ভিন্ন কৌশলে হকারদের থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
ভিন্ন কৌশলে হকারদের থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ শহরবাসীর জন্য হকাররা বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু ১৩ এপ্রিল নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াতের নেতৃত্বে সকল মহলকে নিয়ে এই হকারদের উচ্ছেদ করে প্রশংসায় ভাসছেন। তবে বরাবরের মত রাজনৈতিক ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যারা হকারদের থেকে চাদাঁবাজি করে বেড়াতেন। তবে তারা উচ্ছেদের নানাভাবে আবার ফিরে আসতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আবার কোন কোন সড়কে হকারদের বসানোর কথা বলে ভিন্ন কৌশলে টাকা দিতে হুমকি দিচ্ছে। আর টাকা না দিলে, অন্য কাউকে বসিয়ে দিবে। চাঁদাবাজদের এই হুমকিতে বিপাকে পড়েছে হকাররা।
কেননা তাদেরকে এখন টাকা দিতে হবে, আবার টাকা না দিলে তাদের বসতে না দিয়ে, অন্য কাউকে বসাবে। অথচ হকারদের বসতে দেয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খোদ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ আবুল কালাম।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযান শেষ হতে না হতেই সামনে এসেছে উচ্ছেদের আড়ালেই আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে হকারদের বসানো নতুন কৌশলে “পজিশন বাণিজ্য”। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও মধ্যস্থতাকারীদের একটি অংশ হকারদের কাছ থেকে নতুন করে টাকা আদায় শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৩ এপ্রিল বিকেলে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, নবাব সলিমুল্লাহ সড়ক ও শায়েস্তা খাঁ সড়কে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের উদ্যোগে হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এড.আবুল কালাম সরাসরি মাঠে নেতৃত্ব দেন। সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের আগে অনেক হকার স্বেচ্ছায় মালামাল সরিয়ে নেওয়ায় কার্যক্রমটি তুলনামূলকভাবে সহজ হয়।
অভিযানের পর সিটি প্রশাসক ও স্থানীয় সাংসদ উভয়েই স্পষ্ট অবস্থান নেন, কোনো অবস্থাতেই ফুটপাত বা সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না। শহরবাসীর একটি বড় অংশ দীর্ঘদিনের যানজট ও ফুটপাত দখলের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। অভিযানের পর আশেপাশের ফাঁকা জায়গা, গলিপথ বা বিকল্প স্থানে বসতে চাওয়া হকারদের কাছ থেকে “পজিশন ফি” নামে নতুন করে টাকা আদায় শুরু হয়েছে একটি চক্র। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও তাদের ঘনিষ্ঠ মধ্যস্থতাকারীরা এতে সরাসরি জড়িত।
একাধিক হকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা চালাতেন। উচ্ছেদের পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আবার সেই চক্র ফিরে এসেছে। তাদের বলা হচ্ছে, “টাকা দিলে বসতে পারবেন, না দিলে জায়গা অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া হবে। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হকাররা দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন। একদিকে প্রশাসনের কড়াকড়ি ও যেকোনো মুহূর্তে উচ্ছেদের ঝুঁকি, অন্যদিকে চাঁদা না দিলে জায়গা হারানোর ভয়। টাকা দিয়েও নিরাপত্তা নেই, না দিয়েও বিকল্প নেই। দুই অবস্থায় তারা আতঙ্কে রয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগ আমলে হকার উচ্ছেদ হলেও এই ধরণের জুলুমের শিকার হতে হয় নাই বলে দাবী হকারদের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্ছেদের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলেও, পেছনের এই চাঁদাবাজ চক্র ভাঙতে না পারলে পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নগর বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যার মূলে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত দখল এবং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সিন্ডিকেট। শুধু উচ্ছেদ চালিয়ে এই চক্র অটুট থাকলে কোনো সমাধান টেকসই হবে না। হকারদের একটি অংশ জানান, তাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে আবার বসার চেষ্টা করছেন। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে চাঁদাবাজ চক্র।
নারায়ণগঞ্জবাসী একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, যানজটমুক্ত ও হাঁটাচলার উপযোগী শহর চান। কিন্তু সেই সঙ্গে দরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। উচ্ছেদ অভিযানের সাফল্য ধরে রাখতে হলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা, জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং হকারদের জন্য বাস্তবসম্মত পুনর্বাসন ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, হকাররা কোনভাবেই বসতে পারবে না। এই হকারদের থেকে যারা চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরায় নারায়ণগঞ্জের যারা হকার, তাদের নিয়ে চিন্তাভাবনা করবো।


