সাখাওয়াতে বাড়ছে আবদারের ঝুলি
২৫ ফেব্রুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় সকাল নয়টা। উকিলপাড়া এলাকা থেকে সরাসরি পেঁছালেন নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের গেটে আসলেই হৈ চৈ ভাবেই নতুন প্রশাসক প্রবীন রাজনীতিবীদ এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে রাজকীয় ফুলেল সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নিলেন নাসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। পরবর্তীতে (নাসিক) নগর ভবনে নিজ কার্যালয়ে বসে দায়িত্ব বুঝে নেন সাখাওয়াত। এরপর থেকেই সাখাওয়াতের কাছে বাড়ছে আবদারের ঝুলি। এদিকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে অবসারণের পরে হঠাৎ থমকে যায় নাসিকের কার্যক্রম। তা ছাড়া দফা দফায় গত দেড় বছর প্রশাসক হিসেবে অনেকে দায়িত্ব পেলেও নগরবাসী তাদের আশা আকঙ্খা নিয়ে কেউ সিটি কর্পোরেশন যায়নি। কিন্তু হঠাৎ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পরিচিত মুখ এবং যোগ্যতা সম্পূর্ণ এড. সাখাওয়াতের হাতে প্রশাসকের দায়িত্ব গেলেই আবদারের ঝুলি বাড়তে থাকে নগরবাসীসহ দলীয় নেতাকর্মীদের। তা ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বক্তৃতা বা প্রতিশ্রুতির রাজনীতির বাইরে এসে সরাসরি কাজে মনোযোগী হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন কথার ফুলঝুরি নয়, নগরবাসী তার কাজের মাধ্যমেই মূল্যায়ন করবে। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই তিনি প্রশাসনের ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নাগরিক সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। নগর ভবনের বিভিন্ন।দপ্তরে হঠাৎ পরিদর্শন, কাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সূত্রতা কমানো এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন সাখাওয়াত। ইতিমধ্যে কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী সেই ধারাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে নিয়মিত নানা কার্যক্রম পরিচালনায় মাঠে রয়েছেন সাখাওয়াত। তা ছাড়া দ্রুতই ৬০ দিনের কার্যক্রম উদ্বোধন করে নানা কার্যক্রম চালাবেন বলে ও ঘোষণা নিয়েছেন এই প্রশাসক। ইতিমধ্যে নিয়মিতই সাখাওয়াতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নানা আবদারের ঝুলি সাখাওয়াতের দিকে ছুঁড়ে মারছেন আর সেগুলো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন সাখাওয়াত। গতকাল চাষাড়ার ড্রেন কাজ পরিদর্শন, এর আগে রাস্তার কার্যক্রম উদ্বোধন, খাল দূষণ প্রতিরোধে নানা অভিযানসহ যানজট নিরসনে চলছে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান, ফুটপাতে ফিরছে শৃঙ্খলা। দ্রুত যানজট,ফুটপাত,অটোরিকসা সব নিয়ন্ত্রণে এনে সকল সমস্যা নিরসন করেই আলোচনায় উঠতে যাচ্ছেন সাখাওয়াত। সেই হিসেবেই নানা কার্যক্রম পরিচালনায় মাঠে তৎপর রয়েছেন রাজপথের ত্যাগী ও জনবান্ধব সাখাওয়াত।
নাসিক সূত্রে জানা যায়, প্রশাসক সাখাওয়াৎ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পরিচ্ছন্নতা, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের নির্দেশ দেন এবং সময় বেধে দেন। তিনি পরিস্কার করে জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন দুই মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসাবে গড়ে তুলতে না পারলে তাকেই এর মূল্য চুকাতে হবে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অলিগলিতে জমে থাকা ময়লা দ্রুত অপসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন, খাল, নালা পরিষ্কার এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে সমন্বিত অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন গতি আসায় নগরবাসীর মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছে। এদিকে যানজট, জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, দখল হওয়া ফুটপাত, মশার উৎপাত ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সব মিলিয়ে নগরবাসীর নিত্যদিনের জীবন এখন দুর্ভোগের আরেক নাম। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ঘণ্টার বেশি। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ডুবে যাচ্ছে হাঁটুসমান পানিতে। কোথাও কোথাও ময়লার স্তূপ যেন স্থায়ী স্থাপনা। জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের পর প্রশাসনিক শূন্যতায় নাগরিক সেবায়ও ধীরগতি তৈরি হয়েছে এমন ধারণা অনেকের। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসকের দায়িত্ব সাখাওয়াত পেলেই আনন্দি নগরবাসী। সকলেই বলছেন, যোগ্যতা সম্পূর্ণ বাক্তির হস্তক্ষেপে এবার শৃঙ্খলা ফিরবে নগরে। এদিকে কার্যক্রম নিয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, ‘আমি বড় একটি চ্যালেঞ্জের দায়িত্ব নিয়েছি। ইনশাল্লাহ সবাই সহযোগিতা করলে আমি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সফল হবো। যে কোনো মূল্যে আমাকে সফল হতে হবে। কারণ আমার সফলতা মানে সবার সফলতা। আর আমার ব্যর্থতা মানে সবার ব্যর্থতা।’


