়ারি) শহরের বিভিন্ন ফুলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সব ফুলের দাম বেড়েছে। শহরের কদম রসুল পুষ্প কেন্দ্রের ফুল বিক্রেতা মো. আমির হোসেন-এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মানভেদে প্রতিটি গোলাপ এখন ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগেও মাত্র ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হতো।

 

 

একইভাবে দাম বেড়ে প্রতিটি গ্লাডিওলাস ২০ থেকে ২৫ টাকা, রজনীগন্ধা ২০ থেকে ২৫ টাকা। দাম বাড়ার যুদ্ধে জারবেরা ফুলও পিছিয়ে নেই। এদিকে গাদা ফুলের দশটি মালা ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

 

সকাল পুষ্প কেন্দ্রের ফুল বিক্রেতা জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের বাকি দিন এবং মার্চ মাস জুড়ে ফুল বিক্রি চলবে। এমনটাই আশা করেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা। কারন হিসেবে সকাল পুষ্প কেন্দ্রের ফুল বিক্রেতা জানান, এই সময়ে রয়েছে ফুল বিক্রির চারটি বড় উৎসব। ১৩ ফেব্রুয়ারি পয়লা ফাল্গুন, তথা বসন্ত উৎসব।

 

 

১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে, মানে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। তিনি আরো বলেন, এসব উৎসব উপলক্ষে ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীরা বিগত করোনা ভাইরাস ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে যে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তা পুষিয়ে নিতে পারবে। আমরা ফুল চাষী এবং ফুল বিক্রেতারা এই আশা করছি। 

 

 

ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের পহেলা ফাল্গুনে বসন্ত দিবস ও ভালোবাসা দিবস আমাদের কাছে ভিন্ন। বিগত দুই বছর এ মৌসুমে ফুলের ব্যবসা ভাল ছিল না। এ বছর ফুল ক্রেতা অনেক। তাই আয়োজন অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি। প্রস্তুতিতে ঘাটতি রাখছেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

 

 

বিসমিল্লাহ ফুলের দোকানে ফুল কিনতে আসা ঈসিতা হক জানান, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় সব ধরনের ফুলের দাম অনেক বেশি। তবে দাম বেশি হলেও বসন্ত বরণের উৎসব এবং ভালোবাসার কাছে যে বাড়তি দাম কোনো বিষয়ই নয়। 

 

 

সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী আফসানা ও মাহবুব এসেছেন ফুল কিনতে। ফুল কেনার পর এ দুই শিক্ষার্থী যুগের চিন্তা জানান, বসন্ত উৎসব উপলক্ষে ফুল কিনতে এসেছি। ১৩ ও ১৪ তারিখ রাস্তাঘাটে অনেক ভিড় হবে তাছাড়া ঐ দিন ফুলের দাম অনেক বেশি হবে। তাই একদিন আগেই ফুল কিনলাম আমরা। 

 

 

ইয়াকুব নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ভালোবাসা দিবস ও বাড়িতে বিয়ে উপলক্ষে ফুল কিনতে এসেছিলাম। আগে ফুলের যে দাম ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি দাম চাচ্ছেন দোকানদাররা। সেজন্য একটু হিমশিম খাচ্ছি, ফুল কীভাবে কিনব।

 

 

কারন, যে বাজেট ছিল তাতে কুলোচ্ছে না। তারপরও কিছু করার নেই। অল্প হলেও ফুল নিতে হবে। এত আগে ফুল কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কালকে তো ফুলের দাম আরো বাড়বে তাই আগেভাগেই ফুল কিনতে এসেছি। 

 

 

ফুলের বাড়তি দাম প্রসঙ্গে সুগন্ধা পুষ্প কেন্দ্রের বিক্রেতা জানান, প্রতিবছর বসন্ত দিবস এবং ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুলের বাড়তি দাম থাকে। এমনটা প্রতি বছরই হয়। প্রতিবছর এই সময় আমরা বাড়তি দামে ফুল কিনে নিয়ে আসি; সেজন্য আমাদেরকে বাড়তি দামে ফুল বিক্রি করতে হয়। তবে অন্যান্য বছর থেকে এবারের ফুলের দাম অনেক বেশি বলে তিনি জানান। 

 

 

শহরের আরেকটি ফুলের দোকান লিটন সাজঘর। এই দোকানের বিক্রেতা জানান, অন্যান্য বছর থেকে এবারে ফুলের দাম অনেক বেশি। বাড়তি দামে আমাদেরকে ফুল কিনতে হচ্ছে। তিনি জানান, এবার সব থেকে বেশি লাভ হবে ফুল চাষীদের।

 

 

আমরা যেভাবে ফুল তাদের কাছ থেকে কিনছি এবং বিক্রি করছি তাতে আমাদের লাভ সীমিত হবে। শহরের বিসমিল্লাহ পুষ্প কেন্দ্র সহ আরো কয়েকটি ফুল বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে একই রকম তথ্য পাওয়া গেছে।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন