Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

ওসমানদের ব্যবসা দেখছে বিএনপি, বিদেশে পাঠাচ্ছে টাকা : রফিউর রাব্বি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

ওসমানদের ব্যবসা দেখছে বিএনপি, বিদেশে পাঠাচ্ছে টাকা :  রফিউর রাব্বি

ওসমানদের ব্যবসা দেখছে বিএনপি, বিদেশে পাঠাচ্ছে টাকা : রফিউর রাব্বি

Swapno



নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিএনপির কতিপয় লোকেরা পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, বিএনপির লোকেরা এখন সেই টাকা বিদেশে ঘাতকদের পাঠাচ্ছে। ঘাতকরা টাকা দিয়ে দেশে স্বৈরাচারের পক্ষে মিছিল করাচ্ছে। ওসমান পরিবারের লুটপাটের, চাঁদাবাজির সকল ক্ষেত্র এখন বিএনপির দখলে। তারা দেদারসে পরিবহন, হাটবাজার, ঘাট, বিভিন্ন স্ট্যান্ডসহ সমস্তকিছু থেকে চাঁদা নিচ্ছে।


প্রশাসন-পুলিশ জানলেও কোন ব্যবস্থা নেই। অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ এমন হওয়া কথা ছিল না। আমরা এক দখলবাজকে হটিয়ে আরেক দখলবাজ চাই নি। আমরা ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছি, বৈষম্যের অবসান চেয়েছি, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা চেয়েছি। গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬০ মাস উপলক্ষে আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।


রফিউর রাব্বি বলেন, ওসমান পরিবারের বাণিজ্য কেন্দ্রগুলো, ব্যবসার প্রতিষ্ঠানগুলো বিএনপির লোকজন দেখাশোনা করছে এবং আমরা মনে করছি, এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে টাকা তারা এই ঘাতকদের বিদেশে পাঠাচ্ছে। সেই টাকায় এই খুনিরা, ঘাতকরা বেনাম দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর যেমন বিক্রি করে, পাশাপাশি আমরা মনে করতে বাধ্য হচ্ছি, এই যে বিচার বিলম্ব করা ক্ষেত্রে তাদের এই অর্থনৈতিক একটার জোগান রয়েছে।


যারা এই খুনি মাফিয়াদের ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছে, বিএনপির তাদের এখানে হাত রয়েছে কি না, আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি। কারণ এই পটপরবর্তী সময়ের মধ্যে এই ওসমান পরিবারের লুটপাটের যে সেক্টরগুলো, চাঁদার সেক্টরগুলো, এইগুলো সমস্ত এখন বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করছে।  পরিবহন থেকে শুরু করে হাট-বাজার, ঘাট সমস্ত কিছু তারা চাঁদা তুলছে। প্রতিদিন খবরের কাগজে আসছে, গোয়েন্দা সংস্থা কি জানে না।


বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলছে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করা হবে। নারায়ণগঞ্জে কারা কারা আছে, এটি প্রকাশ্যে, গোপন না, আপনারা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যদি না করেন, শেখ হাসিনার পরিনতি দেখেছেন, কি অবস্থা হয়েছে, সেটি আপনাদের জানা আছে। আপনারা দ্রুত এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।


তিনি বলেন, জুলাই মাসটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব এবং তাৎপর্যপূর্ণ। আজ থেকে দুই বছর আগে এই মাসটিতে, ৩৮জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছিলো। আমাদের নারায়ণগঞ্জে ৫-৭জন শিশু এর মধ্যে রয়েছে, ১৪শ থেকে ২হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। এই মাসটি একটি রক্তাত্ব মাস। সেই সময়ের সরকার এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ক্ষমতার মত্ত্বে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয় নাই। সেই সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের ৬৪টা জেলায় মাফিয়া, গডফাদার বাহিনী তৈরী করেছিলো।


রফিউর রাব্বি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার, এই গডফাদারদের উপর নির্ভর করে এই শেখ হাসিনা সরকার শেষ রক্ষা হবে বলে মনে করিছিল। ত্বকী হত্যার হত্যাকারী এই ওসমান পরিবার, জানার পরেও এই ওসমান পরিবারকে রক্ষা করার জন্য সংসদে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমি এই পরিবারের পাশে রয়েছি। এই জুলাই মাসের ১৯ তারিখে এই নারায়ণগঞ্জ ক্লাব থেকে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তার ছেলে, তার জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, তার এই মাফিয়া বাহিনীর লোকজন শুক্রবার তিনটা বাজে সশস্ত্রভাবে এই ২ নম্বর রেল গেইট এবং গুলশান হলের সামনে এসে গোলাগুলি করেছে। রিয়া গোপকে তারা হত্যা করেছে। চাষাড়ায় গিয়ে গোলাগুলি করেছে, এই ভিডিও ফোটেজ আমরা সবাই দেখেছি, গোয়েন্দা সংস্থার হাতে রয়েছে। তারা সবাই দেখেছে। এই হত্যাকারী খুনি বাহিনী, এখন দেশের বাহিরে রাজকীয় জীবন-যাপন করছে।


তিনি বলেন, আজকে ১৬০ মাস অতিবাহিত হয়েছে ত্বকী হত্যার, কিন্তু অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয় নাই। এই সময়ের মধ্যে সাড়ে এগারো বছর যেমন শেখ হাসিনা সরকারের, এর পরবর্তী সময়গুলো দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের এবং এই পাঁচ মাস হতে চলল এই যে বিএনপির সরকারের মেয়াদ। শেখ হাসিনা সরকার এটি ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে রেখেছিলো, তার খুনি বাহিনীকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু পরবর্তী এই মেয়াদে এই সরকার এই খুনি বাহিনীকে রক্ষার জন্য তৎপর ছিলো না, এটা আমরা বিশ্বাস করি, আশা করি। তাহলে কি কারণে এতো দিনেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ল না? এর কারণ কি কি? তারেক রহমান বললেন বিচার দ্রুত চাই, কিন্তু হাসিনা যাওয়ার দুই বছর হলেও কেন এই হত্যার বিচারের অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হলো না।


গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগার মিলনায়তন প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১৬০ মাস উপলক্ষ্যে আলোক প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।


এসময় র‌্যাবের উদ্দেশ্যে রফিউর রাব্বি বলেন, আপনারা যারা মনে করে থাকেন, যে ভাবে শেখ হাসিনার সময়ে এই অভিযোগপত্রটি আটকিয়ে রাখা গেছে, এই ভাবেই এটি আটকে থাকবে, এটি আর হবে না। আমরা এই হত্যার অভিযোগপত্র দ্রুত চাই। আমরা সাগর-রুমি হত্যার বিচার চাই, তনু হত্যার বিচার চাই, নারায়ণগঞ্জে আশিক, চঞ্চল, মিঠু, ভুলু সেই হত্যার বিচার চাই। আমরা ২৪’র এই গণঅভ্যুত্থানের নিরীহ এই শিশুদের এই ছাত্র-জনতার হত্যার বিচার চাই।


সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি সাংবাদিক হালিম আজাদ, যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাদারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, ন্যাপ জেলা সভাপতি এড. আওলাদ হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাসদের জেলা সংগঠক প্রদীপ সরকার প্রমুখ।


প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে কাজল হালদার জবারবন্দি দেয়। তারা জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।


৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে। কিন্তু সে অভিযোগপত্র আজো পেশ করা হয় নাই। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।


Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন