নগরীর খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতাল এবং ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ব অভিযোগ নতুন কিছু নয়। দালালদের খপ্পরে অনেক ভুক্তভোগিকে অতিরিক্ত টাকা খোয়াতে হয়। এমনকি এ দুটি হসপিটালে সেবা নিতে রোগিদের সেবা পেতে বঞ্চিত হতে হয়। সম্প্রতি নগরীর খানপুর ৩শ ময্যা হাসপাতালে র্যাব অভিযান চালিয়ে ৪ দালালকে আটক করে।
এমনকি তাদের মাঝে তিনজনকে কারাদন্ডে দন্ডিত করে শাস্তি প্রদান করা হয়। এদিকে প্রতিদিন সকাল থেকে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে একাধিক নারী-পুরুষ দালাল রোগী ভাগিয়ে নিতে তৎপর থাকে। তারই ধারা বাহিকতায় বিভিন্ন সময় প্রশাসনের লোকজন অভিযান পরিচালনা করে শহরের এই দুটি হাসপাতাল থেকে দালালদের আটক করে কারা দন্ডে দন্ডিত করা হয়।
তার মাঝে বুধবার ২২ এপ্রিল র্যাব-১১-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. আল মাসুদ খান এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি দালাল চক্রের নানা অনিয়মের সত্যতা পান তারা।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের দালাল চক্র রোগীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসার সিরিয়াল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাইয়ে দিত এবং অনেক ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে মোজাম্মেল হক বাদলকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, আম্বিয়া ও রাসেলকে ৭ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
অপরদিকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালেও দালালদের থেকে রক্ষা পান না ভুক্তভোগি রোগিরা। ডাক্তারের নিকট রোগি আসা মাত্র এক শ্রেনীর দালালরা তাদেরকে ডেকে নিয়ে ডাক্তারদের রুমের সামনে নিয়ে যায়। পরে ডাক্তার দেখিয়ে বের হলে তাদের প্রেসক্রিপশন নিয়ে দেখে কি পরীক্ষা নীরাক্ষা দিছে তা দেখেন। রোগির পরীক্ষা গুলো তাদের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। আর ক্লিনিক থেকে তারা কমিশন পেয়ে থাকে।
তাছাড়া খানপুর ৩শ শয্যা ও জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সামনে এবং আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে ১ থেকে দেরশ’ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংকট ও চিকিৎসাসেবার অব্যবস্থাপনার সুযোগে দালালরা রোগীদের নিয়ে যায় ক্লিনিকে। কতিপয় চিকিৎসকও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে কমিশনের বিনিময়ে পাঠাচ্ছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। রোগীরা বাধ্য হয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ছুটছেন।
এছাড়া নগরীর এলাকায় গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চলছে চিকিৎসার নামে কমিশন বাণিজ্য। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও দালালদের কমিশন বাণিজ্যের কারণে জমজমাট হয়ে উঠেছে ক্লিনিক ও প্যাথলজি ব্যবসা। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের প্রয়োজন ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাপত্র ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বলে দেওয়া হচ্ছে, কোন প্রতিষ্ঠানে এসব পরীক্ষা করাতে হবে। অন্য প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে চিকিৎসকরা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও বকাঝকা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই রোগীরা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নাম গোপন রাখার শর্তে এক দালাল জানান, হাসপাতাল এলাকায় গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর মালিকেরা হাসপাতালে কর্মরত ঝাড়ুদার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ইজিবাইকচালকদের নিয়ে একটি দালাল চক্র তৈরি করেছে। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে পরীক্ষা– নিরীক্ষা লিখে দেওয়ার পর দালালেরা রোগীদের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের নিয়ে যায়। একজন রোগী নিয়ে আসতে পারলে একজন দালাল ১শ’ থেকে ২শ’ করে টাকা পেয়ে থাকেন। একইভাবে সমপরিমাণ টাকা কমিশন পেয়ে থাকেন হাসপাতালের কর্মকর্তারা।
ভুক্তভোগিদের থেকে দাবী সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার কর্মচারীদের যেন জবাব দিহিতার আওতায় আনা হয়। সেই সাথে দালাল চক্র নির্মুলে যেন ব্যবস্তা নেয়া হয়। এই বিষয়ে খানপুর ৩’শ শয্যা হাসপাতালের তত্তাবধায়কের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।