নগরবাসীর অন্যতম বিষফোঁড়া হিসেবে পরিচিত হকার সমস্যার সমাধান নিয়ে ফের জনমনে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে পুনর্বাসন ছাড়া ফুটপাত ছাড়বে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন হকাররা। এদিকে মূল মূল সড়ক নগরীর বিবি রোড, শায়েস্তা খাঁ রোড, চেম্বার রোডের ফুটপাত দখল করে হকারদের দুর্বিষহ যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শহরের দুই নম্বর গেইট থেকে চাষাঢ়া মহিলা কলেজ পর্যন্ত রেললাইনের এক পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ীভাবে হকারদের স্থানান্তর করার জন্য ময়লা পরিষ্কার, ইটের সলিংসহ বাঁশের বেড়া দেওয়া হলে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগে রেলওয়ের এক পাশে হকার স্থানান্তরের জন্য স্থাপিত মালামাল ৭ দিনের মধ্যে উচ্ছেদ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। যা নিয়ে ফুটপাত ছেড়ে পুনবার্সনের রাস্তা বন্ধ প্রায়। তা ছাড়া গত (১৩ এপ্রিল) হকার উচ্ছেদের দিন নাসিক প্রশাসক বলেছিলেন মিশনপাড়ার হর্কাস মার্কেট ভেঙে বড় খালি জায়গা করে এখানে শহরের হকারদের পুনর্বাসন করা হবে শেষ পর্যন্ত সেটা অলৌকিক কারণে উদ্যোগটি বাধাগ্রস্থ হলো। বর্তমানে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজকে ঘিরে রেললাইনের পাশের পুনবার্সন ও তলানিতে প্রায়। বর্তমানে হকার পুনর্বাসনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এদিকে নগরবাসীর মনে প্রশ্ন উঠছে রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সিটি কর্পোরেশন এতো বড় সিদ্ধান্ত কিভাবে নিলো। আর আলোচনা করে থাকলে কেন কাজের মাঝ পথে এসে সব গুটিয়ে নিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিল রেলওয়ে কর্মকর্তারা। তা ছাড়া শেষ পর্যন্ত এখানে হকার পুনর্বাসন করতে ব্যর্থ হলে সিটি কর্পোরেশনের খরচ করা কয়েক লাখ টাকা কার পকেট থেকে আদায় করা হবে, এমন প্রশ্ন জনমনে উঠছে। বর্তমানে ফের সেই পুরনো চোঁর-পুলিশ খেলা চলমান রয়েছে।
হকার পুনর্বাসনের বিষয়ে নগরবাসী জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে সব থেকে বড় সমস্যা হকার সমস্যা এটা যদি এই রেললাইনের এক পাশে বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। তাহলে হকাররা তাদের জীবন নির্বিকা সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারবে। নারায়ণগঞ্জবাসী তাদের ফুটপাত ফিরে পাবে। বর্তমানে কাজ প্রায় শেষের দিকে এমতা অবস্থায় এই কার্যক্রম বন্ধ করা রেলওয়ের ঠিক হবে না। তা ছাড়া বাংলাদেশের এটা একটা নিয়ম যে প্রথমে কোন বাধা বা কিছু না আসলে ও যথন কাজ অর্ধেক হবে তখন বাধা দিবে। আর এখানে যে হকার পুনর্বাসনের কাজ চলমান এটা রেলওয়ে জানে কিন্তু ওই সময় কিছুই বলে নাই। এখন কাজ শেষের পথে এখন বাধা প্রদান করছেন। এখন নগরবাসীর দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত আসে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের এস্টেট বিভাগের ফিল্ড কানুনগো জিয়াউল হক জিয়া যুগের চিন্তাকে বলেছিলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। যাকে ঘিরে আমরা জানতে পারলাম ২নং রেলগেইট থেকে চাষাড়া পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন রেলওয়ের এক পাশে হকার পুর্নবাসনের জন্য কাজ করছে। সরেজমিনে এসে ও ঠিক দেখতে পেলাম ইটের সলিং, বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে রেলওয়ের এক পাশে আমরা আগামী ৭ দিনের মধ্যে এগুলো সরানোর নির্দেশ দিয়ে আসি। তা ছাড়া ৭ দিন পর আবারো এখানে এসে উচ্ছেদ হয়েছে কিনা তার পরিদর্শন করবো।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায় , ২০১৭ সালে ৩৭৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুর পরিকল্পনায় ছিল পাঁচটি নতুন স্টেশন ভবন ও প্ল্যাটফর্ম, একটি অফিস কাম স্টেশন ভবন, ১১টি ব্রিজ ও কালভার্ট, চারটি পথচারী সেতু, সীমানা প্রাচীর এবং দুটি ওয়াশপিট নির্মাণ। প্রকল্প অনুমোদনের সময় ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়।
কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর তৃতীয় দফায় ২০২১ সালের জুন এবং চতুর্থ দফায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। দীর্ঘ ৮ বছরেও এসব স্থাপনার একটিও পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ চায়না পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না কাজ অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্প ত্যাগ করে। সেই সময় পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ।