Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

হকার বিশৃঙ্খলার বিষফোঁড়া বিল্লাল-মূসা মাইনাস

Icon

যুগের চিন্তা অনলাইন

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

হকার বিশৃঙ্খলার বিষফোঁড়া বিল্লাল-মূসা মাইনাস

হকার বিশৃঙ্খলার বিষফোঁড়া বিল্লাল-মূসা মাইনাস

Swapno

 নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে সঙ্গ দেওয়া মহানগর হর্কাস শ্রমিক দলের সভাপতি আবু আল বেলাল খান বিল্লাল ও সাধারণ সম্পাদক মূসা মিয়া। যাদের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা ফুটপাত হকারদের কাছে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করে নিয়মিত চাাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে একই সিন্ডিকেট থেকে বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে আতাঁত করে মিটারে লাইনের সঙ্গে খাম্বা থেকে চোরা লাইন দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।


যাদের বিরুদ্ধে এবার কঠিন একশ্যান নিয়ে মাঠে নামছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন হর্কাস নেতাসহ রাস্তার হর্কাসদের আমি নানা দিক নির্দেশনা দিয়েছিলাম যেহেতু তারা সেটা মানেনি সেই ক্ষেত্রে এবার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধু সড়কের হকারদের দ্রুত উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।


এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) আয়োজিত গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি হকারদের উদ্দেশ্যে হুঙ্কার দেন। যার ফলে হকার্স শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এস.এম. আসলাম এবং সদস্য সচিব ফারুক হোসেনের স্বাক্ষরে বিলুপ্ত করা হয়  মহানগর হর্কাস শ্রমিক দলের কমিটি। ইতিমধ্যে বিল্লাল-মূসার মাইনাসে শহরে নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে হর্কাস সমস্যা।



এদিকে জানা গেছে, বিএনপির নামধারী একটি মহল বিভিন্ন পয়েন্টে জায়গা ভাগ করে এসব চাঁদার টাকা উঠাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঈদের আগে চাঁদার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছিলো। ঈদের আগে উচ্ছেদ হবে না মর্মে জানিয়ে হকারদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি টাকা। ফুটপাত দখল, দুই-তিন লেয়ারে বসা দোকান, অনেক জায়গায় মূল সড়ক পর্যন্ত দখলে চলে আসা সব মিলিয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো কার্যত সরু হয়ে গেছে। এদিকে শহরবাসীকে স্বস্তি¡ দিতে ও শহরে হকার নিয়ন্ত্রণে আনতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। রমজানে হকারদের সঙ্গে বৈঠক করে ঈদের আগমুহুত্ব পর্যন্ত ফুটপাতে বসার অনুমতি দিলে ও রাস্তা ফাঁকা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ফুটপাতে কোন চৌকি, ভ্যান গাড়ি বসানো যাব না বলে ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিলো।  তা ছাড়া পলি বিছিয়ে ৩ ফুটের মধ্যে বসার নির্দেশনা দেওয়া হলে ও কোন মতেই মানতে রাজি হয়নি হকাররা। ঈদকে ঘিরে কোন অভিযান না পরলেও সিদ্ধান্ত না মানায় কঠোর অভিযান হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এড. সাখাওয়াত হোসেন খান।


ইতিমধ্যে মিশনপাড়া থেকে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব পর্যন্ত লাইটসহ ফুটপাতে চাঁদাবাজি করা কে সেই বিএনপি নেতা। তা ছাড়া প্রশাসকের হুঙ্কারে ও হর্কাস শ্রমিক দলের সভাপতি আবু আল বিল্লাল কিভাবে নিজ ইচ্ছামতোই বিশৃঙ্খলভাবে ফুটপাত/রাস্তায় হকার বসিয়ে চাঁদা তুলতে পারে তা নিয়ে ও নানা প্রশ্ন উঠছে। একই সাথে কালীরবাজার রোডে হর্কাস শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মূসা মিয়া কিভাবে এখনো দোকানের উপরে দোকান বসিয়ে যাচ্ছে তা দেখার কেউ নেই। তা ছাড়া সিরাদৌল্লাহ রোড পুরোই ছোট শারজাহানসহ অনেকেই বিগত দিনের মতোই সিটি কর্পোরেশন ও বিএনপির একটি প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন সবই। তা ছাড়া ইতিমধ্যে চাষাড়া, বালুর মাঠসহ শহরের সর্বক্ষেত্রে কোটি কোটি হকার চাঁদাবাজি হচ্ছে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন কে তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। ফুটপাতে হকারদের কোটি টাকা কোন বিএনপি নেতার পকেটে তা নিয়ে উঠছে তোলপাড়। অনেকেই সেই হকার্স দায়িত্বে থাকা নেতাকে গান্ধী পোকা আখ্যা দিচ্ছেন। এদিকে বেশ কয়েকজন হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা বিগত দিনে চাঁদা দিয়েই এসব দোকান পরিচালিত হতো। চাঁদার টাকার পরিমাণে ভিন্নতা ছিল। যারা শরবত বিক্রি করেন তাদের দিতে হয় ৩০ থেকে ৫০ টাকা। যারা ডিম বিক্রি করেন তাদের দিতে হয় ১০০-২০০ টাকা।


চটপটি দোকানিকে ২০০ টাকা, যারা বড় করে জামা-কাপড়, জুতা, ইলেক্ট্রনিক্স দোকান, মোবাইল এক্সেসরিজ, ফলের দোকান তাদের দিতে হয় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। হকারদের দাবি, এ চাঁদা যায় বেশ কয়েকজন হকার নেতা ও রাজনৈতিক নেতার পকেটে। এছাড়াও ফুটপাথ ঘেঁষে ভ্যানগাড়ি নিয়েও ভাসমান দোকান বসিয়ে হকাররা ব্যবসা পরিচালনা করে যাদের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। হকারদের একাধিক সূত্র জানান, চাষাঢ়া হতে কালীরবাজার মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ৮টি পয়েন্ট ভাগ করে দেওয়া আছে। এসব পয়েন্ট হতে বিভিন্নস্তরের বিএনপি নেতাদের নামে টাকা উঠে। কালীরবাজার পুরাতন কোর্ট সড়কের হকারদের নিয়ন্ত্রন করে দুই।


কালীরবাজার ওষুধের দোকানের সামনের দোকান নিয়ন্ত্রন করেন তিনজন। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব হতে দুই নং গেট ও ১নং গেট পর্যন্ত সড়ক ৪ জন ও ডিআইটিতে সড়কের ফুটপাত নিয়ন্ত্রন করেন ৪ জন। হকারদের সূত্রে জানা গেছে, জীবন বীমা করপোরেশনের সামনে থেকে সাধু পৌলের গির্জা হয়ে সাবেক গ্রীন্ডলেজ (স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড) ব্যাংক মোড় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখলকারী হকার ছিল অন্তত পাঁচ শতাধিক। এসব হকারদের কাছ থেকে আকার ভেদে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তা ছাড়া কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে হকার সমস্যা তা নিয়ে উঠছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তা ছাড়া হার্কস শ্রমিক দল নিয়মিত হাজার হাজার টাকা হকার্স চাঁদাবাজি করতো। কিন্তু শৃঙ্খলা মোতাবেক নিয়ম না মানায় এবার বিলুপ্ত হর্কাস কমিটি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন