Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

ফুটপাত-সড়কে চাঁদা নিচ্ছে কারা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম

ফুটপাত-সড়কে চাঁদা নিচ্ছে কারা

ফের বেপরোয়া হয়ে উঠছে নগরীর ফুটপাতের হকাররা।

Swapno

ফের বেপরোয়া হয়ে উঠছে নগরীর ফুটপাতের হকাররা। নানা পাঁয়তারায় আবারো ভ্যান-টেবিল নিয়ে ফুটপাতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে হকাররা। নজর নেই সিটি কর্পোরেশনের। এদিকে হকাররা দাবি করছেন, এবার সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের চাঁদা দিয়েই ঈদুল ফিতরে বিক্রির অনুমতি নিয়েছি। তা ছাড়া আরো সেই পুরনো অবৈধপ্রন্থায় লাইটের লাইন লাগানো হয়েছে। এই সাহস পূণরায় কোথায় পেল হকাররা এটা রহস্যজনক বললেই চলে। তা ছাড়া বর্তমানে বিকালে ২০ মিনিটের উচ্ছেদের অভিযানের নামে শোডাউন দিয়ে ফের নিজ গন্তব্যস্থানে চলে যায় সিটি কর্পোরেশন থেকে দায়িত্বরত একটি টিম। তার কিছুক্ষণ পরই পরবর্তীতে হকাররা ফের ফুটপাতে সক্রিয় হয়ে উঠে।


এদিকে গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখলকারী হকারদের ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নমনীয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর এই সুযোগ হকারদের জন্য যেন সোভাগ্য হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই হকাররা দিব্যি ফুটপাতে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসছেন আর ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন। তাদের কোনোরূপ প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হচ্ছে না। এখন নিয়মিতই নারায়ণগঞ্জ শহরেরর প্রধান সড়কজুড়েই ফুটপাত ও মূল সড়কে হকাররা কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। আর এ নিয়ে পথচারীদের আবারও দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গিয়ে তাদের অসুবিধা পোহাতে হচ্ছে, দেখার কেউ নেই।



এর আগে গত (১৩ এপ্রিল) শহরের সকল সড়কের ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন। যদিও আগে থেকে ঘোষণা থাকায় সেদিন কোন হকার বসেনি। এর পর কয়েকদিন পর্যন্ত মোটামুটি শহরের ফুটপাত ছিল ফাঁকা। তবে হকাররা ফুটপাতে ফেরার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় দেন দরবার করতে থাকেন। তবে এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভূমিকা ছিলো খুবই কঠোর। সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা প্রতিনিয়ত হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আসছিলেন। ফুটপাতে হকার পেলেই তাদের মালামাল জব্দ করা হতো। সেই সাথে হকাররাও ফুটপাতে বসতে পারতো না। কিন্তু এবার সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা যেন নিরব হয়ে পড়েছেন। তাদের উচ্ছেদ অভিযানে আর দেখা মিলছে না। আর এই সুযোগে হকাররা বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন।


এদিকে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালিন সময়ে হকাররা তাদের আক্রমণাত্বক রূপ দেখিয়েছেন। গত ৪ মে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে কয়েকজন উচ্ছেদ কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেছে। এদিকে বর্তমানে ফের ফুটপাত দখলে রেখেছেন হাকররা। এদিকে বিগত দিনে মেয়র আইভী হকার উঠালে পিছন থেকে বসার ইন্দন দিতেন শামীম ওসমান। তাহলে এবার সেই ‘শামীম ওসমান’ কে। এদিকে কিছুদিন পূর্বে  নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ কর্মীরা বঙ্গবন্ধু সড়কে উচ্ছেদ অভিযান বের হন। আর এই উচ্ছেদ অভিযানের এক পর্যায়ে হকাররা উচ্ছেদ কর্মীদের উপড় চড়াও হন। সেই সাথে কয়েকজন কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুত্বর আহত করেন। পাশাপাশি জব্দকৃত মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যান। গত ২০ এপ্রিল ফুটপাতে না বসার জন্য আহ্বানকারী ভলান্টিায়ারদের উপর হামলা করেছেন হকাররা। সেই ঘটনায় মামলা হয়েছে শুনলে ও শেষ পর্যন্ত কোন কর্ণপাত লক্ষ্য করা যায় না। এ দিকে উচ্ছেদের পরপর কিছুদিন হকার না থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন নগরবাসী। ফলে গত কয়েকদিন ফুটপাতে মানুষের চলাচল বেড়েছে। দ্রুত সময়ে হাঁটার কারণে তারা সিটি করপোরেশনের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বস্তি মনে হয় বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না। নগরবাসীর ভোগান্তি আবারও শুরু হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে আবারো সেই পুরনো চাঁদাপ্রথা চালু।



এর আগে, ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হকারদের সমাবেশে শামীম ওসমান হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কে বসার জন্য পক্ষে বক্তব্য দেন। আর পরদিনই হকারা আইভীর উপর হামলা চালায়। যেখানে যুক্ত হয় শামীম ওসমানের অনুগামী নেতাকর্মীরাও। ইট পাটকেলের সঙ্গে গুলি করা হয় মেয়র আইভীকে লক্ষ্য করে। সেসময় মেয়র আইভী সহ অর্ধশতাধিক তার অনুগামী নেতাকর্মী আহত হয়। এছাড়া পরেও প্রায়শই হকারদের পক্ষেই কথা বলেন শামীম ওসমান। ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যাচেষ্টার পর পুলিশকে হত্যার চেষ্টা করেন বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসা হকাররা। সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।


২০২১ সালের ৯ মার্চ বিকেলে ফুটপাতে বসার দাবীতে হকাররা বিক্ষোভ করে। সেদিন পুলিশের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে হকাররা যেন লাগামছাড়া হয়ে পড়েছেন। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত পুরো সড়কই দখল করে রেখেছিলেন। এতে করে নগরবাসীর অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন, কিন্তু নির্বাচিত সরকার আসার পর গত (১৩ এপ্রিল) হকার উচ্ছেদ করলে ও তা ১ মাস বাস্তবায়ন রাখা সম্ভব হয়নি। এখন আরো বড় আকারে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছেন হকাররা। বর্তমানে হকাররা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ফের ফুটপাতে বিশৃঙ্খলা করছেন হাকররা। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন যেন দেখে ও দেখছেন না। তা ছাড়া ফের হকারদের পাশাপাশি সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্র দেখার কেউ নেই।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন