Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

না.গঞ্জ কেন এখনো ‘বি’ গ্রেডভুক্ত জেলা

Icon

গোলাম সারোয়ার সাঈদ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

না.গঞ্জ কেন এখনো ‘বি’ গ্রেডভুক্ত জেলা

না.গঞ্জ কেন এখনো ‘বি’ গ্রেডভুক্ত জেলা

Swapno



ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাজস্ব আয়ে অন্য অনেক জেলার চেয়ে এগিয়ে থাকলেও নারায়ণগঞ্জ এখনো জাতীয়ভাবে ‘বি’ গ্রেডের জেলা। প্রশাসনিকভাবে নারায়ণগঞ্জের এমন দুরবস্থা নিয়ে নারায়ণগঞ্জের অধিবাসী হিসেবে আমরা অনেকেই চরম বিব্রতবোধ করি, কিছুটা অসম্মানও হজম করতে হয়। কেন নারায়ণগঞ্জের প্রতি এমন অবহেলা, কেন এ বিষয়ে কেউ মনোযোগ দিচ্ছেন না, কেন কেউ সরকারের কাছে নারায়ণগঞ্জকে জেলা হিসেবে এ গ্রেডে উন্নীত করার কথা বলছেন নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।


কারণ বর্তমান বিএনপি সরকার দেশের সব এলাকার মানুষকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে এবং ইতিমধ্যে সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখন নারায়ণগঞ্জের প্রাপ্য মর্যাদা পাওয়ার আওয়াজ তুলতে হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলার নাগরিকদের জিডিপিতে যে অবদান তার বিপরীতে জনগণের প্রাপ্ত নাগরিক সুবিধার ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার হিসাব-নিকাশ নিয়েই মূলত এই দাবির আলোচনা।


প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) দেশের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন, তাদের সুযোগ-সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৬৪ জেলাকে “বিশেষ, এ, বি এবং সি”Ñএ চারটি গ্রেডে বিভক্ত করেছে। আজকের আলোচনা মূলত নারায়ণগঞ্জ জেলার “বি” গ্রেডে অবস্থান, প্রকৃতপক্ষে কোন গ্রেডে অবস্থান হওয়া উচিতÑতা নিয়ে।


সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, রাজস্ব এবং জনসংখ্যা সমন্বয়ে এই শ্রেণিবিন্যাস করে থাকে। এই শ্রেণিবিন্যাস সাধারণত সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। ২০২০ সালে জেলাগুলিকে বিভিন্ন গ্রেডে বিভক্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জেলায় অব¯ি’ত উপজেলা সংখ্যাকে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেছে।


উপজেলা সংখ্যা বিবেচনায় ৮-এর অধিক উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলাকে ‘এ’ গ্রেডে, ৫ থেকে ৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলাকে ‘বি’ গ্রেডে এবং পাঁচের কম সংখ্যক উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলাকে ‘সি’ গ্রেডে স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে এই তিনটি গ্রেডর বাইরেও রাষ্ট্রের কাছে সর্বো”চ বিবেচনায় প্রশাসনিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, ভৌগোলিক এবং কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় “স্পেশাল গ্রেড”নামে একটি গ্রেড নির্ধারণ করেছে।


২০২০ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে ‘বিশেষ’ গ্রেডে ছয়টি, ‘এ’ গ্রেডে ২৬টি জেলা, ২৭টি ‘বি’ গ্রেডে এবং ৫টি ‘সি’ গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে। জেলা এ, বি, সি বা বিশেষ গ্রেড হওয়ার অর্থ সরকারি প্রশাসন, জনবল, বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরকার গ্রেডের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। এতে জেলার প্রশাসনিক গুরুত্ব বাড়ে। নতুন দপ্তর বা শাখা খোলার ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার পায়।


জাতীয় ও আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণে গ্রেড বিবেচিত হয়। সড়ক, ড্রেনেজ, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক ভবন ইত্যাদি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে উচ্চ গ্রেডের জেলা তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব পায়। এখন প্রশ্ন হলো নারায়ণগঞ্জ জেলা কোন গ্রেডে দাবি রাখে। বাংলাদেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চলগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা একটি। হাজার হাজার গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যাল, খাদ্য, সিমেন্ট, ইলেকট্রনিক্স ও প্রকৌশল শিল্প এখানে অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার এই জেলায় অবস্থিত। ভ্যাট, আয়কর ও শিল্প উৎপাদনের মাধ্যমে সরকারের রাজস্বে বড় অবদান রাখে।


দেশের রপ্তানি আয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। রাজধানী সংলগ্ন কৌশলগত অবস্থান ঢাকা মহানগরের দক্ষিণের প্রবেশদ্বার। রাজধানীর শিল্প সম্প্রসারণের প্রধান এলাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক এই জেলার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশের প্রধানতম নদীবন্দর। উচ্চ জনসংখ্যা ও নগরায়ন, বিসিক, ইপিজেড এবং শিল্প জোন থাকায় বিশাল শিল্পশ্রমিক ও নগর জনসংখ্যার কারণে প্রশাসনিক চাপও বেশি।


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ পাঁচটি পৌরসভা এ জেলায় অবস্থিত। এসব সূচকগুলো বিবেচনা করে গাজীপুর জেলাকে স্পেশাল গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যে সুযোগগুলিতে সূচকগুলোতে আমরা এগিয়ে আছি। তাই নারায়ণগঞ্জ জেলাকে স্পেশাল গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। সময় এসেছে নারায়ণগঞ্জবাসীর ন্যায্য হিস্যা আদায় করার। সবাইকে এই অধিকার আদায়ে যার যার অবস্থান থেকে আওয়াজ তুলতে হবে। লেখক, নারায়ণগঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম-এর সভাপতি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন