Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

রাস্তার ক্ষতিপূরণের নামে চাঁদা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

রাস্তার ক্ষতিপূরণের নামে চাঁদা

রাস্তার ক্ষতিপূরণের নামে চাঁদা

Swapno



# মণ্ডলপাড়া থেকে অটো, মিশুক ও ভ্যান থেকে চাঁদা তুলছে ইজারাদার শাহাবুদ্দিন


নগরীর মণ্ডলপাড়া পুলের সামনে রাস্তার ক্ষতিপূরণের নামে সিটি কর্পোরেশনের রশিদ দিয়ে অটো রিকশা, মিশুক ও ব্যাটারী চালিত অটো ও ভ্যানগাড়ি থেকে জোরপূর্বক ভাবে ২০টাকা করে চাঁদা আদায় করছে ইজারাদার শাহাবুদ্দিন ও তার লোকজন। সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত যানবাহনের পাশাপাশি এ সকল ছোট ছোট যানবাহনগুলো থেকেও চাঁদা আদায় করতে দেখা যায় ইজারাদারের লোকজনকে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত (১ বছর মেয়াদে) রাস্তার ক্ষতিপূরণের জন্য (নিতাইগঞ্জ হতে থানা পুকুর পাড় পর্যন্ত) ফি আদায়ের অস্থায়ী ইজারা প্রদান করেন। সেখানে সিটি কর্পোরেশন উল্লেখ্য করেন, রাস্তার ক্ষতিপূরণের জন্য লোডিং কভার্ডভ্যান ও বড় ট্রাক ৪০টাকা, লোডিং ট্রাক ছয় চাকা পর্যন্ত ৩০ টাকা, ছোট কভার্ডভ্যান চার চাকা ৩০ টাকা এবং মালমাল বহনকারী মাইক্রো, সিএনজি, টেম্পো-২০টাকা। কিন্তু সেই কাগজে কোন অটো রিকশা, মিশুক ও ব্যাটারী চালিত অটো ও ভ্যানগাড়ি নাম লেখা না থাকলেও জোরপূর্বকভাবে ২০টাকা করে চাঁদা আদায় করছে ইজারাদার শাহাবুদ্দিনের লোকজন।


সরেজমিনে দেখা যায়, মণ্ডলপাড়াপুলের সামনে দুইজন দু’পাশে দাঁড়িয়ে রশিদ দিয়ে যানবাহন থেকে রাস্তার ক্ষতিপূরণের চাঁদা আদায় করছে। এমনই সময় নিতাইগঞ্জ থেকে কয়েক বস্তা চাল ও ডাল নিয়ে একটি অটো যাওয়ার পথে তাকে আটকিয়ে ২০টাকার রশিদ দিয়ে চাঁদা চাচ্ছেন ইজারাদার এর লোকজন। এ পর্যায়ে ইজারাদারের লোকদের সাথে সেই ব্যাটারী চালিত অটো চালকের কথার কাটা-কাটি হয়। সেই ২০টাকা চাঁদা দিতে না চাইলে, তার অটোটি আটকিয়ে রাখা হয়। পরে ২০টা দিলে ব্যাটারী চালিত অটোটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ঠিক সেই ভাবেই মিশুক ও ভ্যানগাড়ি থেকেও ২০টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছে।


এ বিষয়ে নিতাইগঞ্জ থেকে আসা কয়েকটি অটো রিকশা, মিশুক চালকরা বলেন, আমরা নিতাইগঞ্জ থেকে ৪-৫ বস্তা চাউল বা আটা-ময়দা আনার পথে মন্ডলপাড়া পুলের সামনে আমাদের থেকে ২০টাকা করে রেখে দেওয়া হয়। আমরা ১০০-১৫০টাকা ভাড়া পায়। সেখান থেকে যদি বিভিন্ন জায়গা চাঁদা দিতে হয়, তাহলে আমরা সংসার চালাবো কিভাবে। আমরা গরীব মানুষ, সিটি কর্পোরেশন থেকে কি বলছে, আমাদের থেকে টাকা নিতে? বিভিন্ন জায়গায় আমাদের কাগজ ধরিয়ে ১০-২০টাকা করে নিয়ে যায়। আগে এখানে কোন টাকা দিতাম না, এখন দিতে হয়।


এ বিষয়ে নিতাইগঞ্জের কয়েকজন খুচরা ও পাইকারী মালামালের ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা এখানে অনেক বছর ধরে ব্যবসা করে আসছি। আমাদের যে সকল মালামাল ট্রাক দিয়ে যায়, সেখানে ৩০-৪০টাকা ক্ষতিপূরণের নামে নিলে সমস্যা হয় না। কিন্তু ভ্যান চালক, রিকশা, মিশুক এ সব থেকে টাকা নেওয়াটা আমরা ঠিক মনে করি না। চাষাড়া, দেওভোগ, আমলাপাড়া সহ সামনে যে সকল এলাকায় খুচরা দোকান আছে, তারা আমাদের থেকে প্রতি সপ্তাহে বা প্রতিদিন ২-৩ বস্তা চাউল, ১-২ বস্তা আটা-ময়দা নিয়ে যায়। তারা সেই বস্তাগুলো ক্রেতারা রিকশা, অটো রিকশা বা মিশুকে করে নিয়ে যায়। ভাড়াও ১০০-২০০টাকা ভাড়া মধ্যে করা হয়।


কিন্তু মন্ডলপাড়া পুলের সামনে যদি সিটি কর্পোরেশনের নামে এই সকল রিকশা চালকদের কাছে চাঁদা নেয়, সেটা মানা যায় না। আমরা ব্যবসায়ীরা চাই ভ্যান চালক, রিকশা চালক, মিশুক ও অটো চালকদের কাছে চাঁদা নেওয়া বন্ধ করা হউক। এর আগে ক্ষতিপূরণের ইজারাদার অনেকে ছিলো, কিন্তু তারা রিকশা ও অটো চালকদের কাছ থেকে কোন টাকা নেয় নাই। বর্তমানে এই ১ তারিখ থেকে সকল গাড়ি থেকে চাঁদা নিচ্ছে। আমরা নাসিক প্রশাসককে বলতে চাই গরীবদের কাছ থেকে যাতে চাঁদা না নেওয়া হয়।

 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন