Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

ত্বকী-সাব্বির হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জোরালো

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:১৪ পিএম

ত্বকী-সাব্বির হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জোরালো
Swapno


# দীর্ঘসূত্রিতাতেও বিচারের দাবির আন্দোলন কমেনি

   
প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ। রাজধানীর ঢাকার সাথে এই নারায়ণগঞ্জ জেলার সীমানা থাকায় সকল বিষয়ে এই জেলার উপরেই চোখ থাকে দেশের জনগণের। সকল সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহর হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠে। বর্তমানে ও তার বিপরীতে নেই।

 

 

পুরনো দুই খুনের বিচারের দাবিতে আবারো নারায়ণগঞ্জ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বছরের পর বছর আলোচিত এই দুই হত্যাকাণ্ড হলো, ত্বকী ও সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলা। একটি ১০ বছর ও আরেকটি ২০ বছর পরও বিচারের দাবিতে অনড় অবস্থান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী।

 

 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থাকাকালীন সময়ে এই মেধাবী ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু বছরের পর পর গেলেও ত্বকী হত্যার বিচারের কোন সুরাহা হচ্ছে না। অপর দিকে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই সাব্বির আলম খন্দকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

 

 

দীর্ঘ ২০ বছর পরও সাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে আসছে তৈমূর আলম খন্দকার ও নারায়ণগঞ্জবাসী। এই দুই হত্যকাণ্ডের বিচারের দাবিতে উত্তাপ তৈরি হয় নারায়ণগঞ্জে।

 

 

জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়ির পাশে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার।

 

 

এ ঘটনায় তার বড় ভাই তৈমূর আলম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা করেন। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৩৪ মাস তদন্ত শেষে সিআইডি ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারি আদালতে জাকির খান, তার দুই জিকু খান, মামুন খানসহ মোট ৮ জনকে আসামী করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আসামি করে চার্জশিট দেয়।

 

 

এতে প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিনকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ায় বাদী তৈমূর আলম খন্দকার চার্জশিটের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দেন। পরে ২০১১ সালের অক্টোবরে তৈমূর আলম খন্দকার নারাজি আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেন।

 

 

সিআইডি যে আটজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল তার ওপর ভিত্তি করেই মামলার বিচার পরিচালিত বিচার প্রতিচালিত করা হবে এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জের এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতা জাকির খান দেশে না থাকায় এই মামলাটি প্রায় অনেকখানি নিস্কীয় অবস্থায় ছিল।

 

 

কিন্তু গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ দেড় যুগ পরে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানকে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। তখনই নারায়ণগঞ্জে আবারো আলোচনায় চলে আসে এই জাকির খান। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ ২০ বছর কেটে যাওয়া পুরনো সেই মামলা আবারো জেগে উঠে।

 

 

গত বছরের ২০ নভেম্বর সেই হত্যা মামলায় উম্মে সরাবান তহুরার (প্রথম) আদালতে জামিন আবেদন করা হলে বাদী না আসায় শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে আদালত থেকে জাকির খানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

 

তার পরবর্তীতে চলতি মাসের ১৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক শাম্মী আক্তারের আদালতে ২০ বছর পরে মামলার বাদী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার সাক্ষ্য দেন। এতে তৈমূর আলম খন্দকার এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানকে।

 

 

এছাড়া আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি সাব্বির আলম খন্দকার ফাউন্ডেশন এর শোক র‌্যালী অনুষ্ঠিত হবে। যার কারণে দেখা যাাচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ শহর আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নিহত সাব্বির আলম খন্দকারের বড় মেয়ে খন্দকার ফাতেমা-তুজ জোহরা শবনমও বলেন, আমার বাবার কাছে জাকির খানের বিরুদ্ধে কিছু তথ্য প্রমাণ ছিল।

 

 

সন্ত্রাসীদের ভয় না পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তিনি। এসব কারণেই হত্যার শিকার হতে হয়েছে তাকে। এ ছাড়া ও অনেক রাজনীতিবীদদের ধারণা, স্থানীয় বিএনপির একটি গ্রুপের সরাসরি সমর্থন থাকায় জাকির খান আবারো রাজনৈতিতে সক্রিয় হয়ে উঠলে নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম গ্রুপ কার্যত দুর্বল হয়ে যাবে।

 

 

অপর দিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ঘটনা ঘটে। এর দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর খালের পাড় থেকে পুলিশ ত্বকীর লাশ উদ্ধার করেন। তারপর থেকে প্রতি মাসের ৮ তারিখ লাশ উদ্ধারের দিনটিকে কেন্দ্র করে বিচারের দাবিতে আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে।

 

 

তার মাধ্যমেই তানভীর মোহাম্মদ ত্বকী হত্যায় সারাদেশে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি উঠে। সেই দাবি এতোটাই বড় হয় পরবর্তীতে দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তোলা হয়। ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে দেশের বরণ্য বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে গঠিত হয় সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ।

 

 

এদিকে ত্বকীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ করা হয় ওসমান পরিবার এবং জাতীয় পার্টির সাবেক প্রায়ত সাংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরি ওসমানকে। প্রতি মাসেই এই ওসমান পরিবারের উপর আঙ্গুল তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর বিচারের দাবিতে সরব রয়েছে সন্ত্রাস নিমূল ত্বকী মঞ্চের নেতৃবৃন্দরা।

 

 

সেই পরিপ্রেক্ষিতে  ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের (নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্ক) নওম পার্কে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য শামীম ওসমান ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে চেয়েছেন।

 

 

কিন্তু শামীম ওসমানের এই বক্তব্যেকে পাত্তা দেয়নি ত্বকী মঞ্চের নেতাকর্মীরা। অপর দিকে তাকে পাত্তা না দেওয়ায় এখন আবার তাদের প্রতি ইঙ্গিত করেই নানা বক্তব্যে দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে কিছু কিছু লোক আছে আদর-বাদর টাইপ গালাগালি করে বক্তব্য দেয়। নিজেরা বক্তব্য দেয়, নিজেরাই শুনে। আমরা তোমাদের মতো পাগল-ছাগল নিয়ে চিন্তাই করি না।

 

 

তার এই ধরনরে বক্তব্যেকে ছাড় দেয়নি ত্বকী মঞ্চের নেতারা। তারা শামীম ওসমানের কিছু বেফাঁস বক্তব্যেকে ইঙ্গিত করেই তারাও নিয়মিত পাল্টা বক্তব্যে দিয়েছেন।

 

 

বিএনপি ও আওয়ামীলীগের শাসনামলে এই দুই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি নারায়ণগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে জানালেও তার কোন সুরাহা হয়নি।  এন.হুসেইন/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন